<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><?xml-stylesheet type="text/xsl" href="https://uponnas.com/wp-content/themes/uponnas/assets/feed.xsl?ver=1.5.7"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ভ্রমণ কাহিনি &#8211; উপন্যাস</title>
	<atom:link href="https://uponnas.com/category/bhromon-kahini/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://uponnas.com</link>
	<description>শব্দে গাঁথা স্মৃতির বিশ্ব</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 16:57:03 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://uponnas.com/wp-content/uploads/2026/04/cropped-Uponnas-logo-1-150x150.png</url>
	<title>ভ্রমণ কাহিনি &#8211; উপন্যাস</title>
	<link>https://uponnas.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বোটানি-৬৫ শিক্ষাসফর ২০২২ (পর্ব ২): সাজেকের ভোর থেকে আলুটিলার আঁধারে</title>
		<link>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3966</guid>

					<description><![CDATA[সাজেকের সূর্যোদয়, লুসাই গ্রাম, জুম্মার নামাজের জন্য দৌড়, রিসাং ঝরনার খাড়া সিঁড়ি আর আলুটিলা গুহার ঘুটঘুটে অন্ধকার, সবই রাঙামাটি যাওয়ার পথে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">এই শান্তির ঘুম ভাঙল একেবারে পরদিন সকালে। চন্দন স্যার বলে দিয়েছিলেন, সূর্যোদয় দেখতে চাইলে সকাল ৬টার মধ্যে হেলিপ্যাডে থাকতে হবে, দেরি করলে আর দেখা যাবে না, সূর্য কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কথামতো সকালে সবাই হেলিপ্যাডে হাজির। অনেক দিন পর এমন সূর্যোদয় দেখলাম। সূর্য যে এত দ্রুত ওঠে, সেটাও উপভোগ করার মতো, দেখতে দেখতে তার আলো চারদিক আলোকিত করে ছড়িয়ে পড়ল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">লুসাই গ্রাম আর মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো প্যাঁচানো পথ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে আরও কিছুক্ষণ থেকে পাশের লুসাই গ্রাম দেখতে গেলাম। অল্প জায়গার মধ্যে খুব সুন্দরভাবে তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন সেখানে। অনেকে তাঁদের পোশাক পরে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর আবুল কাশেম স্যার আর মিহির লাল সাহা স্যার এলেন। মিহির স্যার লুসাই গ্রাম আর জাপানি সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ একটা আলোচনা করলেন, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। ওখানে যে লাইকেনের একটা প্রতিপত্তি আছে, সেটাও স্যারই প্রথম আমাদের দেখালেন। তারপর চারদিক ঘুরে দেখে সকালের নাশতার জন্য আবার রিসোর্টের দিকে রওনা দিলাম। হেঁটে ফেরার পথে কিছু সাইকাস (<em>Cycas</em>) গাছ চোখে পড়ল। নাশতা সেরে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে দার্জিলিং রিসোর্টকে বিদায় জানিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম নতুন কিছু দেখার উদ্দেশে। এবারের গন্তব্য খাগড়াছড়ি শহর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাহাড়ের ঢেউয়ের সঙ্গে ঢেউ মিলিয়ে দোল খেতে খেতে চলছে চান্দের গাড়ি। গত দিনের চেয়ে আজকের পথটা যেন আরও বেশি উপভোগ করছি। সাজেকের রাস্তার একটা বিশেষ গুণ হলো, আমরা কোথায় যাব সেটা বহুদূর থেকে দেখা যায়, এমনকি বেশ কাছেও মনে হয়, কিন্তু রাস্তাটা মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো প্যাঁচানো। গাড়ি ডানে যায়, বামে যায়, ঘুরে যায়, তারপর বোঝা যায় অনেকটা পথ পেরিয়েও আগের জায়গা থেকে সামান্যই এগিয়েছি। এভাবে একটু একটু করে সাজেককে পেছনে ফেলে খাগড়াছড়ির দিকে এগিয়ে চললাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে যেতে গত দিনের মতো আজও বাচ্চাগুলো টাটা দিচ্ছিল। হঠাৎ সামনের গাড়ি থেকে এক ভদ্রলোক বাচ্চাগুলোর দিকে একটা ১০ টাকার নোট ছুড়ে দিলেন। সেই নোটের পেছনে বাচ্চাগুলোর দৌড়ে যাওয়া দেখে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনি &#8220;পালামৌ&#8221;-এর সেই ঘটনাটা মনে পড়ে গেল, নদী পার হওয়ার সময় বাচ্চাদের টাকা দেওয়ার ঘটনা। খুব সুন্দর একটা কাহিনি ছিল সেটা। তবে এখানে বাচ্চাগুলো চারদিকে না তাকিয়ে যেভাবে টাকার পেছনে ছুটছিল, যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতেই খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে গেলাম। সেখানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানিসহ নানা দলের পতাকা দেখে কিছুটা অবাকই হলাম, খেলার ছোঁয়া তাহলে পুরো দেশ জুড়েই লেগেছে। সেদিন রাতে ছিল ব্রাজিলের খেলা, যার রেশ মাঝে মাঝে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব দেখতে দেখতে গত দিনের সেই হোটেল ইকোছড়ি ইনে পৌঁছে গেলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">জুম্মার দৌড় আর রিসাং ঝরনার সিঁড়ি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সেদিন ছিল শুক্রবার। গাড়ি থেকে নেমেই আমরা কয়েকজন জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদের দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু দেড়টা বেজে যাওয়ায় মাঝরাস্তায় আমাদের মধ্যে দুই দল হয়ে গেল। এক দল বলে, সময় তো শেষ, ফিরে যাই, গোসল করে ফ্রেশ হয়ে না হয় নামাজটা পড়ব। আরেক দল বলে, প্রায় চলেই তো এসেছি, নামাজটা পড়েই যাই। কী করলে ভালো হয় ভাবতে ভাবতেই মসজিদের সামনে হাজির। সময় পেরিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু খুতবা চলছে, তার মানে এখনো আশার আলো আছে। তাড়াহুড়ো করে অজু করে নামাজে যুক্ত হতে পেরেছিলাম। আশাবাদী হতে হবে আর শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে, সেদিন এই দুটো শিক্ষা পেলাম। পরে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। এই হোটেলের রান্না সত্যিই চমৎকার। তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে একটু বিশ্রাম, তারপর আবার রওনা, এবার খাগড়াছড়ির বিখ্যাত রিসাং ঝরনা দেখতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই পাইলটের চান্দের গাড়ির ছাদে বসে চারদিক দেখতে দেখতে চললাম। মজার বিষয়, আমাদের গাড়ির ১২ জনের ১০ জনই ছাদে, ভেতরটা ফাঁকা বললেই চলে। অবশ্য ফেরার সময় রাত হয়ে গিয়েছিল বলে সবাই নিচেই বসে এসেছিলাম। চান্দের গাড়ি আমাদের রিসাং ঝরনার ওপরের একটা জায়গায় নামিয়ে দিল। আমরা দল বেঁধে একে একে নিচে নামা শুরু করলাম। নামার এই রাস্তাটা ভীষণ ঢালু, দেখতে বেশ ভয়ংকর, তাই অনেকেই আর নামল না, ওপরেই থেকে গেল। পাহাড়ের গা ঘেঁষে খাঁজকাটা কংক্রিটের পথ, সেটাও অনেক ঢালু, দেখলেই বোঝা যায় ঝরনাটা অনেক নিচে। ধীরেসুস্থে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে পাহাড়ের গায়ে চোখ পড়ল। একটু ভালোভাবে তাকালে সেখানে ফার্ন আর সেলাজিনেলার (<em>Selaginella</em>) আস্তরণ বোঝা যায়। সেগুলো দেখতে দেখতে একদম নিচে ঝরনার কাছে পৌঁছে গেলাম। হোটেল থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়েছিল বলে ঝরনার কাছে যেতেই সূর্যের আলো কমে এল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্যার ম্যামরা ফেরার জন্য সবাইকে তাগাদা দেওয়া শুরু করলেন। সমস্যা তো এটাই, যত আরামে নেমেছিলাম, তত কষ্ট করে এবার উঠতে হবে। আমি দেরিতে নেমেছিলাম, ছিলাম সবার পেছনে, তাই দৌড়ে সবার সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলাম, আর সেটা ছিল আরেক বোকামি। অল্প দৌড়েই হাঁপিয়ে উঠলাম, বাকি পথ কোনোরকমে একটু একটু করে উঠে এলাম। সেখানে বাইকের ব্যবস্থা ছিল, কিছু টাকার বিনিময়ে সোজা ওপরে উঠে আসা যায়, কিন্তু কেউই সেই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ছিল না। সবাই হেঁটেই ওপরে উঠলাম। ওপরে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমরা নির্মাণাধীন রেঞ্জ অফিসে গেলাম। প্রধান কর্মকর্তা আমাদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেরই একজন বড় ভাই। সেদিন ছিল ২ ডিসেম্বর, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি, তাই সেখানে একটা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়েছিল। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাদের সময় দিয়েছেন, এটা সত্যিই আনন্দের।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আবার হোটেলে ফিরে এলাম। তবে চান্দের গাড়িতে এটাই ছিল আমাদের শেষ যাত্রা। সুকাশ দাদার সঙ্গে ছবি তুলে তাঁকে বিদায় জানালাম। দুই দিন ধরে তাঁর গল্প বলে গেলাম, কিন্তু পাইলটের নামটা মনে হয় এই প্রথম বললাম। কাল থেকে আবার বাসে যাত্রা, চান্দের গাড়ি আর পাব না, এই কথাটা কেমন যেন মনের মাঝে আটকে গেল। কিন্তু সবই নিয়তি, মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ইকোছড়ির শেষ রাত</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যে যার রুমে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবারের জন্য তৈরি, ডাক পড়তেই হোটেলের চারতলায় সবাই হাজির। এই হোটেলের খাবার সত্যিই দারুণ। মজা করে খেয়ে হালকা বিশ্রাম নিয়ে কেউ রুমে চলে গেল, কেউ হোটেলের নিচে গল্প করতে, আর কেউ সেখানেই বসে আরও কিছুটা সময় কাটাল। কয়েকজনের একটা দল হোটেলের আশপাশে হাঁটতে বেরোল, তাদের পিছু পিছু আমিও গেলাম। খুব সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ, কোথাও তেমন কেউ নেই, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক স্পষ্ট শোনা যায়। কিছুটা পথ যেতেই একটা টঙের মতো দোকান, সেখানে আমাদের আগেই আরেকটা দল এসে বসেছে। আমরা তাদের চায়ের আড্ডায় যোগ দিলাম, বেশ ভালো লাগছিল। এই উপভোগ্য পরিবেশ ছেড়ে পরে সবাই হোটেলে ফিরে এলাম। স্যার ম্যাম আর বাকি সবাই হোটেলের নিচে অপেক্ষা করছিলেন। এই সফরে আমরা কী শিখলাম, কী দেখলাম, এই নিয়ে সেখানে ছোটখাটো একটা ক্লাস হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ক্লাস শেষে যে যার রুমে। ভাবলাম শান্তির ঘুম হবে, কিন্তু রুমের টিভিটার দিকে নজর যেতেই সেই চিন্তা উবে গেল। আমি খেলাপ্রিয়, কিন্তু যাদের সঙ্গে ছিলাম তারা কট্টর খেলাপন্থী। সেদিন ব্রাজিলের খেলা রাত ১টায়, তারা যেকোনো মূল্যে খেলা দেখবেই। কিন্তু কেন যেন টিভিটা কাজ করছিল না, তাদের জন্য দুঃখ হলেও নিজের জন্য কিছুটা শান্তি পেলাম। ভাবছিলাম তারা হয়তো পাশের রুমে খেলা দেখতে চলে যাবে, কিন্তু ওরা আর্জেন্টিনার ভক্ত, তাই সেটা আর হয়নি। মোবাইলে মাঝে মাঝে স্কোর দেখে নিচ্ছিল। ততক্ষণে আমি ঘুমের জগতে হাবুডুবু খেতে শুরু করেছি, আর এই জগতের বাসিন্দা হিসেবে টিকে থাকতে পারলাম না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সকালে ঘুম ভাঙতেই রাসিফ বলল, ভাই, রাত জেগে খেলা না দেখে ভালোই হয়েছে, ব্রাজিল হেরেছে। পাশে থাকা রাকিবও বলে বসল, হ্যাঁ ভাই, ভালো হয়েছে, খেলা তেমন জমেনি। বাহ, সকালে মানুষ পাখির ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠে, সুপ্রভাত শোনে, আর আমি শুনি খেলার খবর, ভালোই। তাহলে আজ আমাদের একটা দল নীরবতা পালন করবে। বাস্তবে হলোও তা-ই। নাশতার ডাক পড়লে সবাই দলে দলে চারতলায় উঠে এলাম। তাদের কাছে যেতেই বোঝা যাচ্ছিল, তারা কিছুটা নিশ্চুপ, কিছুই বলছে না। তবে খেতে খেতে একপর্যায়ে কেউ একজন খেলা নিয়ে কিছু বলে উঠতেই সবার মাঝে কথা শুরু হলো, ধীরে ধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হলো। আজকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলো। নাশতা শেষে ব্যাগ-বস্তা গুছিয়ে পছন্দের হোটেল ইকোছড়ি ইনকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় জানালাম। মিহির স্যার দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা বললেন, তারপর সবাই মিলে স্মৃতি হিসেবে একটা গ্রুপ ছবি তুলে আমাদের জন্য অপেক্ষারত বাসের দিকে হাঁটা শুরু করলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">হর্টিকালচার পার্কের নাটা থেকে আলুটিলার অন্ধকারে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আজকের শেষ গন্তব্য রাঙামাটি, তবে পথে হর্টিকালচার পার্ক আর আলুটিলা গুহা দেখে রাতে রাঙামাটিতে থাকব। বাসে হইহুল্লোড় করতে করতে খুব দ্রুতই হর্টিকালচার পার্কে পৌঁছে গেলাম। সকাল সকাল বলে গুটিকয়েক ছাড়া আর কোনো পর্যটক ছিল না; বেশি দেরি হলে ভিড়ে টেকা যেত না। আমরা খুব আরামে চারদিক ঘুরে দেখার সুযোগ পেলাম। ঝুলন্ত ব্রিজ পার হয়ে ভেতরে যেতেই পরিবেশটা যেন পাল্টে গেল, কী নিরিবিলি আর শান্ত। চেনা-পরিচিত গাছপালার পাশাপাশি বেশ কিছু দুর্লভ গাছের দেখা পেলাম। সাজেকের মতো এখানেও ফার্ন আর লাইকেনের জোরালো উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। এ ছাড়া রাস্তার দুই ধারে সাজসজ্জার জন্য চোখ জুড়ানো বেশ কিছু ফুলের গাছও লাগানো। ধীরে ধীরে সামনে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি আবার সেই ঝুলন্ত ব্রিজের সামনে। জায়গাটা এমনভাবে সাজানো যে দুটো পথের একটা দিয়ে গেলে আরেকটা দিয়ে ফিরে আসা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আশপাশে আরও কিছুক্ষণ ঘুরে আবার রওনা দিলাম। ফেরার পথে রাস্তার ধারে নাটা গাছের ফলের দেখা পেলাম। এই নাটা গাছের ফুল দেখেছিলাম সাজেকের দার্জিলিং রিসোর্টের পাশে, এতক্ষণে যেন গাছটার পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালীর কিশোর সংস্করণ &#8220;আম আঁটির ভেঁপু&#8221;-তে নাটা ফলের বীজ নিয়ে খেলার কথা। এই নাটা সেই নাটা কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়লাম। পরিপক্ব বীজ পাওয়া যায় কি না চারদিকে একটু খুঁজে দেখলাম, কিন্তু চোখেও পড়ল না, সময়ও জুটল না। তাই আবার দেখা হবে, এই আশা রেখে বাসে গিয়ে বসে পড়লাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার যাব আলুটিলা গুহায়। সবাই এই গুহায় যাওয়ার জন্য এত আগ্রহী যে তাদের উচ্ছ্বাস গানের তালে তালে বোঝা যাচ্ছিল। গান আর প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে গুহার সামনে এসে হাজির হলাম, বুঝতেই পারলাম না। বাস থেকে নেমেই গুহার দিকে হাঁটা শুরু। পাহাড়ের গা কেটে মনোরম রাস্তা, তার পাশে গাছপালার সাজানো সারি, সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে ভালোই লাগছিল। রাস্তার মাঝের বটগাছটা ছিল একেবারে নজরকাড়া, তার ঝুরিগুলো এত সুন্দরভাবে ঝুলে ছিল যে দেখেই মন পুলকিত হয়ে উঠল। তবে সময়ের অভাবে স্যার আগেই বলে দিয়েছিলেন কোথাও যেন না থামি, তাই একদম গুহার মুখের সামনে গিয়ে হাজির হলাম। সেখানে গিয়ে হঠাৎ মাটির দিকে নজর গেল। এমন সুন্দর কারুকার্যময় মাটি আগে কখনো দেখিনি, যেন কেউ রংতুলি দিয়ে মনের মতো করে ছবি এঁকে রেখেছে। সবাই একে একে গুহায় ঢুকছে, এবার ভেতরে যাওয়ার পালা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি ভেবেছিলাম পাহাড়ের মাঝে ফাটল হলে যেমন হয়, সামনে ঠিক তেমনই কিছু হবে। কিন্তু একটু একটু করে ভেতরে যেতে শুরু করতেই আমার ধারণা একেবারে পাল্টে গেল। যতই ভেতরে যাই, গুহার মুখ ততই ছোট হতে থাকে আর আলো কমতে থাকে। একপর্যায়ে দেখি ভেতরে রীতিমতো অন্ধকার, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়েও তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। পায়ের নিচ দিয়ে বয়ে চলা পানির ধারা এই অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছিল, মনে কেমন একটা গা-ছমছমে শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল। আরও কিছুটা পথ যেতেই আশার আলো দেখতে পেলাম। সেই আলো দেখে কী যে খুশি লাগছিল, বলে বোঝানো যাবে না। দ্রুত গুহা থেকে বেরিয়ে এলাম, তখন একেবারে অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল। পেছনে থাকা সবাই একে একে বেরোল। তবে সবার শেষে মিহির স্যারকে গুহার মুখ থেকে বেরোতে দেখে অবাক হলাম। তিনি প্রথমে বলেছিলেন গুহায় যাবেন না, কিন্তু নতুনকে জানার প্রতি তাঁর যে তুমুল আগ্রহ, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। জীবনে কিছু করতে চাইলে এমন মনোবল থাকা দরকার। তারপর সবাই ওপরে উঠতে শুরু করলাম। মাঝে আরও কিছু দর্শনীয় জায়গা ছিল, নির্মাণাধীন হলেও দেখতে ভালো লাগছিল। আরও কিছুটা সময় থাকতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু আমরা সময়ের হাতে জিম্মি। সবাইকে ডেকে ডেকে বাসে তুলে এবার রওনা হলাম রাঙামাটির দিকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রাঙা মাটির পথে রাঙামাটি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুটা পথ যেতেই পথের চেহারা একেবারে বদলে গেল। এতক্ষণ দুই ধারে পাহাড়, ঢাল আর সেগুনগাছ দেখছিলাম, এখন সেসব আর চোখে পড়ে না। এখন শুধু পানি আর পানি। চারদিক নদী আর ছড়ায় ভরা, আর সেই পানিতে সূর্যের আলোর ঝলমলানি মন ভুলিয়ে দিচ্ছিল। এমন সময় মনে পড়ে গেল রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গান, &#8220;গ্রাম-ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ&#8221;। সত্যিই মুগ্ধ চোখে সব যেন আনন্দ দিয়ে যাচ্ছিল। তবে কিছুটা পথ পরপরই বিজিবি ক্যাম্প এলে বাস থেমে যাচ্ছিল, এটা বেশ বিরক্ত লাগছিল। বিরক্ত লাগলেও কিছু করার ছিল না, কারণ এসব ছিল আমাদের নিরাপত্তার জন্যই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিকেলে আমরা রাঙামাটি শহরে পৌঁছে গেলাম। হালকা ফ্রেশ হয়ে, দুপুরের খাবার খেয়ে বাজারের দিকে গেলাম বাসার জন্য কেনাকাটা করতে। দাম তুলনামূলক সাধ্যের মধ্যে ছিল বলে অনেকেই অনেক কিছু কিনল। কেউ নিজের বা ভাইয়ের জন্য ফতুয়া, কেউ পরিবারের জন্য শাল, কেউ জামা, তো কেউ মন ভরে আচার আর চকলেট। একপর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিল, স্যার ম্যাম বাসে ওঠার তাগাদা না দিলে সবাই মিলে দোকানের সব মালামালই কিনে ফেলত। কেনাকাটা শেষে ধীরেসুস্থে আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পৌঁছে গেলাম। এখানেই আজ রাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা। জায়গাটা মূলত সরকারি একটা আশ্রয়স্থল, যাঁরা বিভিন্ন সংগীত বা নাচ পরিচালনা করেন, অনুশীলন করেন আর নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাঁরা এখানে রাতে বিশ্রাম নেন। চন্দন স্যার আমাদের রুম দেখিয়ে দিলেন, আমরা যে যার মতো ফ্রেশ হয়ে কিছুটা সময় জিরিয়ে নিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের খাবারের ব্যবস্থা হলো দোতলায়, তবে এই খাবার হোটেল থেকে প্যাকেটে করে আনা হলো, আমাদের হোটেল পর্যন্ত যাওয়ার খাটুনি কমল। খাবার প্রতিবারের মতো এবারও দারুণ সুস্বাদু, কিন্তু ঝালের পরিমাণও প্রতিবারের মতো তুলনামূলক বেশি। এই অতিরিক্ত ঝালের জন্য অনেক খাবার বাড়তি থেকে গেল, কিছু নষ্টও হলো। সবকিছুর সুবিধা-অসুবিধা দুই দিকই আছে। অবশ্য খাবার শেষে দই আর মিষ্টির ব্যবস্থা ছিল, সুবর্ণা ম্যাম সবাইকে এই দই-মিষ্টি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খাওয়ার পর্ব শেষ হলে সবাই ওপরের রুমে এসে হাজির। আজ রাতের বিশেষ আয়োজন লটারি। রাঙামাটিতে আসার পর থেকেই তৌফিকা আপু আর নাসিহা লটারির টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, এবার সেই অনুষ্ঠান। লটারিতে ১৮টা পুরস্কার, আর আমরা স্যার ম্যামসহ ৪৪ জন। একে একে নম্বর বলা শুরু হলো, আর যে-ই পুরস্কার পায় সে-ই অভিনেতা জসীমের মতো আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে প্রথম পুরস্কারটা পেল হাসিবুর, আর তাতেই লটারির অনুষ্ঠান শেষ। এরপর ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সবাই শুরু করল আর্জেন্টিনার খেলা দেখার প্রস্তুতি। খেলা শেষে যে যার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। কাপ্তাই হ্রদের গল্প থাকছে পরের পর্বে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বোটানি-৬৫ শিক্ষাসফর ২০২২ (পর্ব ১): কার্জন হল থেকে মেঘের দেশ সাজেকে</title>
		<link>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3962</guid>

					<description><![CDATA[করোনায় দুবার বাতিলের পর অবশেষে শিক্ষাসফর শুরু হলো: বাসে বিশ্বকাপের রাত, পাহাড়ি পথে চান্দের গাড়ির দুরন্ত দৌড়, আর সাজেকের মেঘের মাঝে প্রথম দিন।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">তখন রাত ৮টা। কথামতো কার্জন হলের সামনে প্রায় সবাই হাজির। সবার চোখেমুখে শিক্ষাসফরে যাওয়ার একটা উচ্ছ্বাস ফুটে উঠছিল, আর সেটাই স্বাভাবিক। করোনার জন্য পরপর দুবার আমাদের শিক্ষাসফর বাতিল হয়েছিল, তৃতীয়বারে এসে অবশেষে পরিকল্পনাটা সফল হতে যাচ্ছে। সবাই এসে পৌঁছালে শ্রদ্ধেয় স্যার ম্যামরা সংক্ষেপে কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন, তারপর একটা গ্রুপ ছবি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা ৩৯ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক (মিহির স্যার, তাহমিনা ম্যাম, চন্দন স্যার ও আবুল কাশেম স্যার) আর ১ জন স্টাফ (সাইফুল ভাই), মোট ৪৪ জনের দল রওনা দিলাম প্রথম গন্তব্য সাজেকের উদ্দেশে। আমাদের শিক্ষাসফরের প্রধান জায়গা ছিল তিনটা: সাজেক, খাগড়াছড়ি আর রাঙামাটি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেন্টমার্টিন থেকে সাজেক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তবে শুরু থেকেই যে আমরা এই জায়গাগুলোতে যেতে চেয়েছিলাম, এমন নয়। প্রথম পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হয়তো আমরা সেন্টমার্টিন আর কক্সবাজারের পথে রওনা দিতাম। কিন্তু সেন্টমার্টিনে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়নি। তাহলে কোথায় যাওয়া যায়, এই নিয়ে স্যারদের সঙ্গে অনেক আলোচনা হলো। প্রথমে সুন্দরবনের কথা উঠল। আমি মনে মনে রাজি ছিলাম, কারণ সুন্দরবনের পরিবেশ অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা। কিন্তু সেখানে গেলে পুরোটা সময় লঞ্চে থাকতে হতো, কষ্টটা একটু বেশিই হতো, তাই সেই পরিকল্পনাও বাতিল হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিহির স্যার আলোচনায় যারা ছিল সবাইকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আর কোথায় যাওয়া যায়। আমাদের একজন বলে উঠল, সাজেক। সবাই রাজি হয়ে গেল, আর সাজেকের সঙ্গে যুক্ত হলো খাগড়াছড়ি আর রাঙামাটি। সব মিলিয়ে চার দিনের এই শিক্ষাসফরের একটা খসড়া তৈরি হয়ে গেল। আজ সেই খসড়ার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের শুরু।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাসে রাত ১টার বিশ্বকাপ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">দেখতে দেখতে ইট-পাথরের উঁচু উঁচু দালানকোঠা পেরিয়ে আমরা ঢাকা শহরের বাইরে চলে এলাম। বাসের ভেতরে যারা গানবাজনায় মেতে ছিল, একসময় তারাও নিজ নিজ সিটে বসে পড়ল। চারদিক নীরব, সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, কেবল বাসটা আপন মনে চলছে। কিছুটা পথ পেরিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতি হলো। ফ্রেশ হয়ে, চা খেয়ে আবার বাসে উঠলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভেবেছিলাম বাকি পথটা হয়তো নীরবেই কাটবে, কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপের কথা মাথায় ছিল না। রাত ১টা বাজতেই পুরো বাস দুই দলে ভাগ হয়ে গেল, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা, আর মেয়েরাও সমান তালে তাতে যোগ দিল। সাউন্ড বক্সে খেলার ধারাভাষ্য চলছে, বাকি সবাই নিজ নিজ মোবাইলে খেলা দেখছে। কিন্তু নেটওয়ার্কের সমস্যায় খেলা ভালোমতো দেখা যাচ্ছিল না, সবার মন একটু খারাপ। একপর্যায়ে নেটওয়ার্ক একেবারেই নেই, কোনো আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ একজন চিৎকার করে বলল, আর্জেন্টিনা গোল দিয়েছে। ব্যস, পুরো বাস আর্জেন্টিনার স্লোগানে মুখরিত। রাত ৩টার পর খেলা শেষ হলে বাস আবার ধীরে ধীরে নীরব হয়ে এল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এই নীরবতা ক্ষণস্থায়ী। সকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ আমরা মাটিরাঙ্গায় পৌঁছে গেলাম। এখান থেকে সব যানবাহন একসঙ্গে খাগড়াছড়িতে ঢুকবে, গাড়ি ছাড়তে কিছুটা দেরি আছে। বাস থেকে নেমে আশপাশটা একটু ঘুরে দেখলাম, তবে সূর্য ওঠেনি বলে দেখার সুযোগ তেমন হয়নি। একটা টঙের দোকানে বসে সবাই চা খেলাম। চা খেতে খেতে চন্দন স্যার, আবুল কাশেম স্যার আর সুবর্ণা ম্যাম আমাদের সঙ্গে যেভাবে বন্ধুর মতো কথা বললেন, সেটা সত্যিই কল্পনার বাইরে। মনে হচ্ছিল বড় ভাই, বড় বোন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন, আর আমরা শুনছি কীভাবে কী করা যায়। শিক্ষাসফরের এই একটা জিনিস আমার খুব ভালো লাগে, সবাইকে অনেক কাছ থেকে দেখা যায়, অনেক কাছে পাওয়া যায়। মনে মনে এমন সময় আরেকটু বেশি চেয়েছিলাম, কিন্তু সুখ সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী। গাড়ি চলাচল শুরু হতেই সবাইকে বাসে উঠে পড়তে হলো। তবে স্মৃতির পাতায় এমন ঘটনার লেখা কেবল শুরু, পুরো শিক্ষাসফরটাই তখনো বাকি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ইকোছড়ি ইন আর চান্দের গাড়ি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ধীরে ধীরে আমরা খাগড়াছড়িতে ঢুকলাম। সাজেকে যেতে হয় মূলত খাগড়াছড়ি হয়েই। পূর্ব আকাশে সূর্য উঠছে, আঁকাবাঁকা রাস্তা, তার ধার ঘেঁষে উঁচু-নিচু পাহাড় আর ছোট-বড় গাছপালা এখন হালকা চোখে পড়ছে। জানালার ধারে বসে এসব দেখতে দেখতে খাগড়াছড়ি বাজারের ভেতর দিয়ে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ একটা হোটেলে এসে পৌঁছালাম, হোটেল ইকোছড়ি ইন। আমার কাছে এই হোটেলটাই একটা দর্শনীয় জায়গা মনে হলো। নীল কাচে ঢাকা সুন্দর একটা হোটেল, চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা, নিচে তাকালে ধান আর আখের খেত। হোটেলের সামনের রং-বেরঙের ফুলগুলো দেখে মন জুড়িয়ে যায়: গেটের ওপরে মধুমঞ্জরী (<em>Combretum indicum</em>), ভেতরে হলুদ কাগজফুল, লাল ছোপ ছোপ কাঁটামুকুট (<em>Euphorbia milii</em>) আর থোকায় থোকায় ফুটে থাকা রসুন লতা (<em>Mansoa alliacea</em>)। ছবিপ্রিয়দের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফ্রেশ হয়ে সকালের নাশতা সেরে আবার রওনা দিলাম, তবে এবার আর বাসে নয়, সাজেকের বাহন চান্দের গাড়িতে। ৪টা চান্দের গাড়িতে ৪ জন শিক্ষক আর আমরা মিলেমিশে উঠে পড়লাম। ওঠার আগে জানলাম, সাজেক থেকে ফেরার পথে আবার এই হোটেলেই উঠব। এমন সুন্দর একটা হোটেলে আবার থাকতে পাব শুনে মনে মনে একটু খুশিই হলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চান্দের গাড়িতে মুহূর্তের মধ্যে শহর ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা রাস্তা, রাস্তার ধারে মাঝেমধ্যে বাঁশ-কাঠের দু-একটা বাড়ি, সারি সারি কলাগাছ। যতই দেখি, ততই চেয়ে থাকি। গাড়িতে তখন বাজছে কৃষ্ণপক্ষ ব্যান্ডের তুহিন কান্তি দাসের গান &#8220;চান্দের গাড়ি&#8221;। এমন গান আর এমন প্রকৃতির মাঝে একসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টুরিস্ট ক্যাম্পে যাত্রাবিরতি হলো। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে, আখের রস খেয়ে আবার রওনা দিলাম। তবে রওনা দেওয়ার আগে ঘটল এক মজার ঘটনা। চান্দের গাড়ির সামনে তিন-চারজন মিলে ছবি তুলছিল, তারা সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ একজন বলে বসল, এটা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফ্রেম। একে একে &#8220;আমিও আর্জেন্টিনা, আমিও আর্জেন্টিনা&#8221; বলে ফ্রেম ভরে গেল, শেষে স্যাররাও যোগ দিলে ফ্রেমটা একেবারে জমজমাট হয়ে উঠল। এই ঘটনায় সবাই খুব মজা পেয়েছিলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাঘাইহাটের ঢাল আর পাইলটের রোলার কোস্টার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবার যাত্রা শুরু, আর পরের বিরতির আগ পর্যন্ত ফুটবলের এই রেশ চলল অবিরাম। পরের যাত্রাবিরতি বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে। সবাই চান্দের গাড়ি থেকে নেমে আশপাশ ঘুরে দেখা শুরু করলাম। হালকা টিলার মতো উঁচু জায়গার পাশে এই বিশ্রামের জায়গা, কিন্তু রোদের তাপে টিকে থাকাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। আমাদের অনেকেই সাজেকে ঠান্ডা হবে ভেবে শীতের কাপড় নিয়ে এসে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে চারদিকের সৌন্দর্যের কাছে এই গরম তুচ্ছ। কেউ হাঁটাহাঁটি শুরু করল, কেউ টিলার পাশে গাছের ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নিল। আমাদের মতো আরও অনেক গাড়ি সেখানে অপেক্ষা করছিল, আর এই মানুষের আনাগোনা ঘিরে রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটা ছোট দোকানও বসেছে। ফলমূল থেকে শুরু করে বাঁশের মগ, অল্প দামের নানা জিনিস অনেকেই কিনছে। আমিও ক্রেতাদের কাতারের একজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাস্তার ধার ঘেঁষে পাহাড়ের ঢালটা একটু ভালোভাবে দেখতেই অনেক রকম টেরিডোফাইট নজরে পড়ল। বিশেষ করে মাটির ওপর ঘাসের মতো ছড়িয়ে থাকা সেলাজিনেলা (<em>Selaginella</em> sp.) একেবারে চোখে পড়ার মতো। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কিছু ম্যাকারাঙ্গা (<em>Macaranga peltata</em>) গাছ ঢালটাকে ছায়ায় ঢেকে রেখেছে, আর ক্যাম্পের চারপাশে লাগানো রেইনট্রি (<em>Samanea saman</em>) আর আকাশমণির (<em>Acacia auriculiformis</em>) দেখাও মেলে। ঢালুতে যে গাছটা আলাদা করে চোখে পড়ল, সেটা ভেরেন্ডা (<em>Ricinus communis</em>)। ফুল ফুটে থাকা অবস্থায় ছিল বলে কয়েকজন উদ্ভিদপ্রেমীর একটা ছোট ভিড়ও জমে গিয়েছিল সেখানে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এভাবে এটা-সেটা দেখতে দেখতে অনেকটা সময় কেটে গেল। তারপর একদম বিরতিহীন পথচলা। সাজেকের পথে নতুন একটা জিনিস খেয়াল করলাম। যখনই কোনো চান্দের গাড়ি যাচ্ছিল, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছোট বাচ্চাগুলো হাত নেড়ে টাটা দিচ্ছিল। বিষয়টা আমাকে খুব কৌতূহলী করে তুলল, একপর্যায়ে আমিও হাত নেড়ে তাদের টাটা দিতে লাগলাম। রাস্তার দুই ধারে উঁচু-নিচু পাহাড়, মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঝরনা, ধার ঘেঁষে সেগুনের (<em>Tectona grandis</em>) বনায়ন, সব মিলিয়ে মন জুড়িয়ে যাচ্ছিল। সেগুনের ফাঁকে ফাঁকে আরেকটা গাছ চোখে পড়ে, ফুলঝাড়ু (<em>Thysanolaena latifolia</em>)। এই গাছের ফুল দিয়েই বাসাবাড়ি পরিষ্কারের ফুলঝাড়ু বানানো হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ধীরেসুস্থে গেলে হয়তো সবকিছু আরও উপভোগ্য হতো, আরও অনেক কিছু দেখা যেত। কিন্তু আমাদের পাইলট (চান্দের গাড়ির ড্রাইভার) যে হারে গাড়ি টানছিল, মনে হচ্ছিল রোলার কোস্টারে বসে আছি। প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগলেও আমাদের চারটা গাড়ির একটাকে পেছনে ফেলে সামনে যেতেই সবাই &#8220;পাইলট, পাইলট&#8221; বলে চিৎকার করে উঠল। সেই যে শুরু, আমরা স্লোগান দিয়ে পাইলটকে আরও উৎসাহ দিতে থাকলাম, আর সামনে থাকা গাড়িগুলোকে একে একে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললাম। একে তো পাহাড়ি রাস্তা, তার ওপর একেবারে সরু, এই ওভারটেক করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। কিন্তু সবাই আনন্দ পাচ্ছিল, আর পাইলটকে বেশ দক্ষ মনে হলো, তাই ঝুঁকির কথা ভুলে আমিও আনন্দে যোগ দিলাম। একপর্যায়ে আমাদের দ্বিতীয় গাড়িকেও পেছনে ফেলে প্রথম গাড়ির ঠিক পেছনে চলে এলাম। সেটাকে পার করার আগমুহূর্তে পাইলট গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়ল। সবাই বলে উঠল, এটা কী হলো? তার হাতে একটা কাগজের প্যাকেট, পাশের দোকানে সেটা দিয়ে, কিছু কথাবার্তা বলে ফেরত এল। ততক্ষণে যতগুলো গাড়িকে পেছনে ফেলে এসেছিলাম, সবগুলো একে একে পার হয়ে গেল। সবাই কী কষ্টটাই না পেল। আমরা আশাবাদী ছিলাম, পাইলট আবার তার জাদু দেখাবে। কিন্তু না, সেদিন তো নয়ই, একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত সে আর সামনের একটা গাড়িকেও ছাড়িয়ে যায়নি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মেঘের দেশে প্রথম দিন</h2>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম সাজেকে। আমাদের বন্ধু রবিউলের পরিচিত একজন ছিলেন বলে দার্জিলিং রিসোর্টে আগেই বুকিং হয়েছিল। খুব সুন্দর, মনোরম পরিবেশ। রিসোর্টের পেছনে তাকালেই দূরদূরান্তের দৃশ্য, রাশি রাশি মেঘ আর সেই মেঘের জন্য মাটিতে আলো-ছায়ার খেলা, সবই চোখ জুড়ানো। হালকা ফ্রেশ হয়ে সবাই দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। শহরে-গ্রামে আমরা সচরাচর যা খাই, মেনুতে তার চেয়ে ভিন্ন ধরনের আইটেম ছিল। ঝাল তুলনামূলক বেশি হলেও খাবার ছিল সুস্বাদু। তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে রিসোর্টে ফিরে একটু বিশ্রাম, তারপর আবার রওনা কংলাক পাহাড়ের উদ্দেশে। এবার চান্দের গাড়ির ছাদে বসার অনুমতি মিলল, তাই বেশির ভাগ ছেলেই ছাদে বসে পুরোটা পথ হইহুল্লোড় করতে করতে গেলাম। কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারপাশ দেখে ছবি তোলার ধুম পড়ে গেল। প্রথমে তেমন মানুষ না থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যে চূড়া মানুষে ভরে গেল, একজনের ছবি তুলতে গেলে আরও কয়েকজন ফ্রেমে চলে আসে, এমন অবস্থা। যে যার মতো ছবি তুলে সন্ধ্যা নামার আগেই কংলাককে বিদায় জানালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঠিক গোধূলির আলোয় আমরা হেলিপ্যাডে চলে এলাম, সবাই মিলে গোল হয়ে বসলাম। স্যার আহ্বান জানালেন, আমাদের মধ্যে যে গান পারে সে শুরু করুক, বাকিরা গলা মেলাবে। সিয়াম গান ধরল, বাকিরা তার সঙ্গে গলা মেলাল। সারা দিনের ক্লান্তিতে হালকা নাশতা করতে করতে গান শুনতে বেশ আরাম লাগছিল। রাতের খাবারের সময় হয়ে আসছিল, তাই আরও কিছুক্ষণ কাটিয়ে সবাই রিসোর্টে ফেরার জন্য তৈরি হলাম। হেলিপ্যাড থেকে রিসোর্ট সামান্য দূরে, তাই বেশির ভাগই হেঁটে এগোলাম। হেলিপ্যাড থেকে নেমেই বেশ কিছু খাবারের দোকান, রিসোর্টে যাওয়ার আগে সেখানে কী কী পাওয়া যায় একবার দেখতে গেলাম। নানা রকম খাবার, যার বেশির ভাগই শহরেও পাওয়া যায়। তাহমিনা ম্যাম সেখানে যারা ছিলাম তাদের মোমো আর ব্যাম্বু চিকেন খাওয়ালেন, সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে আমিও একজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রিসোর্টে ফিরে গোসল সেরে রাতের খাবার খেতে গেলাম আবার সেই দুপুরের জায়গাতেই। কথামতো আমাদের বারবিকিউ পার্টির সবকিছু তারাই তৈরি রেখেছিল, আমরা শুধু গিয়ে খেয়ে এলাম। আগে ভেবেছিলাম সবাই মিলে নিজেরা বারবিকিউ করলে বেশি মজা হতো, কিন্তু শরীরের ক্লান্তির যা অবস্থা, তাতে এটাই ভালো হয়েছে। শিক্ষাসফরের শুরুতেই চন্দন স্যার বলেছিলেন, তিনি ইন্টারনেট খুঁজে, যারা আগে গেছে তাদের অভিজ্ঞতা জেনে, সবচেয়ে ভালো যা হয় তা-ই ঠিক করেছেন। এখন মনে হলো তিনি একদম সঠিক কথাই বলেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খাওয়াদাওয়া সেরে আজকের মতো বিরতি, আর কোনো পরিকল্পনা নেই, এটা ভাবতেও শান্তি লাগছিল। রিসোর্টে গিয়ে এদিক-সেদিক দেখাদেখি নেই, একদম বিছানায়। সেখানে ঘটল এক মজার ঘটনা। সাজেকের অন্য বাড়িগুলোর মতো দার্জিলিং রিসোর্টেরও সবকিছু কাঠের, তাই পাশের রুমের কথাবার্তা স্পষ্ট শোনা যায়। পাশের রুমের বন্ধুরা কী নিয়ে আলোচনা করছে শুনতে পেয়ে কাঠের দেয়ালে টোকা দিয়ে বললাম, পাশের রুমে সবকিছু ভালো তো? ওপাশ থেকে সাড়া এল, চলে। রাত যত গভীর হলো, শব্দ যেন আরও স্পষ্ট হতে থাকল। পাশের রুমের কারও নাক ডাকার শব্দ, এমনকি ওপরের তলায় চলাফেরার শব্দও কানে এসে ঝাঁকি দিচ্ছিল। তবে ক্লান্ত শরীরে কোনো শব্দই আর বাধা হলো না, কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেই পারলাম না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হাতিরঝিলে এক বেলা</title>
		<link>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/</link>
					<comments>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3818</guid>

					<description><![CDATA[খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে এক পলকে দেখা একটা অচেনা গাছের খোঁজে পরদিন একাই চলে গেলাম হাতিরঝিলে। পলাশ, শিমুল, বোতলব্রাশ পেরিয়ে ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর তার দেখা মিলল কি না, সেটাই গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">গিয়েছিলাম খালাতো ভাইয়ের বাসায়। আসার পথে হঠাৎ অচেনা একটা গাছ চোখে পড়ল, তাই পরের দিন, মানে গত পরশু, সকাল সকাল বের হয়ে পড়লাম তার সঙ্গে দেখা করব বলে। একটু কেমন যেন লাগছিল, কারণ সঙ্গে নেওয়ার মতো কেউ নেই, এমনকি জামানও নেই। একা একাই যেতে হলো। তারপরও সময়টা ভালোই কেটেছিল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পলাশ, শিমুল আর কাঠবাদাম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথমে রামপুরা ব্রিজ থেকে হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে উঠে একদম শেষ মাথায় এসে নামলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে পুরোটা ঘুরে ঘুরে দেখা শুরু হলো। শুরুতেই দেখা পেলাম পলাশ আর শিমুলের, তারপর কাঠবাদামের। কাঠবাদামের পুরো গাছগুলো জুড়ে একদম ফুলে ফুলে ভরে আছে, দেখতে ভালোই লাগছিল। রাস্তার ফুটপাত ধরে যত এগোতে থাকলাম, ঝিলের পাড় ঘেঁষে বেশ কিছু মেহগনি গাছ পেলাম, সঙ্গে আছে খেজুরগাছ। এখানে আরও যেগুলো চোখে পড়ে তা হলো হিজল গাছ, আর মাঝে মাঝে মহুয়া।</p>



<h2 class="wp-block-heading">হলুদের রাজত্ব আর ললিপপ ঝাউ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুটা পথ যেতেই হলুদে হলুদে যার প্রভাব বিস্তার, সে হলো রানিচূড়া। ও হ্যাঁ, এখানে আবার অনেক জায়গায় রাধাচূড়াও উপস্থিত। তারপর এল একটা ফ্লাইওভার। তার ধার ধরে ঝাউগাছের ললিপপের মতো অবয়ব একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে, আর তাদের ফাঁকে ফাঁকে বাগানবিলাস। তারপর শুরু হলো কামিনী আর কাঞ্চনের খেলা, সঙ্গে দেবকাঞ্চনও আছে। একের পর এক ক্রমে ক্রমে তাদের দেখতে মজাই লাগছিল। কাঠগোলাপের (<em>Plumeria obtusa</em>) নানা রকম বাহারও নজর কাড়ল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আগুনের ফুলকি আর কমলার থোকা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটু পথ যেতেই আরেকটা ফ্লাইওভার। তার আশপাশে শুধু বোতলব্রাশ আর বোতলব্রাশ। সবগুলো গাছেই বেশ ভালো ফুল ধরেছে, দেখে মনে হচ্ছিল যেন আগুনের ফুলকি গাছের ওপর ছিটেফোঁটা হয়ে পড়েছে। আর এখানে কাঁটামেহেদির ফলগুলো সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে, কারণ এভাবে আমি এর ফল আগে কোনো দিন দেখিনি। প্রথমে মনে হয়েছিল, থোকায় থোকায় পাকা কমলালেবু ধরে আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">শেষ প্রান্তে একটু হতাশা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তবে শেষ প্রান্তে এসে আরেকটা ফ্লাইওভার। প্রথমে একটু হতাশ হয়েছিলাম, কারণ দেখলাম কিছু কাঞ্চন গাছ আর কিছু বোতলব্রাশের গাছ পর পর খুব কাছাকাছি লাগানো আছে। কাঞ্চনের সাদা সাদা ফুলের সঙ্গে বোতলব্রাশের পাতা পাশাপাশি দেখে হয়তো সেদিন মনে করেছিলাম, নতুন একটা গাছ দেখেছি। সত্যিই মনটা একটু খারাপ হয়েছিল, কারণ ঘণ্টাখানেক হেঁটে ক্লান্ত হয়ে যা চাইলাম, যার দেখা পাওয়ার আশায় ছিলাম, সে বাস্তবে নেই। তারপরও হতাশার কিছু নেই, পুরোটাই খুব উপভোগ করেছি। না না, শেষ না, এখনো কিছু বাকি আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেদিন ভুল দেখিনি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ফিরে আসতে আসতে ফ্লাইওভারের পাশেই হঠাৎ চোখে পড়ল সেদিনের দেখা সেই গাছগুলো। গাছটা বোতলব্রাশের মতো, আর সাদা সাদা ফুল থোকায় থোকায় ঝুলে আছে। অনেক অনেক ছবি তুলেছি এর। আমার ছবি তোলা দেখে একজন পাশ দিয়ে যেতে যেতে জিজ্ঞাসাই করে বসলেন, ভাই, গাছটার নাম কী? আমি নামই বলতে পারলাম না, এটা আমার জন্য একটু লজ্জাজনক। তবে হ্যাঁ, তখন গাছটাকে আমার কাছে অনেক দামি মনে হচ্ছিল, কারণ সে আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, আমার অনুমান সঠিক ছিল, সেদিন ভুল দেখিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, পুলিশ প্লাজার কাছাকাছি এসে এতটাই ক্লান্ত লাগছিল যে বাধ্য হয়ে আবার চক্রাকার বাসে উঠে রামপুরা ব্রিজের স্টপেজে ফিরে এলাম। বাসার দিকেই রওনা দিচ্ছিলাম, কিন্তু কী আর করার, যাওয়ার পথে স্টপেজের কাছেই কিছু বান্দরলাঠি (<em>Cassia grandis</em>) গাছ দেখেছিলাম। একটু একটু করে, খুব ধীরে ধীরে তাদের কাছে গিয়ে দুই-চারটা ছবি তুলে ফিরে এলাম বাসায়। আর আমার এই ভ্রমণের নায়ক, যার জন্য সেদিন হাতিরঝিলে গিয়েছিলাম, তার পরিচয় পেলাম শ্রদ্ধেয় জসিম স্যারের কাছে। তাঁকে কিছু ছবি দিয়েছিলাম, তিনিই পরিচয় দিলেন, গাছটার নাম <em>Callistemon pallidus</em> (Bonpl.) DC.</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেদিন যাদের দেখা পেলাম</h2>



<ul class="wp-block-list">
<li>পলাশ, <em>Butea monosperma</em></li>



<li>শিমুল, <em>Bombax ceiba</em></li>



<li>কাঠবাদাম, <em>Terminalia catappa</em></li>



<li>হিজল, <em>Barringtonia acutangula</em></li>



<li>রানিচূড়া, <em>Senna polyphylla</em></li>



<li>খেজুর, <em>Phoenix sylvestris</em></li>



<li>বাগানবিলাস, <em>Bougainvillea spectabilis</em></li>



<li>শ্বেতশিমুল, <em>Ceiba pentandra</em></li>



<li>কামিনী, <em>Murraya paniculata</em></li>



<li>শ্বেত রক্তকাঞ্চন, <em>Bauhinia variegata</em> var. <em>candida</em></li>



<li>দেবকাঞ্চন, <em>Bauhinia purpurea</em></li>



<li>বোতলব্রাশ, <em>Callistemon citrinus</em></li>



<li>কাঁটামেহেদি, <em>Duranta repens</em></li>
</ul>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এক ঝলক বলধা গার্ডেন</title>
		<link>https://uponnas.com/baldha-garden/</link>
					<comments>https://uponnas.com/baldha-garden/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 15:35:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/baldha-garden/</guid>

					<description><![CDATA[উদ্ভিদ চত্বরের সঙ্গে একদিন বলধা গার্ডেনে গিয়েছিলাম। গেটের সামনে লম্বা অপেক্ষা, তারপর সাইকি আর শিবলির নানা গাছের দেখা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">বেশ কিছুদিন থেকেই বলধা গার্ডেনের নাম শুনে আসছি। শহিদুল ইসলাম শামীমকে অনেকবার বলেছিও, চলো বলধা গার্ডেন যাই, কিন্তু যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। সেদিন হঠাৎ দেখলাম উদ্ভিদ চত্বর গ্রুপের পক্ষ থেকে বলধা গার্ডেনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর আগেরবার মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমি যখন পোস্টটি দেখেছিলাম তখন আর কিছু করার ছিল না, তাদের ফাইনাল লিস্ট বানানো হয়ে গিয়েছিল। এবার আল্লাহ তায়ালার রহমতে সুযোগ পেয়েছি। আর দেরি না করে শামীমের সঙ্গে একমত হয়ে পোস্টে কমেন্ট করলাম, যেতে চাই। দেখলাম সিলেক্টেড লিস্টে আমাদের নামও চলে এসেছে। যাওয়ার সুযোগ পেয়ে খুব খুশি হলাম। চেয়েছিলাম আরও কিছু বন্ধুকে সঙ্গে নিতে, কিন্তু পারিনি, কারণ উদ্ভিদ চত্বরের প্রত্যাশিত লোকজন হয়ে যাওয়ায় তারা আগেই পোস্টটি ক্লোজ করে দেয়। দুঃখ হলেও আমি সীমাবদ্ধ, আমার হাতে কিছু ছিল না। যাই হোক, এখন শুধু সেই দিনের অপেক্ষা।</p>



<h2 class="wp-block-heading">গেটের সামনে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে গত শুক্রবার এসেই গেল, রওনা দিলাম বলধা গার্ডেনের উদ্দেশ্যে। সময় বলা হয়েছিল সকাল ৯টা, আমরা গেছি সাড়ে ৮টায়। গেটের সামনে যেতেই বুদ্ধ নারিকেলের (<em>Pterygota alata</em>) ঘ্রাণ পেয়ে শিবলির দেয়াল পেরিয়ে আকাশপানে তাকালাম। সত্যিই বিশাল এক বুদ্ধ নারিকেল গাছ দাঁড়িয়ে আছে, আর তার ফুলের ঘ্রাণে চারদিক মোহিত। আসলে বলধা গার্ডেনের দুটি অংশ: একটির নাম শিবলি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত, টিকিট কেটে যে কেউ যেতে পারে। আর ছোট অংশটির নাম সাইকি, যা সংরক্ষিত। যাওয়ার আগেই আসমা অন্বেষা ম্যামের একটা পোস্টে খুব সুন্দর করে সবকিছু ব্যাখ্যা করা ছিল, যা খুব কাজে এসেছিল। শিবলির মূল গেটের দিকে তাকিয়েই দেখি রাজ অশোক (<em>Amherstia nobilis</em>), যার দেখা পাওয়ার জন্য অনেক দিন ধরে ব্যাকুল ছিলাম। সাইকির দেয়ালের ওপরে চোখ পড়ল এক বিশাল গাছে, যার ফলগুলো দেখতে বড় পটলের মতো। গাছটা বার্মা শিমুল বা শ্বেত শিমুল (<em>Ceiba pentandra</em>)।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সময় কাটছিল না দেখে আমি আর শামীম বাইরে থেকেই সাইকির এক চক্কর দিয়ে এলাম। বাইরে থেকে অনেক কিছুই দেখা যায় না, তবে একটা গাছ চোখে পড়েছিল। প্রথমে তাকে অশোক বলেছিলাম, কিন্তু নিশ্চিত ছিলাম এটা অশোকের কোনো জাত হলেও ঠিক অশোক না। পরে সাইকির ভেতরে গিয়ে জানলাম তার নাম স্বর্ণ অশোক (<em>Saraca thaipingensis</em>)। পুরো বাইরেটা ঘুরে বুঝলাম, সাইকি আসলে খুব একটা বড় জায়গা না। তারপর আবার গেটের সামনে এসে দাঁড়ালাম। তখনো ৯টা বাজেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার খেলাম এক ধাক্কা। দাঁড়িয়ে আছি তো আছিই, কেউ নেই, কোনো পরিচিত মুখ নেই। যে-ই আসছে ভাবছি ইনি হয়তো উদ্ভিদ চত্বরের, কিন্তু না&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৯টার আশপাশে কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ গেটের সামনে দাঁড়ালেন, ভাবলাম এঁরা হয়তো আমাদের সঙ্গে। কিন্তু তাঁরাও গেটের ভেতরে চলে গেলেন। খুব বিপদ! কারও সঙ্গে যোগাযোগ করব, এমন নম্বরও নেই। শামীম বলছে, গত দিন নম্বরটা নিয়ে রাখা উচিত ছিল, ভুল হয়ে গেছে। অনেক জল্পনা-কল্পনা, কী করি! উদ্ভিদ চত্বর গ্রুপে ঢুকে বেশ কয়েকবার ইভেন্ট ম্যানেজার আসমা অন্বেষা ম্যাম, জায়েদ ফরিদ স্যার আর অলকা হালদার ম্যামের ছবি দেখে নিলাম, যেন চিনতে পারি। কিন্তু না, কিছুই হচ্ছে না। এক ভাইকে দেখলাম বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, দেখতে কিছুটা জায়েদ স্যারের মতো। শামীমকে সাহস করে জিজ্ঞেস করতে বললাম তিনি আমাদের সঙ্গে কি না। শামীম কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ভাই, আপনি কি উদ্ভিদ চত্বর থেকে? তিনি বললেন, উদ্ভিদ চত্বর? এটা কী? আমি তো আমার এক বন্ধুর জন্য দাঁড়িয়ে আছি। আরও সমস্যা, এবার কী করব?</p>



<p class="wp-block-paragraph">মনে প্রশ্ন ভেসে আসতে লাগল, অবশেষে কি বলধা গার্ডেনের এত কাছে এসেও ফিরে যেতে হবে? শামীমকে বলতেই আছি, ভাই কিছু করো। প্রতিবারই তার একটাই উত্তর, আমি কী করব! কিছুক্ষণ পর আরেক ভাই গেটের ভেতর থেকে বেরোলেন। আবার শামীমকে জিজ্ঞেস করার জন্য ফুসলাতে শুরু করলাম। সে এবার আমার ওপর বিরক্ত: তুমি কী শুরু করেছ এসব, নিজে গিয়ে জিজ্ঞেস করো। তবু শেষে শামীমই গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ভাই, আপনি কি উদ্ভিদ চত্বর থেকে এসেছেন? তাঁর ইতিবাচক উত্তর শুনে স্বস্তি পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ, পেয়েছি একজনকে! এবার তাহলে বলধা গার্ডেনে যাওয়া হচ্ছে। রিয়াজ রনি ভাইয়ের সঙ্গেই প্রথম কথা হলো আমাদের।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সাইকির ভেতরে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সাইকির গেট খুলে দেওয়া হলো আমাদের জন্য। অসাধারণ এক জায়গা। ঢুকতেই বেহেশতের বুলবুল বা পিস লিলির (<em>Spathiphyllum wallisii</em>) দেখা পেলাম। তারপর ধীরে ধীরে চারদিকে যত দেখি, শুধু মুগ্ধ হয়ে যাই। শাপলার সমাহার আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। একসঙ্গে সাদা শাপলা (<em>Nymphaea pubescens</em>), নীল শাপলা (<em>Nymphaea nouchali</em>), কেপ-ব্লু শাপলা (<em>Nymphaea capensis</em>), লাল শাপলা (<em>Nymphaea rubra</em>)। আহা, মন জুড়িয়ে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সামনে যেতে থাকি, আর নতুন নতুন উদ্ভিদের দেখা পেয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একটা খাঁচার মধ্যে কিছু অর্কিডের সম্ভার ছিল। নাম-না-জানা একটাকে ক্যামেরাবন্দি করতে পেরেছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইকিতে খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম, কারণ অধিকাংশ উদ্ভিদই নতুন, আর যেগুলো পরিচিত, সেগুলোরও নানা জাতের সমাহার রাখা ছিল। বাসকের (<em>Adhatoda vasica</em>) এত বড় গাছ হয়, আগে জানা ছিল না। সাইকাসের কালেকশনটাও দারুণ। নতুন নতুন গাছের নাম লিখেই যাই, লিখেই যাই, শেষ হয় না। পুরো এলাকা ঘুরে এবার সবাই গেলাম শিবলির দিকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">শিবলিতে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">শিবলির গেটে ঢুকে একটু শান্তি পাওয়া গেল, কারণ কিছু হলেও পরিচিত গাছপালার দেখা মিলছিল। বাস্কেট বাদামের (<em>Sterculia foetida</em>) বেশ কিছু গাছ শিবলি আর সাইকি দুই অংশেই দেখেছি। পাদুকের (<em>Pterocarpus indicus</em>) দেখাও যে এখানে পাব, আশা করিনি। শিবলির শেষ প্রান্তে গিয়ে ক্যামেলিয়া (<em>Camellia japonica</em>) আর রুদ্র পলাশ বা আফ্রিকান টিউলিপের (<em>Spathodea campanulata</em>) একসঙ্গে দেখা পেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফেরার পথে কবিদের কবিতা লেখার সেই ঐতিহাসিক ঘরটার পাশ দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। হঠাৎ দেখি সেটা আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হলো। দেখে আমি তো অবাক! একা এলে কখনোই এটা সম্ভব হতো না। আমরা সবাই উঠলাম সেখানে, ছবি তোলা হলো, অনেক কথাবার্তা হলো।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বিদায়, তবে শেষ বিদায় নয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এবার যাওয়ার সময় হয়ে আসছিল, বিদায় নেওয়ার পালা। সবাই গেটের সামনে জড়ো হলাম। বিদায় জানাতে যাব, ঠিক সেই সময় কেউ বললেন, দুপুরের খাবারের হালকা ব্যবস্থা আছে, সবাই ফখরুদ্দিনে চলেন। গেলাম সেখানে, ভালো খাওয়াদাওয়া হলো। এবার সত্যি সত্যিই বিদায়ের পালা। জানি না কেন মনে হচ্ছিল, সকাল থেকে যতবার ধাক্কা খেয়েছি, আবারও যদি এক ধাক্কা খাই, ধাক্কা খেয়ে আরও কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে থেকে যাই। অচেনা সবাইকে সেই সময় খুব পরিচিত মনে হচ্ছিল। সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে এলেও মনে মনে ধরে রেখেছি, এটাই শেষ বিদায় নয়। আবার দেখা হবে পরের অভিযানে, ইনশাআল্লাহ।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেদিন যে গাছগুলো দেখলাম</h2>



<ul class="wp-block-list">
<li>বুদ্ধ নারিকেল (<em>Pterygota alata</em>)</li>


<li>শ্বেত শিমুল বা বার্মা শিমুল (<em>Ceiba pentandra</em>)</li>


<li>বেহেশতের বুলবুল / পিস লিলি (<em>Spathiphyllum wallisii</em>)</li>


<li>সাদা শাপলা (<em>Nymphaea pubescens</em>)</li>


<li>নীল শাপলা (<em>Nymphaea nouchali</em>)</li>


<li>কেপ-ব্লু শাপলা (<em>Nymphaea capensis</em>)</li>


<li>লাল শাপলা (<em>Nymphaea rubra</em>)</li>


<li>রাজ অশোক (<em>Amherstia nobilis</em>)</li>


<li>স্বর্ণ অশোক (<em>Saraca thaipingensis</em>)</li>


<li>বাসক (<em>Adhatoda vasica</em>)</li>


<li>বাস্কেট বাদাম (<em>Sterculia foetida</em>)</li>


<li>পাদুক (<em>Pterocarpus indicus</em>)</li>


<li>ক্যামেলিয়া (<em>Camellia japonica</em>)</li>


<li>রুদ্র পলাশ / আফ্রিকান টিউলিপ (<em>Spathodea campanulata</em>)</li>

</ul>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/baldha-garden/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মিশন লাওয়াছড়া</title>
		<link>https://uponnas.com/mission-lawachara/</link>
					<comments>https://uponnas.com/mission-lawachara/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 14:28:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/mission-lawachara/</guid>

					<description><![CDATA[তিন দিনের সিলেট শিক্ষাসফরের শেষ দিনে গিয়েছিলাম লাওয়াছড়া বনে। পাখি আর ঝিঁঝিঁর ডাকের মধ্যে যে গাছগুলোর নাম লিখে রাখতে পেরেছি, তার তালিকা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">লাওয়াছড়া বন ছিল আমাদের তিন দিন দুই রাতের সিলেট শিক্ষাসফরের সর্বশেষ গন্তব্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নিরিবিলি পরিবেশের উত্তম উদাহরণ। চারপাশে পাখিদের কলকাকলির সঙ্গে সঙ্গে শোনা যায় ঝিঁঝিঁ পোকার সেই মনোমুগ্ধকর ডাক। এই ধরনের পরিবেশ সবার ভালো লাগাই স্বাভাবিক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তা ছাড়া পরিচিত-অপরিচিত, দেশি-বিদেশি, ছোট থেকে বিশাল আকারের অসংখ্য গাছপালার এক সংগ্রহশালাও বটে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">যে গাছগুলোর নাম লিখে রাখতে পেরেছি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এত গাছের মধ্যে আমি মাত্র কয়েকটিরই নাম লিপিবদ্ধ করতে পেরেছি:</p>



<ul class="wp-block-list">
<li>সেগুন (<em>Tectona grandis</em>)</li>


<li>বাটনা (<em>Castanopsis indica</em>)</li>


<li>গর্জন (<em>Dipterocarpus turbinatus</em>)</li>


<li>রক্তন (<em>Lophopetalum fimbriatum</em>)</li>


<li>আফ্রিকান টিকওক (<em>Chlorophora</em> spp.)</li>


<li>জাই বাঁশ (<em>Bambusa vulgaris</em>)</li>


<li>ডেওয়া (<em>Artocarpus lacucha</em>)</li>


<li>মেহগনি (<em>Swietenia mahagoni</em>)</li>


<li>গোলাপজাম (<em>Syzygium jambos</em>)</li>


<li>লোহাকাঠ</li>


<li>ভুতুম (<em>Hymenodictyon excelsum</em>)</li>


<li>পামওয়েল</li>


<li>বন পেঁপে</li>


<li>মিতিঙ্গা বাঁশ (<em>Bambusa tulda</em>)</li>


<li>জারুল (<em>Lagerstroemia speciosa</em>)</li>


<li>চাপালিশ</li>


<li>লটকন (<em>Baccaurea ramiflora</em>)</li>


<li>কদম (<em>Neolamarckia cadamba</em>)</li>


<li>টরলা বাঁশ (<em>Bambusa burmanica</em>)</li>


<li>পিতরাজ (<em>Aphanamixis polystachya</em>)</li>


<li>সুন্দরী (<em>Heritiera fomes</em>)</li>


<li>বাঁশপাতা (<em>Podocarpus neriifolius</em>)</li>


<li>তেলসুর (<em>Hopea odorata</em>)</li>


<li>কাঁকড়া গাছ</li>

</ul>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে ১৯৮১ সালের পরীক্ষামূলক বাঁশবাগানও আছে, আয়তন ১০ একর, যেখানে ৮টি বাঁশের প্রজাতি আছে। তা ছাড়া খাসিয়া জনগোষ্ঠীর ছোট একটি গ্রাম আছে, কিন্তু সময়স্বল্পতার জন্য দেখা হয়নি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, সব মিলিয়ে ভালোই কেটেছে দিনটা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/mission-lawachara/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুমিল্লায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একদিন</title>
		<link>https://uponnas.com/comilla-chapai-picnic/</link>
					<comments>https://uponnas.com/comilla-chapai-picnic/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 14:13:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/comilla-chapai-picnic/</guid>

					<description><![CDATA[ঢাকাস্থ শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সঙ্গে কুমিল্লায় একদিনের পিকনিক। কাঁচপুরের জ্যাম, ম্যাজিক প্যারাডাইসের ওয়াটার পার্ক আর ভোরে ফেরার গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">সেদিন ছিল ৮ অথবা ৯ তারিখ। ক্লাস শেষে বেরিয়ে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে কী যেন করতে গেছি, হঠাৎ ড্যানির সঙ্গে দেখা। সে বলল, পিকনিকে যাচ্ছ তো? মনে মনে খুঁজলাম, পিকনিক? এ রকম কি কিছু প্ল্যান ছিল? জিজ্ঞেস করলাম, কবে? কিসের পিকনিক? তার উত্তর: গ্রুপে পোস্ট দেখোনি? ঢাকাস্থ শিবগঞ্জ উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ছাত্রকল্যাণ সমিতির গ্রুপে তো এটা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ১২ তারিখ কুমিল্লা যাবে, তুমি যাচ্ছ তো? হ্যাঁ, অবশ্যই, যাব না কেন? বাসায় গিয়ে এ নিয়ে আলোচনা করব বলে সেদিন বাসায় চলে গেলাম। মনে মনে অনেক খুশি, কারণ কুমিল্লায় স্পট দেওয়া হয়েছে ওয়ার সিমেট্রি, ম্যাজিক প্যারাডাইস, কুমিল্লা বার্ড, শালবন বিহার। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এই জায়গাগুলোতে, বিশেষ করে বার্ডে যাওয়ার। জামান যেতে পারবে কি না, তার আবার কোনো পরীক্ষা আছে কি না, এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। সে বাসায় আসামাত্র তার কী অবস্থা জিজ্ঞেস করতে যাব, তার আগেই সে বলে উঠল, চলো পিকনিকে যাই, দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ফেলো। সেও একমত, আমিও, তাহলে আর কী সমস্যা! মোজাম্মেল ভাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। এখন শুধু দিন গোনার অপেক্ষা। এই শুক্রবার এল বলে, আসে না কেন শুক্রবার?</p>



<h2 class="wp-block-heading">এত সকালে যাব কিসে?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সময়মতো পৌঁছাতে পারব কি না, এ নিয়ে একটু চিন্তায় ছিলাম। সকাল ৭টায় বাস টিএসসি ছেড়ে যাবে, এ রকমই কথা। দেরি হলে আমাদের ছেড়ে যাবে না, এতটুকু ভরসা আছে, কিন্তু আমাদের জন্য দেরি হোক, এটা চাই না। অপেক্ষা করতে গিয়ে কেউ মনে মনে খারাপ ভাবুক, তা-ও চাই না। জামান তো প্রতিদিনই জিজ্ঞেস করত, এত সকালে যাব কিসে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেওয়ান আছে, কিন্তু এত সকালে পাওয়া যায় না, সংখ্যাও কম, তাহলে ৬ নম্বর বাস? না, এটা শাহবাগ যায় না। উইনারে যাওয়া যাবে? না, এটা দুনিয়া ঘুরে যায়, অনেক সময় লাগবে, আর কী বাস? উবারে যাব? উবারে তো অনেক খরচ। সিএনজিই কি তাহলে শেষ উপায়? মাথায় অনেক কিছু ঘোরে, করি তো কী করি। আফসোস হয় সুবাস্তুর জন্য। আগে সুবাস্তু বাস থাকায় এই চিন্তা মাথায় আসত না। বাসার সামনে থেকে যেকোনো সময় উঠতাম, জিপিওর সামনে নেমে ১০ মিনিট হাঁটলেই কার্জন হল। এর চেয়ে সহজ আর কিছু ছিল না। কিন্তু সুবাস্তু তো আর নেই, এটাই আমাদের সমস্যা। দোষ করে একজন, শাস্তি পায় পুরো গ্রুপ, আর শিকার হয় সাধারণ মানুষ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, তার প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলতাম, শুক্রবার আসতে দেরি আছে, যেদিন আসবে সেদিন দেখা যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বৃহস্পতিবার রাত। জামান আবার জিজ্ঞেস করে, কিসে যাব? আজকে তো বলো! কথা বলতে বলতেই আব্দুল মোমিন ভাইয়া কল দিলেন। তাঁর মুখে পিকনিকে যাওয়ার কথা শুনে একরকম ধাক্কাই খেলাম, ভাইয়া পিকনিকের কথা জানলেন কীভাবে? কিছুক্ষণ পর মনে হলো, ও&#8230; ভাইয়াও তো চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোক! ভাইয়ার কল সত্যিই খুব শান্তি দিল। সব সমস্যার সমাধান এভাবে হয়ে যাবে, কল্পনাও করিনি। ভাইয়াকে বললাম, একসঙ্গে যাব তাহলে। খুব ভালো হলো, মাথার বোঝা নামল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">দশ বাস, দশ আম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে এল শুক্রবার। সকাল সকাল উঠে রওনা দিলাম ভাইয়ার বাসার উদ্দেশ্যে। বাসা বেশি দূরে না, অল্প সময়েই পৌঁছে গেলাম। তার আগেই ভাইয়া বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। এবার রওনা দিলাম ক্যাম্পাসে। রাস্তায় ভাইয়ার এক বন্ধু আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন, পরে জানলাম তিনি আমাদেরও আত্মীয়। ভালোই লাগল। আমরা চারজন উবারে করে সময়মতো চলে গেলাম ক্যাম্পাসে। গিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না, এত মানুষ? সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের? বিশ্বাস করা কষ্টকর। মানুষে গিজগিজ করছে। এই ভিড়ের অধিকাংশকেই চিনতে পারছিলাম না। সবাই নানা জায়গা থেকে এসেছে, মাটির টান তাদের টেনে এনেছে। আশিক আনজুম ভাইকে দেখে তো হতবাক, সেও এসেছে? কবে শেষ দেখা হয়েছে মনে নেই, গত ঈদেও তো দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই সময় কাটল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে সকাল সাড়ে ৮টায় ১০টি বাস নিয়ে কুমিল্লার দিকে ধাবমান হলাম। ১০টি বাস, ১০টি আমের নাম। আমাদের বাসের নাম ছিল ল্যাংড়া। অঘোষিতভাবে ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষসহ সব বর্ষের বাস নির্ধারিত থাকলেও জানি না কেন হঠাৎ কিছু বড় ভাই আমাদের বাসে আসায় আমাদের প্রথম কাতারের সিট বদলে গিয়ে চলে গেল শেষের বিশাল বড় সিটগুলোর একটিতে। কিছু বলার নেই, তাঁরা বড় ভাই, তাঁদের সম্মান অনেক, সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। একটু দুঃখ হলো এই ভেবে যে, তাঁরা চাইলেই তো ছোট ভাইদের স্নেহ করতে পারতেন, বলতে পারতেন, থাক, উঠতে হবে না, আমরা ম্যানেজ করছি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">গরম ভালো, না দুর্গন্ধ?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এই নিয়েই টুকটুক করে বাস রওনা দিল। রবিউলের দেখানো কাঁচপুরের জ্যামের ভয়টা মাথায় ঘুরছিল, জ্যামে পড়লে তো দিন শেষ। শুধু দোয়া করছিলাম, জ্যামের হাত থেকে আল্লাহ তায়ালা যেন বাঁচিয়ে দেন, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। জ্যাম তো না, কী বলব, যার সঙ্গে তুলনা করব, সেটাই ছোট। বসে আছি, আছি, আছিই। বাস নড়েও না, চড়েও না। যেখানে আছে সেখানেই, একটুও সামনে এগোচ্ছে না। বেশ বিরক্তিকর অবস্থা। এক সময় এতটাই বাজে হলো যে বলে প্রকাশ করা যাবে না। বাস এক ময়লার স্তূপের সামনে গিয়ে থেমে গেল। একে তো গরমে নাজেহাল, তার ওপর স্তূপের এত তীব্র দুর্গন্ধ যে দম বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা। নাকে রুমাল ধরেও লাভ নেই, গন্ধ রুমাল ভেদ করে নাকে চলে যাচ্ছে। বাস এগোনোরও নামগন্ধ নেই। জানালা লাগিয়ে পারফিউম দেওয়ার পর একটু আরাম হলো। ভাবতেই অবাক লাগে, এই দুর্গন্ধময় স্তূপের পাশের বাড়িগুলোতে মানুষ কীভাবে থাকে? তাদের কি কোনো সমস্যা হয় না?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই নিয়ে আশিক আনজুমের সঙ্গে অনেক কথা হলো। সে প্রথমেই বলল, এটা আমার বাসা হলে আমি বাসা ছেড়ে দিয়ে, বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাব। তাকে বললাম, এটা তোমার না হয়ে তোমার বাবা-দাদার বাসা হলে কী করবে? এবার উত্তর একটু ভিন্ন: আমার না হলে বাসা ভাড়া দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাব। কিছুক্ষণ পর একটা ভালো কথা বলল: সিটি করপোরেশনের লোকদের এই ময়লা পরিষ্কার করতে বলব, আমার বাসার আশপাশে ময়লা ফেলবে কেন? নিরেট একটা উত্তর শুনে ভালো লাগল, কিন্তু ভালো লাগা তো আর চিরস্থায়ী না। কিছুক্ষণ পরেই গরমের জ্বালায় অসহ্য লাগতে লাগল। জানালা বন্ধ, সবাই ঘেমে একাকার। গরম থেকে বাঁচতে হলে গন্ধ নাও, গন্ধ থেকে বাঁচতে হলে গরম হও&#8230; গরম ভালো, না দুর্গন্ধ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই চিন্তা করতে করতেই বাস একটু নড়ে উঠল, নড়ে উঠে ময়লার স্তূপ পার হলাম। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে জানালা খুলে দেওয়া হলো, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আবার টুকটুক করে যাত্রা শুরু: এই এগোচ্ছে তো এই ব্রেক, আরেকটু এগোচ্ছে আবার ব্রেক, মনে হচ্ছে গতির তালে তালে ব্রেক যেন বিট যোগ করছে। আশিক আনজুম ভাই খুব বিরক্ত। একবার বসছে, একবার উঠে দাঁড়িয়ে থাকছে, পারলে বাস থেকে নেমে হাঁটা ধরে। অনেক অনেক সময় পর গাড়িটা মনে হলো গাড়ির মতো চলা শুরু করেছে, এবার দ্রুত গতিতেই চলছে। হঠাৎ ভাইয়া কল দিলেন। তাঁদের গাড়ি প্রথম স্পট ম্যাজিক প্যারাডাইসে পৌঁছে গেছে। শোনামাত্র হাতঘড়ি দেখলাম, ১টা ২০ বাজে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ম্যাজিক প্যারাডাইস</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আহ, আর কিছুক্ষণ, তাহলেই এই বাস থেকে মুক্তি! ৫ মিনিট পর দেখলাম রাস্তার ট্র্যাক বদলাচ্ছে, মনের মধ্যে খুব উত্তেজনা, কিন্তু সব উত্তেজনা ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হতে বাধ্য হলো। বাস থামার নামগন্ধ নেই। যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। শেষে ২টার মাথায় পৌঁছালাম। ম্যাজিক প্যারাডাইসের গেটের সামনে আসতেই ক্ষুধা, ক্লান্তি ভুলে উত্তেজনা ফিরে পেলাম। এ রকম অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। তিনটা ডাইনোসরকে এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, যেন তারাই গিটার-ড্রাম বাজায় আর গান গায়। সত্যিই এটা আমাকে খুব আকর্ষণ করেছিল। গেটটা দেখে মনে হয় ডিজনিল্যান্ডের কার্টুনে যেমন দেখা যায়, ঠিক তেমন। কিন্তু ভেতরে গিয়ে একটু মন খারাপ হলো, কারণ কমবেশি সব রাইডই বন্ধ ছিল। মলাট দেখে বই বিচার করতে নেই, কথাটা যে কত সত্যি, আবার টের পেলাম। এক বছর পরে এলে হয়তো আরও ভালো হতো, কারণ অনেক কিছুরই কাজ চলছে, নতুন করে করা হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে সবচেয়ে পছন্দের ছিল ওয়াটার পার্কটি। বাস্তবে এটাই একমাত্র জায়গা যা ভালো লেগেছিল। নামলাম পানিতে। পানিতে নামার অভিজ্ঞতা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। পানিতে নামলেই মনটা কেমন যেন করে ওঠে, আমাদের বাতাসের চেয়ে একদমই ভিন্ন পরিবেশ। তিন ধরনের স্লাইড ছিল, কোনোটাই বাকি রাখিনি। যতবার মনে হয়েছে ততবারই উঠেছি। সবাই অনেক মজা করেছিলাম। নানা খেলার আয়োজনও ছিল: মোরগলড়াই, ক্রিকেট, মেয়েদের লুডু, চেয়ার খেলা। সন্ধ্যা হয়ে গেল টেরই পাইনি। ও, একটা ছোটখাটো ট্রেনও ছিল। একদম শেষবেলায় তাতে চড়ে এখানকার ঘোরাঘুরির ইতি টানলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতে ম্যাজিক প্যারাডাইসের জাদুর ছোঁয়া থেকে নিজেদের মুক্ত করে গেলাম কুমিল্লা এসপি বাংলো, মানে আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্ব, নুরুল স্যারের বাসা। বাস্তবে তাঁর জন্য অনেক কিছুই আমাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল। এই পিকনিকে তাঁর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। সেখানে রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে শুরু হলো গান-বাজনা। আমি তো চেয়ারে বসে বসেই ঘুম। শরীর খুব ক্লান্ত। পানিতে নামার জন্য পুরো দেহে ব্যথার জোয়ার। ওই যে বলে না, সারা দেহে ব্যথা, মলম দেব কোথা, আমারও একই দশা। চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাতে ঘুমাতেই সময় কেটে গেল। পাশ থেকে জামান ডেকে বলল, চলো, বাসে উঠতে হবে। ঘড়িতে তখন ৩টা। ৩টা! তাহলে যা শুনেছিলাম সেটা গুজব নয়, সত্যি ছিল। আসার সময় আলোচনা করছিলাম, ১০টার মধ্যে আসতে পারব না, একটু দেরি হবে, বাসায় যেতে সাড়ে ১১টা পার হলে তো গেটম্যান তালা দেবে, আগেই জানিয়ে রাখি। তখন কেউ পাশ থেকে বলেছিল, ৩টার সময় তো রওনা দেবে, ১০টায় লেট হবে এগুলো কী বলো তুমি! তার কথা শুনে মনে মনে হেসেছিলাম। ইভেন্টে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা লেখা ছিল, সে হয়তো খেয়াল করেনি, এমনি এমনি বলছে। এখন হয়তো সে আমার ওপর পাল্টা হাসি দিচ্ছে। আমিও যদি হলে থাকতাম, তাহলে হয়তো আগেই সঠিক সময়টা জেনে যেতাম, আর কোনো সমস্যাই হতো না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ফেরার পথে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বাসে উঠে পড়লাম। তারপর আর সেরকম কিছু মনে নেই। সকালে চোখ খুলে দেখি রাস্তা, আর রাস্তার মাঝে আমাদের বাস। কী জ্যাম রে ভাই, গাজীপুরের খ্যাতি কেড়ে নেবে! বসে আছি, জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আশপাশের দৃশ্য দেখি। গাড়িগুলো ক্রমে ছোট হয়ে যাচ্ছে, ছোট থেকে ছোটতর, আরও ছোট। একদম শেষে যেটা চোখে পড়ে সেটা পিঁপড়ার সমান, আর সেই পিঁপড়ার সমান গাড়িটাও একটুও নড়ে না। তখন মনে হয় ৭টা। ভাইয়া ফোন দিয়ে বললেন, কোথায় তোমরা? আমাদের গাড়ি ক্যাম্পাসে চলে এসেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কী? কীভাবে? আমরা তো কেবল সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জও না! ভাইয়াকে আমাদের জন্য অপেক্ষা না করে চলে যেতে বললাম। আসলে কোনো সফরের প্রায় ৯০ শতাংশ সময়ই যানবাহনে কাটাতে হয়, আর এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সেই যানবাহনের চালকের। সে ভালো না হলে সফরে আনন্দ পাওয়া যায় না, শান্তি পাওয়া যায় না। আমাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যাটাই হলো: একই সঙ্গে বেরিয়ে কেউ ক্যাম্পাসে, আর কেউ বাসে বসে রাস্তার গাড়ি গুনছে। বসে থেকে হাত-পা ব্যথা, তার ওপর ক্ষুধাও বাড়ছে। বাস যদি একটু একটু করে এগোত, তাহলেও একটা হিসাব করে বলা যেত আর কতক্ষণ, কিন্তু বাস তো স্থির দাঁড়িয়েই আছে। মাথা উঁচু করে দেখলাম বাসের ভেতরে সবার কী অবস্থা। অধিকাংশই ঘুমাচ্ছে, কেউ একজনের ঘাড়ে মাথা রেখে, কেউ কোনোভাবে পা দুটো সিটের সঙ্গে মুড়ে। যারা জেগে আছে, তারা আমার মতো এদিক-ওদিক দেখছে। বাইরের আবহাওয়া ভালো ছিল বলে বসে থাকতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না। ঠান্ডা হাওয়া মাঝে মাঝে এসে সবকিছু ভুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। আবার কল এল, ভাইয়া। কল ধরার সময় ঘড়ির দিকে চোখ যায় কেন বুঝি না। সময়টা চোখে না পড়লেই হয়, হতাশা হবে না, কিন্তু চোখ শুধু সময়ের দিকেই যায়। সাড়ে ৮টা বাজে। ভাইয়া বললেন, তাঁরা বাসায় চলে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ঠিক আছে বলে কল রেখে বাইরে তাকালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদূর এসে বুঝলাম, এই জ্যামের একটা কারণ আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রা। সবাই নারায়ণগঞ্জে এসে জমা হয়েছে। আমরা সাড়ে ১০টা নাগাদ ক্যাম্পাসে পৌঁছালাম। এসে দেখি নাফিউল ভাই আর পারভেজ ভাই এসেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, আমরাই মনে হয় শেষ বাস? উত্তরে একটাই কথা বোঝা গেল: আমরাই শুধু এই সময়ে, বাকি সবাই কমবেশি একই সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে সবাইকে বিদায় জানিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দিয়ে সাড়ে ১১টায় বাসায় পৌঁছে এই কুমিল্লা ভ্রমণের ইতি টানলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে দুঃখ একটাই, আমার কাছে কোনো গ্রুপ ফটো নেই। এমনকি আনজুমের সঙ্গে এত সময় কাটিয়েছি, তার সঙ্গেও নেই। কেউ গ্রুপ ফটো দিলে সেটা নেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকল না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/comilla-chapai-picnic/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইউনিভার্সিটিতে আমার প্রথম পিকনিক</title>
		<link>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/</link>
					<comments>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 14:04:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/</guid>

					<description><![CDATA[বোটানি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে আমার প্রথম পিকনিক। নৌকায় লাল শাপলা দেখা আর জামান ভাইয়ের সঙ্গে তিন পায়ের দৌড়ে প্রথম হওয়ার গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার রহমতে পিকনিক শেষে বাসায় পৌঁছেই লিখতে বসেছি আজকের এই নতুন অভিজ্ঞতার কথা। আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতিবছর দুটি আউটিং হয়: একটি পিকনিক, যেখানে সব বর্ষের শিক্ষার্থী সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যায়। আরেকটি শিক্ষাসফর, যা প্রত্যেক বর্ষের জন্য আলাদা ইভেন্ট। গতবার আমাদের শিক্ষাসফর হলেও নানা কারণে পিকনিক হয়নি, তাই জানতাম না পিকনিকের সার্থকতা। আজ পিকনিকে গিয়ে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কারণ গতকালের প্রথম নির্দেশনা ছিল ৭টায় রওনা, কিন্তু সর্বশেষ নির্দেশনায় সাড়ে ৬টার মধ্যে উপস্থিতি চাওয়া হয়েছিল। চাইবে না-ই বা কেন? যাব তো সেই জ্যামপূর্ণ রাস্তার তালিকার প্রথম স্থানে থাকা গাজীপুরে: চম্পা রিসোর্ট, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ভোরের বাস</h2>



<p class="wp-block-paragraph">মনে মনে জানতাম, এত সকালে বাস ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে পারবে না। সবাইকে দেখে অভ্যস্ত। তবু বলা যায় না কী হয়, তাই সময়মতোই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলাম। পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুজন কল দিল, তার সঙ্গে কথা হলো। ডিপার্টমেন্টের সামনে গিয়ে দেখি কয়েকজন আছে, বাকিদের কোনো খোঁজখবর নেই। শামীমকে দিয়ে শুরু করলাম: কল দিয়ে বাকিদের অবস্থা জানা আর কয়টা বাজে সেটা জানিয়ে দেওয়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় ৮টার আগেই চারটি বাস নিয়ে ভাওয়ালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো আমাদের বোটানি ডিপার্টমেন্ট। হালকা জ্যাম হলেও ঢুকঢাক ঢুকঢাক গানের তালে তালে ভালো গতিতেই এগোচ্ছিল আমাদের বাস। দুটো পাউরুটি, মিষ্টি, সেদ্ধ ডিম আর আপেল দিয়ে সকালের নাশতাটা ভালোই হলো। সামনের সিটে স্যাররা বসায় প্রথমে একটু বিব্রত বোধ করলেও পুরো রাস্তায় দেখলাম তাঁরা আমাদের সঙ্গেই ছিলেন, ছেলেমেয়েরা যা-ই করুক, তাঁরা সেরকম কিছু বলেননি। রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ পলাশ আর দেবকাঞ্চনের ফুল আমাকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করছিল। প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে কোনো সমস্যা ছাড়াই পৌঁছে গেলাম চম্পার সামনে। গিয়ে দেখি আমাদের একটা বাস সামনে দাঁড়িয়ে আছে, গেট খুলছে না। ওপর থেকে নির্দেশনা না এলে গেটের লোকজন খুলবে না। স্যাররা সেটার ব্যবস্থা করলেন, আর আমাদের সব কটা বাস একসঙ্গে ঢুকে পড়ল সেই বহুল পরিচিত শালবনের ছোটখাটো রাস্তায়। রাস্তার ধারে বেশ কিছু সাইনবোর্ডে নানা প্রাণীর পরিচিতি, তাদের বর্তমান অবস্থা আর এখানে তাদের সংখ্যা লেখা ছিল। একটু অবাক লাগল যে শুধু প্রাণীরই তালিকা আছে, কোনো উদ্ভিদের তালিকা নেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রিসোর্টের সামনে গিয়ে বাস থেকে সবাই নামল। নেমেই জুনিয়র, সিনিয়র, মোস্ট সিনিয়র, সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। এটাই পিকনিকের আসল মজা।</p>



<h2 class="wp-block-heading">নৌকা, অটো আর জাভা ক্যাসিয়া</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবহাওয়া একটু খারাপ হতে যাচ্ছিল, হালকা বৃষ্টির দেখাও পেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার রহমতে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। স্যারদের কাছে জানলাম, এই চম্পাই সবচেয়ে ভালো, ভিভিআইপি রিসোর্ট। স্যাররা আমাদের জন্য এটি বরাদ্দ করায় খুব শান্তি লাগল। স্যারদের কথা শেষে সবাই বেরিয়ে পড়লাম, যার যেদিকে দুচোখ যায়। আমি তো আগেই পুকুরপাড়ে গিয়ে উঠে পড়লাম নৌকায়। রাসিফকে ডাকলাম, সে ছিল তার নিজস্ব পরিকল্পনায়, তাই এল না। আমরা বেশ কয়েকজন মিলে নৌকাভ্রমণ শুরু করলাম। পুকুরে লাল শাপলার দেখা পাওয়াও খুব আনন্দের, যা এক নৌকাভ্রমণকে রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নৌকা থেকে নেমে এবার কী করি ভাবতে না ভাবতেই এক লোক বলে উঠল, ভাই, আমার অটোতে চড়েন, পুরো এলাকা ঘুরিয়ে দেখাব। প্রথমে অনেক টাকা চাইছিল বলে যাওয়া হয়নি, কিন্তু তার সেই কথা, &#8216;আর কবে আসবেন কি না-আসবেন, না দেখলে কী বুঝবেন&#8217;, শেষে আমাদের হার মানাল। হাসিবুর, নাফিস, তরিকুল, জাফিরুল, জুবায়ের, আমরা একসঙ্গে ঘুরতে বেরোলাম। সেখানে একটা ছোট্ট চিড়িয়াখানা আর একটা ওয়াচ টাওয়ার ছিল, সেই ভাই আমাদের নিয়ে গিয়ে দেখালেন। ফেরার পথে হঠাৎ একটা ফুল চোখে পড়ল, যেটা আমি অনেকদিন ধরে খুঁজছিলাম। কাছে গিয়ে দেখলাম, হ্যাঁ, এটা সেটাই, জাভা ক্যাসিয়া। ভাবিনি এর দেখা এখানে পেয়ে যাব।</p>



<h2 class="wp-block-heading">তিন পায়ের দৌড়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবার ফিরে এলাম রিসোর্টে। দুপুরের খাবারের জন্য ডাক দিলেন স্যাররা। একদম উন্নত মানের রেস্টুরেন্টে যেমন খাবার হয়, এখানে তার চেয়েও ভালো খাবার দেওয়া হয়েছিল বলে আমি মনে করি। পেটপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে শুরু হলো সাংস্কৃতিক পর্ব। নানা ধরনের খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন আমাদের বড় ভাই-আপুরা। তিন পায়ের দৌড়, নামটা শুনে মজা পেয়েছিলাম। আসলে দুজনের একটা একটা পা বেঁধে একটা বানিয়ে দৌড়াতে হয়, তাই তিন পায়ের দৌড়। আমি এমনিই কনককে বলছিলাম, আমি আর তুমি মিলে দৌড় দিই। হঠাৎ জামান ভাই বললেন, আমি আর তুমি দৌড় দিই, আমার এই খেলায় অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বাস্তবেই জামান ভাইয়ের জন্য তিন পায়ের খেলায় আমরা প্রথমও হয়েছিলাম। খেলাধুলা পর্ব শেষে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আমাদের সেখানকার অফিশিয়াল প্রোগ্রাম শেষ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার ফেরার পালা। সবাই নিজ নিজ বাসে উঠে পড়লাম। অল্প সময়ের মধ্যেই সব কটা গাড়ি আবার ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল। গতবারের মতো এবারও আর সবার সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাওয়া হলো না, মাঝরাস্তায় আমি নেমে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই তো সারাদিনের আনন্দ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
