<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><?xml-stylesheet type="text/xsl" href="https://uponnas.com/wp-content/themes/uponnas/assets/feed.xsl?ver=1.5.7"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>গাছের গল্প &#8211; উপন্যাস</title>
	<atom:link href="https://uponnas.com/category/gacher-golpo/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://uponnas.com</link>
	<description>শব্দে গাঁথা স্মৃতির বিশ্ব</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:32 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://uponnas.com/wp-content/uploads/2026/04/cropped-Uponnas-logo-1-150x150.png</url>
	<title>গাছের গল্প &#8211; উপন্যাস</title>
	<link>https://uponnas.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>হাতিরঝিলে এক বেলা</title>
		<link>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/</link>
					<comments>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3818</guid>

					<description><![CDATA[খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে এক পলকে দেখা একটা অচেনা গাছের খোঁজে পরদিন একাই চলে গেলাম হাতিরঝিলে। পলাশ, শিমুল, বোতলব্রাশ পেরিয়ে ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর তার দেখা মিলল কি না, সেটাই গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">গিয়েছিলাম খালাতো ভাইয়ের বাসায়। আসার পথে হঠাৎ অচেনা একটা গাছ চোখে পড়ল, তাই পরের দিন, মানে গত পরশু, সকাল সকাল বের হয়ে পড়লাম তার সঙ্গে দেখা করব বলে। একটু কেমন যেন লাগছিল, কারণ সঙ্গে নেওয়ার মতো কেউ নেই, এমনকি জামানও নেই। একা একাই যেতে হলো। তারপরও সময়টা ভালোই কেটেছিল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পলাশ, শিমুল আর কাঠবাদাম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথমে রামপুরা ব্রিজ থেকে হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে উঠে একদম শেষ মাথায় এসে নামলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে পুরোটা ঘুরে ঘুরে দেখা শুরু হলো। শুরুতেই দেখা পেলাম পলাশ আর শিমুলের, তারপর কাঠবাদামের। কাঠবাদামের পুরো গাছগুলো জুড়ে একদম ফুলে ফুলে ভরে আছে, দেখতে ভালোই লাগছিল। রাস্তার ফুটপাত ধরে যত এগোতে থাকলাম, ঝিলের পাড় ঘেঁষে বেশ কিছু মেহগনি গাছ পেলাম, সঙ্গে আছে খেজুরগাছ। এখানে আরও যেগুলো চোখে পড়ে তা হলো হিজল গাছ, আর মাঝে মাঝে মহুয়া।</p>



<h2 class="wp-block-heading">হলুদের রাজত্ব আর ললিপপ ঝাউ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুটা পথ যেতেই হলুদে হলুদে যার প্রভাব বিস্তার, সে হলো রানিচূড়া। ও হ্যাঁ, এখানে আবার অনেক জায়গায় রাধাচূড়াও উপস্থিত। তারপর এল একটা ফ্লাইওভার। তার ধার ধরে ঝাউগাছের ললিপপের মতো অবয়ব একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে, আর তাদের ফাঁকে ফাঁকে বাগানবিলাস। তারপর শুরু হলো কামিনী আর কাঞ্চনের খেলা, সঙ্গে দেবকাঞ্চনও আছে। একের পর এক ক্রমে ক্রমে তাদের দেখতে মজাই লাগছিল। কাঠগোলাপের (<em>Plumeria obtusa</em>) নানা রকম বাহারও নজর কাড়ল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আগুনের ফুলকি আর কমলার থোকা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটু পথ যেতেই আরেকটা ফ্লাইওভার। তার আশপাশে শুধু বোতলব্রাশ আর বোতলব্রাশ। সবগুলো গাছেই বেশ ভালো ফুল ধরেছে, দেখে মনে হচ্ছিল যেন আগুনের ফুলকি গাছের ওপর ছিটেফোঁটা হয়ে পড়েছে। আর এখানে কাঁটামেহেদির ফলগুলো সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে, কারণ এভাবে আমি এর ফল আগে কোনো দিন দেখিনি। প্রথমে মনে হয়েছিল, থোকায় থোকায় পাকা কমলালেবু ধরে আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">শেষ প্রান্তে একটু হতাশা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তবে শেষ প্রান্তে এসে আরেকটা ফ্লাইওভার। প্রথমে একটু হতাশ হয়েছিলাম, কারণ দেখলাম কিছু কাঞ্চন গাছ আর কিছু বোতলব্রাশের গাছ পর পর খুব কাছাকাছি লাগানো আছে। কাঞ্চনের সাদা সাদা ফুলের সঙ্গে বোতলব্রাশের পাতা পাশাপাশি দেখে হয়তো সেদিন মনে করেছিলাম, নতুন একটা গাছ দেখেছি। সত্যিই মনটা একটু খারাপ হয়েছিল, কারণ ঘণ্টাখানেক হেঁটে ক্লান্ত হয়ে যা চাইলাম, যার দেখা পাওয়ার আশায় ছিলাম, সে বাস্তবে নেই। তারপরও হতাশার কিছু নেই, পুরোটাই খুব উপভোগ করেছি। না না, শেষ না, এখনো কিছু বাকি আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেদিন ভুল দেখিনি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ফিরে আসতে আসতে ফ্লাইওভারের পাশেই হঠাৎ চোখে পড়ল সেদিনের দেখা সেই গাছগুলো। গাছটা বোতলব্রাশের মতো, আর সাদা সাদা ফুল থোকায় থোকায় ঝুলে আছে। অনেক অনেক ছবি তুলেছি এর। আমার ছবি তোলা দেখে একজন পাশ দিয়ে যেতে যেতে জিজ্ঞাসাই করে বসলেন, ভাই, গাছটার নাম কী? আমি নামই বলতে পারলাম না, এটা আমার জন্য একটু লজ্জাজনক। তবে হ্যাঁ, তখন গাছটাকে আমার কাছে অনেক দামি মনে হচ্ছিল, কারণ সে আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, আমার অনুমান সঠিক ছিল, সেদিন ভুল দেখিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, পুলিশ প্লাজার কাছাকাছি এসে এতটাই ক্লান্ত লাগছিল যে বাধ্য হয়ে আবার চক্রাকার বাসে উঠে রামপুরা ব্রিজের স্টপেজে ফিরে এলাম। বাসার দিকেই রওনা দিচ্ছিলাম, কিন্তু কী আর করার, যাওয়ার পথে স্টপেজের কাছেই কিছু বান্দরলাঠি (<em>Cassia grandis</em>) গাছ দেখেছিলাম। একটু একটু করে, খুব ধীরে ধীরে তাদের কাছে গিয়ে দুই-চারটা ছবি তুলে ফিরে এলাম বাসায়। আর আমার এই ভ্রমণের নায়ক, যার জন্য সেদিন হাতিরঝিলে গিয়েছিলাম, তার পরিচয় পেলাম শ্রদ্ধেয় জসিম স্যারের কাছে। তাঁকে কিছু ছবি দিয়েছিলাম, তিনিই পরিচয় দিলেন, গাছটার নাম <em>Callistemon pallidus</em> (Bonpl.) DC.</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেদিন যাদের দেখা পেলাম</h2>



<ul class="wp-block-list">
<li>পলাশ, <em>Butea monosperma</em></li>



<li>শিমুল, <em>Bombax ceiba</em></li>



<li>কাঠবাদাম, <em>Terminalia catappa</em></li>



<li>হিজল, <em>Barringtonia acutangula</em></li>



<li>রানিচূড়া, <em>Senna polyphylla</em></li>



<li>খেজুর, <em>Phoenix sylvestris</em></li>



<li>বাগানবিলাস, <em>Bougainvillea spectabilis</em></li>



<li>শ্বেতশিমুল, <em>Ceiba pentandra</em></li>



<li>কামিনী, <em>Murraya paniculata</em></li>



<li>শ্বেত রক্তকাঞ্চন, <em>Bauhinia variegata</em> var. <em>candida</em></li>



<li>দেবকাঞ্চন, <em>Bauhinia purpurea</em></li>



<li>বোতলব্রাশ, <em>Callistemon citrinus</em></li>



<li>কাঁটামেহেদি, <em>Duranta repens</em></li>
</ul>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/hatirjheel-ek-bela/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বর্ষা এলেই রেইন লিলির মেলা</title>
		<link>https://uponnas.com/borsha-rain-lily-mela/</link>
					<comments>https://uponnas.com/borsha-rain-lily-mela/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3750</guid>

					<description><![CDATA[একটু বর্ষা নামলেই কার্জন হলের আনাচে-কানাচে গোলাপি, সাদা আর হলুদ রেইন লিলি ফুটে ওঠে। চেনা এই ছোট ফুলগুলোকে একটু কাছ থেকে দেখা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">একটু বর্ষা এলেই কার্জন হলের নানা জায়গায় রেইন লিলি ফুটতে শুরু করে। কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের সামনে, জহির ভাইয়ের ক্যান্টিনের সামনে, আর আমাদের বোটানি ডিপার্টমেন্টের চারপাশ তখন এই ফুলে ভরে ওঠে। কী সুন্দর দেখতে, আর কত রকমের রং। কোনোটা গোলাপি, কোনোটা হলুদ, আবার কোনোটা সাদা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রং আলাদা হলেও ফুলের গঠন একই রকম, আর মাঝখানে চক্রাকারে সাজানো হলুদ অ্যান্থারগুলো দেখলে কিছুটা আঁচ করা যায় যে এরা একই ধরনের উদ্ভিদ। গাছগুলো লম্বায় খুব একটা বড় হয় না। তবে একটানা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে বলে মনে হয় যেন অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে ফেলেছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আমার পছন্দের গোলাপি রেইন লিলি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে গোলাপি রঙের ফুলটা। এর বৈজ্ঞানিক নাম <em>Zephyranthes rosea</em> Lindl., রূপের সঙ্গে নামের যথেষ্ট মিল আছে। গুনে গুনে ৬টা পাপড়ি, খুব সুন্দরভাবে বিন্যস্ত। পেরু আর কলম্বিয়ার নেটিভ এই উদ্ভিদগুলো আমাদের মাঝে এমনভাবে মিশে গেছে যে বোঝার উপায় নেই এগুলো আমাদের দেশের না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সাদা আর হলুদ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সাদা রেইন লিলিটাকে বছরের বেশি সময় ধরে দেখতে পাই বলে তার প্রতিও একটা টান কাজ করে। এই সাদাটা <em>Zephyranthes candida</em> (Lindl.) Herb. নামে পরিচিত। আর সবচেয়ে কম দেখা পাই হলুদ ফুলটার। ১৮৮২ সালে বিজ্ঞানী বেকার (Baker) এর নাম দেন <em>Zephyranthes citrina</em>।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পাতা, বাল্ব আর ফল</h2>



<p class="wp-block-paragraph">রেইন লিলির পাতাগুলো লম্বা লম্বা, চিরল। আর এর বাল্ব দেখলে যে কেউ পেঁয়াজ ছাড়া অন্য কিছু বলবে না। ও, এদের ফলগুলোও প্রশংসার দাবিদার। দেখে মনে হয় তিনটা বল একসঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা আছে। ভালোই দেখতে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">একটু সাবধানতাও দরকার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">একধারে যখন ফুলগুলো ফুটে থাকে, দেখতে সত্যিই ভালো লাগে। তবে পরিচর্যার সময় একটু সাবধান থাকতে হবে। এদের মধ্যে লাইকোরিন জাতীয় কিছু বিষাক্ত যৌগ আছে, পেটে চলে গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই চোখ দিয়েই উপভোগ করুন, মুখের কাছে নেওয়ার দরকার নেই।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/borsha-rain-lily-mela/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হস্তিকর্ণ, বর্ষার এক অতিথি</title>
		<link>https://uponnas.com/hastikorno-dhol-somudro-borshar-otithi/</link>
					<comments>https://uponnas.com/hastikorno-dhol-somudro-borshar-otithi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3746</guid>

					<description><![CDATA[হাতির কানের মতো বড় বড় পাতা, ব্রকলির মতো ফুলের গুচ্ছ। ঢোল সমুদ্র বা হস্তিকর্ণ বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গে হাজির হয়, আর শীত আসার আগেই মাটির নিচে হারিয়ে যায়।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আজ একটা মজার উদ্ভিদ নিয়ে কথা বলি। তার নাম ঢোল সমুদ্র। অনেক বড় বড় পাতা হয় বলে হাতির কানের সঙ্গে তুলনা করে এর আরেক নাম হস্তিকর্ণ। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Leea macrophylla</em>, পরিবারের নাম ভাইটেসি (Vitaceae)।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এটা একটু স্যাঁতসেঁতে, কিন্তু পানি জমে না এমন জায়গায়, কিংবা অন্য কোনো গাছের নিচে থাকতে খুব পছন্দ করে। বর্ষার সময় হঠাৎ কোনো সাড়াশব্দ ছাড়াই কোথা থেকে চলে আসে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বড় হয়ে গিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুরো কাণ্ডই সবুজ, দেখে নরম মনে হলেও খুব একটা নরম নয়। পাতাগুলোও সবুজ, পাতার নিচের পৃষ্ঠে রোম আছে, আর পাতার মাঝখান থেকে প্রান্ত পর্যন্ত কিনারায় খাঁজ আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ব্রকলির মতো ফুল</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বেড়ে ওঠা দেখতে দেখতেই কাণ্ডের আগা দিয়ে গুচ্ছাকারে ফুল ফোটে। এই অবস্থায় দূর থেকে দেখলে আস্ত একটা ব্রকলির মতো মনে হয়। ফুলগুলো এত ছোট যে ভালোভাবে না দেখলে বোঝাই যায় না এর রং একটু নীলাভ সাদা। ফুল থেকে দানাদার ছোট ছোট গুলি বা মার্বেলের মতো ফল হয়, ফলগুলো পরিপুষ্ট হলে কালো রং ধারণ করে, তারপর নিজে থেকেই ঝরে যায়।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বর্ষায় আসে, শীতে হারায়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">লেখার শুরুতেই মজার উদ্ভিদ বলেছিলাম, কারণ এর পুরো চক্রটা শুরুই হয় বর্ষায়, আর শীত আসতে না আসতেই শেষ হয়ে যায়। শীতকালে এর পাতা, এমনকি কাণ্ডও এমনভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে মাটির নিচের কন্দ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তাই বছরের বাকি দিনগুলোতে এই উদ্ভিদ কোথায় ছিল, কোথায় আছে, তার কোনো খোঁজখবর অন্তত আবার বর্ষা আসার আগ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এজন্য একে এক বছরের গাছ ভেবে ভুল হতে পারে, কিন্তু আসলে এটা বহুবর্ষজীবী, মাটির নিচে কন্দটা বেঁচে থাকে আর প্রতি বর্ষায় সেখান থেকেই নতুন করে গজায়। আর মানুষের চোখে না পড়লেও, শোনা যায় মাটির নিচ থেকে এটি কেঁচোকে দূরে রাখে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই উদ্ভিদ সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কন্দ বা মূল আর বীজের মাধ্যমে হস্তিকর্ণের বংশবিস্তার ঘটে। এর পাতায় ফ্লাভোনয়েডসহ নানা রকম ফেনলিক যৌগ থাকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">কিছু লোকজ ব্যবহার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">হস্তিকর্ণের কিছু লোকজ ব্যবহারও আছে। গ্রামে এর মূল দাদ রোগে, আর গাছটা গাঁটে ব্যথা ও বাতে ব্যবহার করা হয়। কেটে গেলে এর পাতার রস লাগানোর চল আছে, বলা হয় এতে রক্ত পড়া কমে আর এটা অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে। মাঝে মাঝে আবার কাপড়ে লাল রং করার কাজেও একে ব্যবহার করা হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে যাই হোক, এরকম একটা উদ্ভিদের সঙ্গে দেখা পেয়ে খুব ভালোই লাগল। আর কিছুদিনের মধ্যেই আবার হারিয়ে যাবে মাটির কোনো এক তলদেশে। তবে আশা রাখি, দেখা হবে পরের কোনো এক বর্ষায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/hastikorno-dhol-somudro-borshar-otithi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উদ্ভিদপ্রেমীর চোখে কার্জন হল</title>
		<link>https://uponnas.com/udbhidpremir-chokhe-curzon-hall/</link>
					<comments>https://uponnas.com/udbhidpremir-chokhe-curzon-hall/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3742</guid>

					<description><![CDATA[যমজের মতো জোড়া লাগানো পাতা, মাইক্রোফোনের মতো ফল, গাছে ঝুলে থাকা কামানের গোলা। কার্জন হলের গাছগুলোকে এক এক করে চিনে নেওয়ার গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">কার্জন হলে আপনারা অনেকেই গেছেন। লাল দালানটা দেখেছেন, চারপাশে হেঁটেছেন, তারপর ফিরে এসেছেন। কিন্তু বোটানির ছাত্র হলে একটা সমস্যা হয়। দালানের চেয়ে দালানের পাশের গাছগুলোর দিকে চোখ বেশি যায়, আর একবার গাছের দিকে চোখ গেলে তালিকা না করে শান্তি হয় না। ২০১৯ সালে একদিন ভাবলাম, কার্জন হলের গাছগুলোকে একটা একটা করে চিনে নিই। নাম দিলাম কার্জন হল অভিযান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অভিযানের শুরু গেট দিয়ে ঢুকে হাতের বাম পাশ থেকে। সেদিন যা যা চোখে পড়েছিল, সেগুলোর নাম আগে লিখে ফেলি, তারপর একটা একটা করে গল্পে আসি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাম পাশে যা যা আছে</h2>



<ul class="wp-block-list">
<li>বড় গাছ: বকুল, আমলকি, তেঁতুল, সিলভার ওক, নাগেশ্বর, পিংক ক্যাসিয়া, শেওড়া, মেহগনি, পলাশ, নাগলিঙ্গম, রাজ কড়ই</li>



<li>মাঝারি গাছ: দেবকাঞ্চন, সাজনা, রাধাচূড়া, কুরচি, গন্ধরাজ, কামিনী, দাদমর্দন</li>



<li>ফুলের ঝোপ আর লতা: বাগান বিলাস, মধু লনিসেরা, মধুমঞ্জরী, নীলঘণ্টা, পেন্টাস, কলাবতী, কসমস, রঙ্গন, শ্বেত রঙ্গন, ধুতুরা</li>



<li>খাওয়ার কাজে লাগে এমন গাছ: পেঁপে, কলা, কফি, কারিপাতা</li>
</ul>



<h2 class="wp-block-heading">দেয়াল ঘেঁষে দেবকাঞ্চন থেকে তেঁতুল</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কার্জন হলের বাম পাশের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দেবকাঞ্চন, বৈজ্ঞানিক নাম <em>Bauhinia purpurea</em>। আকারে খুব একটা বড় হয় না, খুব জোর ৪ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। দেবকাঞ্চনের ফুল খুব সুন্দর দেখতে, কিন্তু আমি একে সবচেয়ে সহজে চিনি এর পাতা দেখে। পাতাগুলো দেখলে মনে হয় দুইটা পাতাকে গোড়ার দিক থেকে একসঙ্গে জোড়া লাগানো হয়েছে, কিন্তু প্রান্তের দিকটা জোড়া লাগানো হয়নি। মানে মধ্যশিরা বরাবর একটা বড় খাঁজ আছে, যেটা তাকে আশপাশের অন্য গাছ থেকে আলাদা করে তুলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর আসে বকুল গাছ। বকুল গাছকে কে না চেনে। খুব সুন্দর লম্বা গোলগাল একটা গাছ, বিজ্ঞানীরা একে <em>Mimusops elengi</em> নামে ভালো চেনেন। বকুল ফুলকে ছোটখাটো একটা সাদা শাপলার সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে না, কিন্তু এর ঘ্রাণের কোনো জুড়ি নেই। আর ডালে ডালে যখন লাল লাল ফল ধরে থাকে, দেখতে খুব ভালো লাগে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বকুলের পরেই দেখা মেলে সাজনার। <em>Moringa oleifera</em> নামটা দিয়ে গেছেন বিজ্ঞানী ল্যামার্ক। এই সাজনার গুণের শেষ নেই, আমাদের গ্রামের দিকে বাড়িতে বাড়িতে একটা করে সাজনা গাছ থাকেই। ভঙ্গুর কাণ্ডের জন্য সাধারণত খুব একটা বড় হয় না, তবে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। কাণ্ড নিয়ে যখন বলছি, তখন আরেকটু বলি। কাণ্ড দেখেই দুর্বল মনে হয়, কিছুটা কর্কের মতো, যদিও কচি অবস্থায় একটু সবুজ রঙের হয়। এর পাতা দেখে অনেকে কড়ই ভাবতে পারেন, কিন্তু ভালো করে দেখলে বোঝা যায় কড়ইয়ের পাতার সঙ্গে সাজনা পাতার গঠন আর সজ্জায় একটু ভিন্নতা আছে। তা ছাড়া ফুলও তো আলাদা, উপযুক্ত পরিবেশে বছরে দুইবার ফুল দেখা দিতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ও, সাজনার একটা গুণের কথা না বললেই নয়। এর বেঁচে যাওয়ার ক্ষমতা, মানে রিজেনারেশন পাওয়ার এতটাই বেশি যে মাত্র দেড় থেকে দুই হাত লম্বা একটা ডাল মাটিতে পুঁতে দিলেও সেখান থেকে নতুন গাছ জন্মায়। মজার বৈশিষ্ট্য না?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর আমলকি বা আমলার কথা। <em>Phyllanthus emblica</em> নামের এই আমলকিকে অনেকেই চিনি, কিন্তু আমলকির গাছ দেখেছেন এমন মানুষ কয়জন আছেন? সমস্যা নেই, আজ এখানেই এর দেখা পাওয়া যাবে। আমলকির পাতা দেখে প্রথমে যৌগিক পাতা মনে হয়, আসলে সরু ডালের দুই পাশে ছোট ছোট সরল পাতা সারি করে সাজানো থাকে, আর দূর থেকে পুরো ডালটাকে দেখতে লাগে দ্বিধার করাতের মতো। গাছে যখন আমলকি পাকে তখন পাতা ঝরে গেলেও এত উঁচু গাছ থেকে আমলকি পাড়া খুব একটা সহজ কাজ না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই দিক দিয়ে আবার তেঁতুলের গাছ একটু রক্ষণশীল, পাতা দিয়ে তেঁতুলকে আড়াল করে রাখে। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Tamarindus indica</em>। রাখবেই বা না কেন, বিশাল কাণ্ড, ২৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখার পরও পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে একটা ঢিল ছুঁড়ে একটা তেঁতুল পেড়ে খেতে একবার না একবার মন চাইবেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পানি জারুল নামে যাকে চিনি তার বৈজ্ঞানিক নাম <em>Lagerstroemia floribunda</em>, অন্য নামও প্রচলিত আছে। জারুলের পরিবারের গাছ, তাই ফুলগুলো দেখতে জারুলের মতোই, কিন্তু সাদা আর গোলাপির দুই তিন রঙের মিশ্রণ একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বেশ বড় ধরনের গাছ।</p>



<h2 class="wp-block-heading">একটু ভেতরে পলাশ, কাঠগোলাপ আর নাগেশ্বরের সারি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">পলাশের দেখা পাওয়া যায় একটু ভেতরের দিকে। <em>Butea monosperma</em> নামে খ্যাত এই পলাশের ফুল তো সবাই চেনেন, আর পলাশ নিয়ে যত গান আছে সেগুলোই বা কে না শুনেছে। পলাশ গাছ চেনার এক উপায় এর পাতা। একটা পাতায় তিনটা পত্রক, মাঝের পত্রকটার আকার দুই পাশের দুটোর থেকে একটু আলাদা, আর পত্রকগুলোর আকারটাও খুব মজার, গোলগাল, চ্যাপ্টা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তার পাশে আছে গোলাপি কাঠগোলাপ। লাল আর গোলাপি মিশিয়ে সুন্দর এক রূপ হয়েছে তার। আরও বেশি জানতে চাইলে এর বৈজ্ঞানিক নামটা জেনে নিন, <em>Plumeria rubra</em>, এটাই হবে আপনার খোঁজার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কার্জন হলের মাঝ দিয়ে চলে গেছে রাস্তা। সেই রাস্তার দুই পাশ জুড়ে সারি সারি লাগানো নাগেশ্বর, <em>Mesua ferrea</em>। খুব সুন্দর করে ছেঁটে গোলগাল বানিয়ে রাখা হয়েছে গাছগুলোকে। নাগেশ্বরের ফুল খুব সুন্দর হলেও আমাকে এর কচি পাতাগুলো বেশি টানে। পর্যায়ক্রমে এর রং বদলানো দেখতে ভালোই লাগে। প্রথমে কচি পাতাগুলো লাল, তারপর হালকা লাল, আর পরিণত বয়সে গিয়ে সবুজ। সেগুলো সবুজ হতে হতেই আবার নতুন কচি পাতা চলে আসে। আর গাছে তো মনে হয় সারা বছরই ফল ঝুলে থাকতে দেখি। টাটকা দুটো বীজ কুড়িয়ে একটায় আরেকটা বাড়ি দিলে ঠক করে একটা শব্দ হয়, শুনতে খুব ভালো লাগে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মাঝখানের গাছগুলো, শেওড়া থেকে গগন শিরিষ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ তো শুধু চারদিকের সীমানা ঘেঁষে থাকা গাছগুলোর কথা বলছিলাম। এসব গাছের মাঝে মাঝে আরও যে গাছগুলো আছে, তার একটা শেওড়া, <em>Streblus asper</em>। খুব পরিচিত একটা গাছ, কিন্তু যে কারণে এত পরিচিতি পেয়েছে, বাস্তবে এতে ভূত বলে কিছু থাকে না। আমি একে চিনি এর খসখসে পাতায়। বল্লম আকৃতির পাতা, আর কেমন একটা কুড়মুড়ে ভাব আছে। দূর থেকে অন্য গাছের চেয়ে একে একটু কালো বলে মনে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মেহগনি তো তার বিশাল দেহের জন্যই লাগানো হয়, বেশ ভালো মানের কাঠ পাওয়া যায়। মেলিয়েসি পরিবারের গাছ বলে পাতার গোড়ার এক পাশ একটু চাপা হয়, আর গায়ের বাকল ফেটে যায় বলে একে চিনতে মোটেও অসুবিধা হয় না। ও, এর ফলগুলো দেখে মনে হবে এক একটা মাইক্রোফোন, যেন সেগুলো দিয়ে সে সবার কথা শোনে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>Couroupita guianensis</em> নামে যে আছে, সেই নাগলিঙ্গম বা ক্যানন বল গাছের বর্ণনা দেওয়ার আগে তার ফুলের কথা বলে ফেলি, কারণ এমন ফুল আর দ্বিতীয়টি আছে কি না সন্দেহ। চমৎকার তার গঠন, লাল পাপড়ি আর তার মাঝে অনেক অনেক পরাগধানী, খুব সুন্দরভাবে সাজানো। এর পাতাগুলোও তেলচকচকে, সুশ্রী। ফুলের দেখা না পেলে গাছে ঝুলতে থাকা কামানের গোলার মতো ফল দেখেও একে চেনা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুই ধারে নাগলিঙ্গম, আর তাদের মাঝে কুরচি। শুদ্ধ ভাষায় <em>Holarrhena antidysenterica</em>, আজকাল অবশ্য <em>Holarrhena pubescens</em> নামটাই বেশি চলে, আর বাংলায় এর আরও কিছু নামের একটি হৈমন্তী। এই গাছের ফুল শুভ্র সাদার একটা সুন্দর উদাহরণ। যখন ফুল ধরে তখন পাতা ঝরে গিয়ে পুরো গাছ জুড়ে শুধু মন কাড়া সাদা সাদা ফুলের গুচ্ছ দেখা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই কুরচির পাশেই আবার ইয়া লম্বা একটা রাজ কড়ই গাছ দাঁড়িয়ে আছে। আমার অবশ্য রাজ কড়ইয়ের চেয়ে গগন শিরিষ নামটাই বেশি পছন্দ। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Albizia richardiana</em>। আমাদের ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের বড় বড় গাছগুলোর মধ্যে এটা একটা। নিচে কোনো ডালপালা নেই, কাণ্ডটা একদম অনেক উঁচুতে গিয়ে তবে অল্প কিছু পাতা আর শাখা দেখা যায়। এতই উঁচু যে প্রতি বছর ফুল ফল হলেও এ পর্যন্ত আমার চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">এবার ডান দিকে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ শুধু বাম পাশই দেখলাম, এবার একটু ডান দিকেও দেখি কী আছে। ডান পাশে চোখ মেললেই প্রথম যা চোখে পড়ে, সেটা ইউক্যালিপটাস। লেবু পাতার সুগন্ধওয়ালা একটা গাছ, বৈজ্ঞানিক নাম <em>Eucalyptus citriodora</em>। দেখে মনে হয় কেউ এর গায়ে সাদা চুন লাগিয়ে দিয়েছে। বেশ লম্বা চওড়া গাছটা ভূতের মতো ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর এই ডিপার্টমেন্টের সামনে আছে বসন্তমঞ্জরী। বসন্তমঞ্জরীর কাণ্ডটা দেখে হয়তো রোগাক্রান্ত হাড়ের মতো কোনো দেহ মনে হতে পারে, কিন্তু যখন এর গোলাপি ফুল আসে তখন এর রূপ হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এই ডিপার্টমেন্টের শেষ প্রান্তে যার ফুল সব সময় চোখে পড়ে, সেটা কাঠগোলাপ। থোকায় থোকায় ধরে থাকে সাদা সাদা কাঠগোলাপ, বৈজ্ঞানিক নাম <em>Plumeria alba</em>। এর পাতার টিপটা সুচালো, আর <em>Plumeria obtusa</em> নামে যে কাঠগোলাপ দেখি, সেটার পাতার টিপ গোল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোতল পাম নামে এক গাছ আছে কার্জন হলের গেটের সামনে, নাম <em>Roystonea regia</em>। প্রথমে দেখে সাধারণ পাম গাছ বলে ভুল করেছিলাম, কিন্তু এর কাণ্ডটায় পাম কিংবা তাল গাছের থেকে একটু ভিন্নতা আছে। তা ছাড়া দ্রুত বাড়ে বলে এই গাছ এখন রাস্তার ধারেও বেশি লাগানো হচ্ছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">চার বছর পর, বায়োকেমিস্ট্রি গেট দিয়ে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">২০২৩ সালে আবার একদিন কার্জন হলে ঢুকলাম, এবার বায়োকেমিস্ট্রি গেট দিয়ে। এই গেট দিয়ে ঢুকলে প্রথমে পাবেন শিউলি, তারপর সামনে যেতে যেতে পাবেন সোনালু। বায়োকেমিস্ট্রির গেটের দিকে তাকালে পাবেন মনিহার, গগন শিরিষ আর সেই গগন শিরিষের গায়ে জন্মানো বটগাছ, তারপর সাইকাস। সামনে বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে এগিয়ে এলে দেখতে পাবেন কাঠবাদাম, ছোট রাধাচূড়া, চালমুগরা। কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের দিকে চেয়ে দেখলে পাবেন নাগেশ্বর, পাইন গাছ, আর মাঝখানে একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছটার নাম সিলভার ওক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কেমিস্ট্রি আর বায়োকেমিস্ট্রির মাঝের রাস্তা ধরে হেঁটে এলে কেমিস্ট্রির দেয়ালের পাশে পাবেন শেওড়া আর গ্রিউয়িয়া। শ্বেতচিতা দিয়ে ঘেরা গোল চত্বরটায়, যার নাম স্বপ্ন চত্বর, পাবেন পান্থপাদপ, স্বর্ণচাঁপা আর কাঠগোলাপ। আরেকটু সামনে এসে রাস্তা যখন সয়েল আর বোটানির দিকে ভাগ হয়ে যায়, তখন সয়েলের দিকে তাকালে পাবেন তাল গাছ, বায়োকেমিস্ট্রির পেছনের দেয়াল ঘেঁষে কাঠগোলাপ আর বোটানির শেষ প্রান্তে আরেক কাঠগোলাপ। অবশ্য দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে সয়েলের চায়ের দোকানের ওই দিকে চেয়ে দেখলে বহেরার মস্ত বড় একটা গাছেরও দেখা পেতে পারেন। আর বোটানির দিকে হাঁটা শুরু করলে পাবেন কেমিস্ট্রির জানালার পাশে থাকা ড্রাসিনা, আর বোটানির ফলকের পাশে ও সীমানা ঘেঁষে বেশ কিছু দেবদারু গাছ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সামনে অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রির দিকে তাকালে বিশাল একটা রেইনট্রি চোখে পড়বেই। বোটানি আর জুওলজির পথ ধরে হেঁটে এলে পর্যায়ক্রমে নাগেশ্বর, স্বর্ণচাঁপা, দেবদারু, লিচু, আর সদ্য লাগানো কুরচি ও ছোট জারুল, মানে ফুরুস গাছের দেখা পাবেন। ভালো করে দেখলে লিচু গাছের নিচে কাঁটামেহেদি দিয়ে লেখা Botany শব্দটাও চোখে পড়তে পারে। হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা যখন ফজলুল হক হল আর জুওলজির দিকে ভাগ হয়ে যায়, সেখানে দাঁড়িয়ে হলের দিকে তাকালে কাঠগোলাপ, গেটের ভেতরে সারি সারি মেহগনি আর নাগেশ্বর, আর পুকুরের কিনারা ঘেঁষে নারিকেল আর সুপারির সারি দেখতে পাবেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জুওলজির দিকে তাকালে পর্যায়ক্রমে পলাশ, রয়েল পামের সারি, হলদে ঘণ্টা, আর শেষে বিশাল একটা রেইনট্রি। জুওলজির দেয়াল ঘেঁষে তুঁতফল আর বসন্তমঞ্জরীর সঙ্গে বাগান বিলাসেরও দেখা পাবেন। নিচের দিকে তাকালে গোলাপি সুখদর্শন আর লঙ্কাজবা। আর ভালো করে দেখলে বুঝবেন, জুওলজির শেষ প্রান্তে একটা বড় বকুল গাছও আছে। অভিযান শুরু হয়েছিল বাম পাশের দেয়ালের বকুল দিয়ে, শেষও হলো এক বকুলে এসে। এত নাম লেখার পরও আমার ধারণা অর্ধেক গাছ বাদ পড়ে গেছে, পরের বার গেলে সেগুলোর পালা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/udbhidpremir-chokhe-curzon-hall/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অপ্রত্যাশিত জায়গায় ফক্সটেলের দেখা</title>
		<link>https://uponnas.com/oprottashito-jaygay-foxtail-dekha/</link>
					<comments>https://uponnas.com/oprottashito-jaygay-foxtail-dekha/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3738</guid>

					<description><![CDATA[গ্রামের সাধারণ এক আমবাগানে গাছের গায়ে ঝুলছে আট আটটা গোলাপি ফুলের মালা। ফক্সটেল অর্কিডের সঙ্গে এক অপ্রত্যাশিত দেখা, যে সৌন্দর্য আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">একটু কাজে ফ্যামিলির সঙ্গে গিয়েছিলাম কানসাটের ওপারে। কানসাট হাইস্কুল পার হয়ে আরেকটু যেতেই হঠাৎ একটা বাগানের ভেতরে আমগাছে কিছু ফুল চোখে পড়ল। দেখতে খুব সুন্দর। পাতাগুলো লম্বা লম্বা চিরল পাতা, আর ফুলটাকে একটা ফুল মনে হলো না, অনেকগুলো ফুল একটা দণ্ডে গুচ্ছ হয়ে নিচের দিকে ঝুলে আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেখে ফক্সটেলের মতো লাগল, কিন্তু অত গুরুত্ব দিইনি। ছবিতে দেখলেও সচক্ষে এ পর্যন্ত ফক্সটেল দেখিনি, আর ফক্সটেলের মতো দামি অর্কিড গ্রামের সাধারণ একটা বাগানে কোথা থেকে আসবে। অনেকগুলো গাছে দেখতে পেলে কিংবা বাগানের আশপাশে বাড়ি থাকলে বলতাম কেউ লাগিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদূর গিয়ে মনে হলো আরেকটা গাছেও ফক্সটেলের মতো ফুল চোখে পড়ল। এবার আর বিষয়টা অবহেলা করা যাবে না, ভালোভাবে দেখতে হবে সত্যিই সবগুলো ফুল ফক্সটেল, নাকি আমার বারবার ভুল হচ্ছে। একদম নজর তীক্ষ্ণ করে বাগানগুলোর দিকে তাকিয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি, কিন্তু আর কিছুই চোখে পড়ল না। কাজ শেষে ফেরার সময় একই রাস্তা দিয়ে এলাম। এবার আমি পুরোপুরি সতর্ক, আমার ধারণা ঠিক কি না নিশ্চিত হতেই হবে। সত্যিই তো, এ তো ফক্সটেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ছবি তোলা দরকার। একা থাকলে নেমে পড়তাম, কিন্তু আম্মা আছেন, আপু আছে, এখন তো নেমে পড়া যায় না। ঠিক করলাম পরে অন্য কোনো এক সময় এসে ছবি তুলে যেতে হবে। ফুলগুলো আবার সামনে আসতেই অটো থেকে সবাইকে সেদিকে তাকাতে বললাম। ফুলগুলো দেখে আম্মা যা বললেন, শুনে একটু অবাক হলাম। এই ফুল নাকি আগে আমাদের বাড়ির আশপাশের গাছে অনেক হতো, এখন আর দেখা যায় না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ঈদের চতুর্থ দিনে আবার কানসাটে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">পরের দিনই ছবি তুলতে যাব বলে ঠিক করলাম, কিন্তু কাজে কাজে আর যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ঈদের চতুর্থ দিন আমি, মারযুক, জামান, শামীম ভাইয়া আর মোমিন ভাইয়া মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হলাম। শামীম ভাইয়ার সঙ্গে আমি আর মারযুক, আর আবদুল মোমিন ভাইয়ার সঙ্গে জামান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানসাট হয়ে যাচ্ছিলাম বলে ছবি তোলার কথা মনে পড়ল। ভাইয়াকে বললাম গাড়িটা একটু থামাতে, ছবি তুলতে হবে। আমার সঙ্গে মারযুকও গেল, কার ছবি তুলছি সেটা দেখতে। সেখানে গিয়ে কাছ থেকে ফক্সটেলকে দেখার সুযোগ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গাছের গায়ে ওর মূলের রাজত্ব, একদম চারদিকে ছড়িয়ে আছে। দেখে মনে হলো বুড়ো মানুষের হাতে যেমন রগগুলো ফুটে ওঠে, ঠিক সেরকম। আর এর পাতাগুলোর প্রশংসা না করলেই নয়। হালকা সবুজ রঙের, লম্বায় প্রায় আধ হাত, নিচের দিকে যেতে যেতে হঠাৎ সরু হয়ে গেছে, আর পাতার মাঝ বরাবর সুস্পষ্ট একটা খাঁজ। দেখে মনে হয় একদম একটা বাঁটবিহীন তলোয়ার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর ফুল তো নয়, যেন ফুলের মালা ধরে আছে। কেউ যেন একশটারও বেশি ফুল একটা একটা করে সারি বেঁধে গেঁথে গাছের কাণ্ডে রেখে চলে গেছে। একটা মালা নয়, চারপাশে একসঙ্গে ঝুলে আছে আট আটটা মালা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রংটাও নজরকাড়া, গোলাপি, আর গোলাপির সঙ্গে হালকা নীলের আভা। গোড়ার দিকে পুরোনো আর ক্রমে প্রান্তের দিকে নতুন ফুল সাজানো, মানে পুষ্পবিন্যাস রেসিম ধরনের। হালকা মিষ্টি একটা ঘ্রাণও টের পেলাম। দেখেই কিছু বাড়ি নিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হচ্ছিল। কিন্তু আমি নিয়ে চলে গেলে বাকিরা দেখবে কী, এই চিন্তায় আর নেওয়া হলো না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পরগাছা নয়, পরাশ্রয়ী</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফিরে ছবিগুলো শামীম ভাইয়াকে দেখাতেই ভাইয়া প্রায় আম্মার কথাটাই বললেন। এই ফুলের ছবি তুলতে গিয়েছিলে, এগুলো তো পরগাছা। ছোটবেলায় এগুলো নিয়ে কত খেলেছি, আশপাশের বাগানে, বিশেষ করে তোমাদের বাড়ির পেছনের বাগানটার প্রায় প্রতিটা আমগাছে এই ফুল ধরে থাকত, দেখতে খুব ভালো লাগত, কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না। একবার মনে হলো বলি, ফক্সটেল পরগাছা নয়, পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ বা এপিফাইট। কিন্তু বলার সুযোগ হয়নি। পরগাছা আর পরাশ্রয়ী দুটোই অন্য কোনো গাছে বা হোস্টে জন্মায়, কিন্তু পরগাছা হোস্টের ক্ষতি করে, আর পরাশ্রয়ী কোনো ক্ষতি করে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভেবে দেখলাম, বাড়ির পেছনের বাগানে তো মাঝে মাঝেই যেতাম, ক্রিকেট খেলতে কিংবা আম কুড়াতে, কিন্তু কোনোদিন এই ফুল দেখেছি বলে মনে পড়ে না। ভাইয়ার কথা শুনে একটু দুঃখই হলো। আজকাল সেই আগের পরিবেশ আর কোথায়, গাছপালা কেটে সবাই বাড়িঘর বানিয়ে নিচ্ছে, চারদিক ধুলাবালিতে ভরে যাচ্ছে। সত্যিই তো, মানুষ পরিবেশের যা অবস্থা করেছে, তাতে মানুষ নিজেই থাকতে কষ্ট পাচ্ছে, আর এই ধরনের সেনসিটিভ গাছপালা আর পোকামাকড় কীভাবে বাঁচবে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ফক্সটেলের আসল পরিচয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বাসায় এসে শুরু হলো ফক্সটেলের তথ্য জোগাড় করা। আসলে এই ফুলের বাংলায় কোনো নাম নেই বলে ইংরেজি নাম fox tail থেকেই বাংলায় ফক্সটেল চলে এসেছে, আর এক কথায় অর্কিড। কিছুটা শিয়ালের লেজের মতো দেখতে বলেই এই নাম। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Rhynchostylis retusa</em>, Orchidaceae পরিবারের একজন সদস্য। এরা সাধারণত আর্দ্র আর ছায়াযুক্ত জায়গায় বড় কোনো গাছের কাণ্ডে ভালো জন্মায়, তবে হোস্ট স্পেসিফিক নয়, মানে যেকোনো গাছের কাণ্ডেই হতে পারে। সূর্যের সরাসরি আলো এদের জন্য ক্ষতিকর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের দেশসহ ভারত, নেপাল, মায়ানমার আর চীনে এদের প্রাকৃতিকভাবে দেখা যায়। আমাদের দেশে সর্বত্র পাওয়া গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পাহাড়ি এলাকায় এদের সংখ্যা বেশি। সাধারণত মে মাস থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত ফুল হয়। ফুলে মধু থাকে বলে নানা কীটপতঙ্গ, পাখি আর মৌমাছির আনাগোনা লেগে থাকে এর আশপাশে, বিশেষ করে কার্পেন্টার মৌমাছি ফক্সটেলের পরাগায়নকারী হিসেবে বেশি পরিচিত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্য উদ্ভিদের তুলনায় ফক্সটেলের বৃদ্ধি খুবই ধীর। বীজ থেকে নতুন চারা দেখা একরকম সৌভাগ্যের ব্যাপার, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চারা হওয়ার আগেই বীজ মারা যায়। তবে কৃত্রিমভাবে বংশবৃদ্ধি করা যায়। গোড়া থেকে গজানো কচি চারার নিজের কিছু শিকড় হলে সেটা আলাদা করে অন্য জায়গায় লাগালে সেখানে নতুন গাছ হয়।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আসামের কপৌ ফুল</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এই ফক্সটেল ভারতের আসামে প্রচুর পাওয়া যায়, আর সেখানে অনেকেই বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে লাগান। তবে আসল কথা শুধু সৌন্দর্য নয়, সেখানে এর একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। অসমিয়া ভাষায় এর নাম কপৌ ফুল, আর এটি আসামের রাজ্য ফুল। নতুন বছরের আগমনে, বহাগ বিহুর সময়, আসামের মেয়েরা এই ফুল খোঁপায় পরেন। সেখানে ফক্সটেল ভালোবাসার প্রতীক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফক্সটেলের কিছু ভেষজ ব্যবহারও প্রচলিত আছে। লোকজ চিকিৎসায় টাটকা ফক্সটেল কোমলকারক হিসেবে আর বাতের ব্যথায় ব্যবহার করা হয়। মালাবার অঞ্চলে এই উদ্ভিদ থেকে তৈরি ভেষজ হাঁপানি, মাংসপেশিতে টান, মাথা ঝিমঝিম করা আর বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যায় প্রচলিতভাবে ব্যবহার করা হয়।</p>



<h2 class="wp-block-heading">হারিয়ে যাওয়ার আগে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এত গুণের ফক্সটেল পরিবেশ দূষণ আর অসাধু ব্যবসায়ীদের শিকার হয়ে আজ হুমকির মুখে। শিগগিরই কোনো ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আর বেশি দিন লাগবে না ফক্সটেলের আমাদের মাঝ থেকে বিলীন হয়ে যেতে। হ্যাঁ, মানছি যে বাসায় লাগালে এর একটু বেশি যত্ন করতে হয়, সময়মতো আর পরিমাণমতো পানি দিতে হয়, সার দিতে হয়, না হলে মারা যায়। কিন্তু এত সুন্দর একটা উদ্ভিদের জন্য এটুকু কষ্ট খুব একটা বেশি না, এটুকু তো করা যেতেই পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/oprottashito-jaygay-foxtail-dekha/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আকন্দের সঙ্গে বেড়ে ওঠার গল্প</title>
		<link>https://uponnas.com/akonder-sathe-bere-otha/</link>
					<comments>https://uponnas.com/akonder-sathe-bere-otha/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3734</guid>

					<description><![CDATA[ছয় বছর ধরে যে গাছের কাঁধে পা দিয়ে স্কুলের দেয়াল টপকেছি, জানতামই না সেটা আকন্দ। ফল, সাদা ফুল আর ফুরোতে না চাওয়া ইচ্ছের গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">তখন কেবল নতুন নতুন কলেজে ভর্তি হয়েছি। কীসের একটা ছুটিতে বাসায় গেছি, মনে নেই। সেই সময়ের একটা ঘটনা বলি। ফুফুর বাসায় বসে আছি, হঠাৎ এক বয়স্ক মহিলা এসে ফুফাকে জিজ্ঞেস করলেন, আশেপাশে আকুন্দার গাছ দেখেছিস রে ব্যাটা? ব্যথার জ্বালায় আর পারা যায় না। আকুন্দা প্যালে লিয়া আয় তো। ফুফা জি কাকি বলে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বের হয়ে পড়লেন। আমিও যাব বলে ফুফার সঙ্গে বের হলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদিক ওদিক হাঁটাহাঁটি করে রাস্তার ধারের একটা গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে এলেন ফুফা। আমি চাইতেই বললেন, দেখতে দেব, কিন্তু খবরদার পাতা ছিঁড়বে না, চুপচাপ দেখো, দেখে ফেরত দাও। একটা পাতায় হাত দিতেই রেগে গিয়ে বললেন, এমনি এমনি তো বলিনি, এটা বিষাক্ত বলেই নিষেধ করেছি। বিষাক্ত কথাটা শুনে তাড়াতাড়ি সেটা ছেড়ে দিয়ে একসঙ্গে বাসার দিকে ফিরলাম। সেই মহিলা তখনো বসে ছিলেন। ডালটা তাঁর হাতে দিতেই দেখলাম একটা পাতা ছিঁড়ে নিলেন, আর ছেঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাদা সাদা কষ বের হতে লাগল। সেই কষই তিনি পায়ে লাগিয়ে দিলেন। আগের রাতে নাকি কিছু একটা কামড়ে দিয়েছিল, জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে টনটন করছিল। এটা দিলে নাকি তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ভার্সিটিতে এসে আসল পরিচয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ভার্সিটিতে আসার পর আকন্দের সঙ্গে পরিচয় হয়, আর তখন বুঝতে পারি সেদিনের আকুন্দা এই আকন্দই ছিল। অন্য কোনো গাছ চিনতে ভুল হলেও যে একবার আকন্দ দেখেছে তার ভুলে যাওয়ার কথা নয়, ভুল করারও কথা নয়। অন্য গাছের তুলনায় আকন্দের পাতা, আর বিশেষ করে এর ফুল একদমই আলাদা। পাতাগুলো পুরোপুরি সবুজ না, একটু ধূসর সাদাটে ভাব আছে, আর পুরোটা জুড়ে ছোট ছোট রোম। ফুলের পাঁচটা স্টেমেন একসঙ্গে ফিউজ হয়ে মুকুটের মতো দেখায়, আর তাতে হালকা বেগুনি রং এনে দেয় এমন এক রাজকীয়তা যা সচরাচর অন্য কোনো গাছে দেখা যায় না। সেই জন্যই তো একে ইংরেজিতে Crown Flower বলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ও, আকন্দের পরিচয়ই তো দিইনি। আকন্দের বৈজ্ঞানিক নাম <em>Calotropis gigantea</em>। আমি এতদিন মিল্কি ল্যাটেক্স আর বিষাক্ত মানেই প্রাথমিকভাবে Euphorbiaceae পরিবার ধরে নিতাম, কিন্তু আকন্দের বেলায় এসে আমার এই কমন হিসাব আর খাটেনি। প্রথমে জেনেছিলাম আকন্দের পরিবার Asclepiadaceae; এই পরিবারের উদ্ভিদে সাধারণত দুধের মতো তরুক্ষীর থাকে বলে এদের আরেকটা কমন নাম মিল্কউইড। আজ এতদিন পরে এসে জানলাম, আকন্দ আসলে Apocynaceae পরিবারের, আর সাবফ্যামিলি Asclepiadoideae।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই আকন্দের আদি নিবাস ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো উষ্ণ অঞ্চল। তাই তো সচরাচর একে রাস্তার ধারের উঁচু জায়গায়, বাড়ির উঠোনে, যেখানে পানি কম জমে আর আবহাওয়া শুষ্ক, সেসব জায়গায় বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশে আকন্দ প্রাকৃতিকভাবেই যেখানে সেখানে জন্মায়, তবু কারো ইচ্ছা হলে শাখা কলম বা বীজ থেকে এর বংশ বাড়াতে পারে। একে ঠিক গাছ বলা উচিত হবে না, এটা একটা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, যদিও আজকাল আমরা সব উদ্ভিদকেই গাছ বলে ডাকি। সাধারণত আকন্দ ২ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, জায়গা ভেদে আরো বড়ও হতে পারে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">স্কুলের মাঠের সেই পুরোনো সহযোগী</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদিন আগেও ভাবতাম কেউ আকন্দের গাছ সহজে ভুলতে পারে না, কিন্তু এবার রোজার ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে নিজের কথার ভুল নিজেই প্রমাণ করলাম। প্রতিবারের মতো শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাইস্কুলে আমাদের ব্যাচের ইফতার ছিল। নানা কারণে কোনোবারই এই ইফতারে যেতে পারিনি, কিন্তু এবার আল্লাহতায়ালার রহমতে উপস্থিত ছিলাম। মডেল মাঠে ঢুকেই আকন্দের গাছ দেখে চমকে গেলাম। চমকাব না? পুরো ছয় ছয়টা বছর যার কাঁধে পা দিয়ে স্কুলের প্রাচীর টপকে ক্রিকেটের বল আনতে গেছি, কালুপুর ঘুরতে যাওয়ার শর্টকাট হবে বলে মেনগেট দিয়ে না বেরিয়ে ওদিক দিয়ে বেরিয়েছি, সবার স্কুল পালানোর সহযোগী হিসেবে যার সাহায্য আজও লাগে, সেই গাছটা নাকি আকন্দ। সে এত বিশাল আকার ধারণ করেছে? এই সুন্দর ফুলগুলো কোনোদিন চোখে পড়ল না কী করে? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চেয়েছিলাম তখনই সেই স্মৃতিজড়ানো গাছটার কিছু ছবি তুলি, কিন্তু পারিনি। ইদানীং সমালোচনার ভয় মনের মধ্যে চেপে বসেছে, ছবি তুলতে গেলে সবাই কী বলবে না বলবে। তাই মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম পরে এক সময় এসে ছবি তুলব। ঈদের পরে একদিন গেলাম মডেল স্কুলের মাঠে। আকন্দের গাছটা দেখেই ভালো লাগছিল, একদম ফুলে ফলে ভরা। বয়সের কারণে এর কান্ড একেবারে বেলগাছের মতো চেহারা নিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আকন্দের ফল দেখার তীব্র ইচ্ছা ছিল ভার্সিটিতে ভর্তির পর থেকেই, কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। কিছুদিন আগেই রাসিফকে বলেছিলাম আকন্দের ফল দেখার খুব ইচ্ছা। এভাবে এখানে যে আমার বহুদিনের সেই ইচ্ছা পূরণ হবে, ভাবতেই অবাক লাগে। ফলটা দেখতে একদম একটা নৌকার মতো, বা অর্ধেক চাঁদের মতো। ভেতরে বাদামি বীজগুলো খুব সুন্দর একটা প্যাটার্নে থাকে, একটার উপর আরেকটা সারিবদ্ধভাবে সাজানো। বীজের প্রান্তে থাকে তুলার মতো লম্বা লম্বা রেশম, দেখতে কিছুটা কাশবনে উড়ে যাওয়া কাশের মতো। ভারতীয় উপমহাদেশে বীজের এই তুলা বালিশ ভরতে শিমুল তুলার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সঙ্গে আমার ভাই জামান ছিল, তাই তাকে বললাম একটা ফল পেড়ে ছোট্ট একটা ভিডিও বানিয়ে নিই। ভিডিও বানালাম ঠিকই, কিন্তু অপরিণত ফল দিয়ে, বুঝতেই পারছিলাম না কোনটা পাকা আর কোনটা কাঁচা। আকন্দের কষ বিষাক্ত বলে তাকে বারবার সতর্ক করছিলাম, বলা যায় না, একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসলে শখ দুর্দশায় পরিণত হবে। কখন যে অনেকগুলো ছেলেমেয়ে আমাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে গেছে খেয়ালই করিনি। যখন বুঝলাম, আর কী করার, চুপচাপ উল্টো দিকে হাঁটা ধরে মাঠ থেকে বেরিয়ে এলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">শ্বেত আকন্দের খোঁজে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আকন্দের ফল দেখার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে ভেবে খুব আনন্দ লাগলেও মনের এক কোণে শ্বেত আকন্দ নামের আরেকটা ছোট্ট ইচ্ছা বারবার উঁকি দিচ্ছিল। শুনেছিলাম শ্বেত আকন্দও আছে, এমনকি দেখাও পেয়েছিলাম, তবে কাছ থেকে নয়, বাসে বসে। আমাদের শিক্ষাসফরে গিয়েছিলাম সিলেট। যাওয়ার পথে বেশ কিছু জায়গায় মনে হয়েছিল রাস্তার ধারে শ্বেত আকন্দ ফুটে আছে। এটা আমার ভ্রান্ত ধারণা কি না বোঝার জন্য শহিদুলকে জিজ্ঞেস করলাম, সেও শ্বেত আকন্দ দেখতে পাচ্ছে কি না। প্রথমে সে কিছু না বললেও পরে আমার সঙ্গে একমত হলো। তখন যে কী অবস্থা, বলে বোঝানোর মতো না। শুধু মনে হচ্ছিল বাস থেকে নেমে পড়ি আর কিছু ছবি তুলে নিই। একবার তো মনে হলো স্যারদের বলি বাসটা থামাতে, শ্বেত আকন্দের ছবি তুলব বলে, কিন্তু এটা কি আর বলা যায়। তবু মন মানে না, শামীমকে জিজ্ঞেসও করলাম, স্যারদের কি বাস থামানোর কথা বলা যায়? সে আমাকে এরকম কাজ না করাই ভালো বলে দিয়ে শ্বেত আকন্দকে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছাটা ইচ্ছাই বানিয়ে রেখে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই ইচ্ছাটাও এবারই পূরণ হয়েছে। একা একা গিয়েছিলাম মামার বাড়ি, একটা কাজে। প্ল্যান ছিল যাব, দেখা করব, কাজ শেষ করে চলে আসব। প্ল্যানমতোই সব সেরে বাড়ির দিকে ফিরছি, অটোর সামনের সিটে বসে রাস্তার আশপাশ উপভোগ করছি আর মনে মনে কত কিছু ভাবছি। হঠাৎ মনে হলো রাস্তার ধারে ওটা আকন্দ না, শ্বেত আকন্দ। কিন্তু বিকেলের রোদ গাছটার উপর পড়ছিল বলে ভুলও হতে পারে। একটা ঝুঁকি নিয়েই অটো থেকে নেমে পড়লাম। ততক্ষণে বেশ কিছুটা এগিয়ে এসেছি, সেটুকু হেঁটে ফিরতে হবে। হাঁটছি আর ভাবছি, যা ভাবছি তা না হলে নেমে পড়াই বৃথা। কিন্তু না, বৃথা হয়নি, সেটা শ্বেত আকন্দই ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাস্তায় চলতে ফিরতে আকন্দ দেখলেই সেটা শ্বেত আকন্দ কি না, এই চিন্তা থেকে সেদিন মুক্তি পেলাম। ভালোভাবে দেখলাম গাছটাকে। সাধারণ আকন্দের সঙ্গে পার্থক্য শুধু ফুলের রঙে, আকন্দের ফুল হালকা বেগুনি নীল, আর এই শ্বেত আকন্দ পুরোই সাদা। এর বাইরে বাহ্যিক কোনো পার্থক্য চোখে পড়ল না। ইস, আমার যদি দিব্যদৃষ্টি থাকত, তাহলে হয়তো ভেতরে কোনো পার্থক্য আছে কি না সেটাও ওখানে দাঁড়িয়েই বুঝে ফেলতাম। কল্পনা তো কল্পনাই, তবে একসঙ্গে আকন্দের ফল আর শ্বেত আকন্দ দুটোরই দেখা পেয়ে গেলাম, খুব ভালো লাগছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আকন্দের ভেতরের রসায়ন আর গ্রামের ব্যবহার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এখানেই শেষ না। বাসায় এসে খোঁজ শুরু হলো আকন্দের ভেতরে কী ধরনের যৌগ আছে। পাতা, কান্ড আর শিকড়ে calotropin, calotoxin, calactin আর uscharin এর মতো বেশ কিছু কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড, lupeol, amyrin, taraxerol আর sitosterol জাতীয় ট্রাইটারপিনয়েড, আর gigantin নামের একটা বিষাক্ত যৌগ পাওয়া গেছে। শিকড়ের ছালে giganticine নামের একটা বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যেটা পোকামাকড়ের কাছে এই গাছকে খাবারের অনুপযোগী করে তোলে। এই যৌগগুলোর অনেকগুলোই বিষাক্ত, আর সেই জন্যই আকন্দের কষ নিয়ে এত সাবধানতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবু গ্রামে আকন্দের পাতা, কষ আর শিকড় ঐতিহ্যগতভাবে নানা কাজে লাগানো হয়। পোকার হুলের জ্বালায়, দাদ, খোস আর একজিমার মতো চর্মরোগে, পুরোনো ঘায়ে, বুকে সর্দি বসলে, আর পাতলা পায়খানার সঙ্গে পেট ব্যথায় এর ব্যবহারের কথা পুরোনো ভেষজ বইগুলোতে পাওয়া যায়। সেই বয়স্ক মহিলা যে কষটুকু পায়ে লাগিয়েছিলেন, সেটাও এই ধারারই ব্যবহার। একটা কথা মনে রাখা দরকার, আকন্দের কষ চোখে গেলে বা পেটে গেলে ক্ষতি করতে পারে, তাই গাছটা নাড়াচাড়া করার সময় সাবধান থাকা ভালো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেষে একটা কথা বলি। মানুষের চাওয়া কখনো শেষ হয় না। একটা চাইলাম, পেয়ে গেলাম, তারপর আরেকটা চাই, সেটাও পেলে অন্য একটা, তারপর আরেকটা, এভাবে চলতেই থাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম না। আকন্দের আরেকটা প্রজাতি <em>Calotropis procera</em> দেখার নতুন একটা ইচ্ছা জেগেছে। যদিও জানি এই প্রজাতি আমাদের দেশে দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তবু ইচ্ছাটা থাকল। ইনশাআল্লাহ এক না একদিন দেখা পাব, এই আশা নিয়েই পথ চলা। হয়তো আবারও রাস্তার ধারে কোনো আকন্দ চোখে পড়লে চেয়ে থাকব বোঝার চেষ্টায়, সেটা <em>Calotropis gigantea</em>, নাকি <em>Calotropis procera</em>।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/akonder-sathe-bere-otha/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এলাচ নামের রূপসী ফুল</title>
		<link>https://uponnas.com/elach-namer-ruposhi-phul/</link>
					<comments>https://uponnas.com/elach-namer-ruposhi-phul/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3730</guid>

					<description><![CDATA[মিরপুরের বাগানের দেয়ালের ওপাশে প্রথম চোখে পড়েছিল ফুলটা। পরে আমাদের ডিপার্টমেন্টের বাগানে, যে গাছগুলোকে এতদিন বাঁশ ভেবে এসেছি, তাতেই ফুটল সে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেষজ বাগানে প্রথম এই ফুলটা দেখেছিলাম। আমি, শামীম, মেহেরান আর জামান হাঁটাহাঁটি করছিলাম, হঠাৎ আমার চোখে পড়ল। বাগানের বাইরের দেয়ালের অনেক ভেতরে ছিল, তাই শামীমকে বললাম, ভাই, এই ফুলটার একটা ছবি তোলো তো, দেখেই মেডিসিনাল মনে হচ্ছে। সেদিন ভালোভাবে তার দেখা পাইনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদিন পর মোকাররম ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে আসার সময় দেখলাম ফার্মেসি গার্ডেনের ভেতরে সেই একই ফুল। এখানেও অনেক ভেতরে বলে এবারও গাছটাকে ভালোভাবে দেখার সুযোগ হলো না। তবে একটা প্ল্যান ছিল, কোনো এক সময় আসব, এসে গাছটাকে ভালোভাবে দেখে যাব।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাঁশ ভেবে যাকে এড়িয়ে গেছি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বেশ কিছুদিন আর দেখা হয়নি সেই চোখধাঁধানো ফুলগুলোর সঙ্গে। কিন্তু তার সঙ্গে এমন এক জায়গায় দেখা হলো যে অনেকটাই অবাক হয়েছিলাম। আমাদের ডিপার্টমেন্টের মেডিসিনাল গার্ডেনে যেতেই তার সঙ্গে দেখা। এতদিন যেগুলোকে বাঁশের বনসাই বা বাঁশের অন্য কোনো জাত ভেবে এসেছি, সেখানে এই ফুল। অনেকক্ষণ বোঝার চেষ্টা করলাম এটা আলাদা কোনো গাছ, নাকি সত্যিই তারই ফুল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতদিনে একে কাছ থেকে দেখতে পেলাম। বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, একটা কান্ড মাটির নিচ থেকে উঠে এসেছে, কোনো শাখাপ্রশাখা নেই, আর পাতাগুলো একটার উপর আরেকটা ওভারল্যাপ করে সেই কান্ডকে জড়িয়ে ধরে আছে। পাতার রং একটু গাঢ় সবুজ, আকারে ল্যানসিওলেট। কান্ডের ডগায় লম্বা হয়ে বেশ কিছু ফুল গুচ্ছ বেঁধে ধরে আছে, সাদার মাঝে লালের মিশ্রণ। ফুলগুলোর কী সুন্দর রূপ, একটামাত্র পাপড়ির মতো একটা ল্যাবেলাম আর তার সামনে ঝুলন্ত একটা অ্যান্থার। পুষ্পবিন্যাস রেসিম ধরনের। ছবি তুললাম। ক্যাম্পাসে পেয়েছি বলে নিশ্চিত ছিলাম, এর পরিচয় পেতে বেশি কষ্ট করা লাগবে না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">নাম পেয়ে যে ভুলটা করেছিলাম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বাস্তবেও বেশি সময় লাগেনি, কিন্তু পরিচয় জেনে একটু অবাক হলাম। প্রথমে যে নামটা পেলাম সেটা হলো ছোট এলাচ। মানে আমরা রান্নায় যে এলাচ ব্যবহার করি, এটা নাকি তারই ফুল। শুনে মনে হয়েছিল, সেই জন্যই তো মাঝে মাঝে মনে হয় সবার একটা ছোটখাটো বাগান রাখা দরকার। রাখলে সেখান থেকে শাকসবজি পাবে, ফলমূল পাবে, নানা ধরনের মসলা পাবে, আর সঙ্গে পাবে মানসিক শান্তি, সৌন্দর্য আর আত্মতৃপ্তি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু একটু ঘাঁটতেই বুঝলাম, নামে মিল থাকলেও এটা ঠিক আমাদের রান্নাঘরের এলাচ নয়। এই গাছটার বৈজ্ঞানিক নাম <em>Alpinia calcarata</em>, আর রান্নায় আমরা যে ছোট এলাচ ব্যবহার করি সেটা আসে <em>Elettaria cardamomum</em> থেকে। দুটোই আদা পরিবার বা Zingiberaceae পরিবারের সদস্য, মানে সম্পর্কে কাছাকাছি আত্মীয়, কিন্তু এক গাছ নয়। এর ফুল অনেকটা স্ন্যাপড্রাগনের মতো বলে একে স্ন্যাপ জিনজার বলে। ভারতের নেটিভ, তাই এর আরেকটা নাম ইন্ডিয়ান জিনজার। কার্ডামম জিনজার কেন একে ডাকে, সেই ব্যাখ্যা না হয় অন্য কোনো দিন বলব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আদার মতো এরও মাটির নিচে কন্দ বা রাইজোম হয়, সেখান থেকেই এর উৎপত্তি। এটি একটি পেরিনিয়াল হার্ব বা বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, যা কয়েক বছর বাঁচে। ৪৮টা ক্রোমোজোমের এই উদ্ভিদের কন্দ আদার মতোই ব্যবহার করা যায়। নিজের বাগানে হলে হয়তো মাটির নিচ থেকে কন্দ বের করে দেখতাম, ছবিও তুলতাম। কিন্তু নিজের তো না, কেউ দেখে ফেললে তো শেষ, এই চিন্তায় এই কন্দ স্বচক্ষে দেখার সুযোগ এ পর্যন্ত হয়নি। জানি না হবেও কি না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">কন্দের ভেতরে যা আছে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এর কন্দ, ফুল আর মূলে বেশ কিছু উদ্বায়ী তেল পাওয়া যায়, যার মধ্যে 1,8-cineole, camphene, pinene, camphor, borneol আর methyl cinnamate প্রধান। এর বাইরে quercetin আর vanillic acid এর মতো কিছু যৌগ আর কিছু টারপিনও এতে আছে বলে গবেষণায় জানা গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই গাছের সবচেয়ে বেশি ভেষজ ব্যবহার হয় এর কন্দ বা রাইজোমের। ঐতিহ্যগতভাবে গলা ব্যথা, গলার স্বর ভেঙে গেলে, কাশি, হাঁপানি, বাতের ব্যথা, জ্বর আর হজমের গোলমালে এর কন্দ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে না হলেও ভারতে এর কচি কান্ড রান্না করে খাওয়া হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে একটা কথা ঠিক করে ফেলেছি। এরপর থেকে যদি কোনোদিন খেতে খেতে এলাচ দাঁতের নিচে চাপা পড়ে, তাহলে অন্তত আমি একে বিরক্তির চোখে না দেখে ডিপার্টমেন্টের বাগানের এর রূপসী আত্মীয়টার কথা মনে করে সসম্মানে ফেলে দেব।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/elach-namer-ruposhi-phul/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রিঠাকে এখনো ভালোমতো চিনি না</title>
		<link>https://uponnas.com/ritha-ke-ekhono-chini-na/</link>
					<comments>https://uponnas.com/ritha-ke-ekhono-chini-na/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3726</guid>

					<description><![CDATA[মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের নেমপ্লেটে লেখা রিঠা, কিন্তু আমার চোখে গাছটা পুরোপুরি মেহগনি! শামীমের সঙ্গে ইচ্ছে করে বাধানো একটা তর্কের গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">সেদিন আমরা অনেকেই ছিলাম। আমি, জামান, শামীম আর মেহেরান, মোট চারজন মিলে ঘুরছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ৫৭ নম্বর সেকশনে। নতুন-পুরোনো, পরিচিত-অপরিচিত অনেক গাছগাছালির সঙ্গেই দেখা হচ্ছিল সেখানে। গল্পগুজব করতে করতে হাঁটছিলাম আর গাছগুলো দেখছিলাম, বেশ ভালোই লাগছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে যেতে দেখলাম সেখানে একটা ছোট ভেষজ বাগানও আছে। সেই বাগানে একটু উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করতেই একজন গার্ড কীভাবে যেন আমাদের দেখে ফেলল আর নিষেধ করে দিল। তাই ভেষজ বাগানের পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বেশ কিছু নতুন গাছের সঙ্গে দেখা। তাদের মধ্যে একটি হলো রিঠা, <em>Sapindus saponaria</em>।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মেহগনি, নাকি রিঠা?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">গাছটা দেখে প্রথমেই শামীমকে বলে বসেছিলাম, দেখো মেহগনি গাছ, কিন্তু ভুল করে হয়তো রিঠার নেমপ্লেট লাগিয়ে দিয়েছে। পরে নিজের কথাতেই একটু সন্দেহ হলো। আসলে নিজেই একটু কনফিউজড ছিলাম, নেমপ্লেটটা কি সত্যিই ভুল, নাকি আমি ভুল করছি। শামীম আর আমি বেশ কিছুক্ষণ গাছটাকে দেখলাম। দেখার পর শামীমের মত রিঠার দিকে। মনে মনে আমার মতও রিঠার দিকেই ছিল, তবু আমি মেহগনি বললাম। কারণ জানতাম, মেহগনি বললে ওর সঙ্গে আমার যুক্তিতর্ক হবেই, আর তর্ক থেকে কাজের কিছু তথ্য বের হয়ে আসবে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">তর্কের যুক্তিগুলো</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ওকে বললাম, গাছটাকে মেহগনি মনে হওয়ার কারণ আছে। নেমপ্লেটে রিঠার পরিবার দেওয়া Sapindaceae, কিন্তু পাতাগুলোর গোড়ার দিকটা একপাশে একটু চাপা, যেটা মেহগনি পরিবার Meliaceae-র অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য। তা ছাড়া পাতাগুলো কম্পাউন্ড, পিনেট ধরনের, একদম মেহগনির মতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শামীম আমার সঙ্গে খানিকটা একমত হলেও পরে আবার বলল, মেহগনি পাতার আগাটা এতটা অ্যাকিউট না। তা ছাড়া মেহগনির পাতা গাঢ় সবুজ হয়, অথচ এই গাছের কোনো পাতাই গাঢ় না, সব হালকা সবুজ। ওর কথা মেনে নিয়ে রিঠাকে আরও কিছুক্ষণ ভালোভাবে দেখে চলে গেলাম অন্যদিকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি দিয়ে আর কত দিন</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তবে সত্যি বলতে, এভাবে গাছ চেনা বেশ কষ্টকর। একটার সঙ্গে আরেকটা গুলিয়ে ফেলা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি দিয়ে আর কত দিন? জিন টেস্ট যদি খুব সহজলভ্য হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো। কোনো ঝামেলা, কোনো কনফিউশন ছাড়াই আশপাশের সবকিছু চিনে ফেলা যেত।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সাবানের গাছ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, এই রিঠার ইংরেজি নাম Indian soap, আরও প্রচলিত নাম soapberry। নামটা শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম, কারণ এর অর্থ দাঁড়ায় সাবান। কিন্তু নামটা সত্যিই সার্থক। রিঠার ফল পানিতে ঘষলে সাবানের মতো ফেনা হয়, আর সেই ফেনা দিয়ে কাপড় কাচা আর চুল ধোয়ার চল আমাদের দেশে অনেক পুরোনো। নাম জানলাম, পরিবার জানলাম, সাবানের গল্পও জানলাম। তবু মনে হয়, রিঠাকে এখনো ভালোমতো চিনি না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/ritha-ke-ekhono-chini-na/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সত্যিই ধূপের গাছ হয়!</title>
		<link>https://uponnas.com/dhuper-gach-canarium-resiniferum/</link>
					<comments>https://uponnas.com/dhuper-gach-canarium-resiniferum/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3722</guid>

					<description><![CDATA[স্কুলে যাওয়ার পথে একটা মন্দির থেকে ভেসে আসা সুগন্ধটা ছোটবেলা থেকেই আমার খুব প্রিয়। অনেক বছর পর এক বন্ধু একটা লম্বা গাছ দেখিয়ে বলল, এই দেখো ধূপের গাছ!]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে একটা মন্দির পড়ত। মন্দিরটার পাশ দিয়ে যেতেই খুব সুন্দর একটা সুগন্ধ নাকে এসে লাগত। মাঝে মাঝে একটু উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করতাম, এত সুন্দর সুগন্ধটা আসলে কিসের। দেখতাম ভেতরে মাটির হাঁড়ির মতো একটা পাত্রে কিছু একটা পোড়ানো হচ্ছে, আর তার ধোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুগন্ধটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একদিন এক বন্ধুকে বলেছিলাম, তোমাদের মন্দিরের আশপাশে গেলে খুব সুন্দর একটা সুগন্ধ পাওয়া যায়, আমার খুব ভালো লাগে। সে বলেছিল, এটা তো ধূপের সুগন্ধ। সেই থেকে নামটা আমার কাছে খুব পরিচিত। সুগন্ধটাও ভুলে যাওয়ার মতো নয়, এতটাই প্রিয় যে আজও কোথাও ধোঁয়া দেখলে মনে মনে আশা করি, এই বুঝি ধূপ জ্বালানো হয়েছে। মাঝে মাঝে আশাটা পূর্ণ হয়, আর মাঝে মাঝে পরে কোনো এক সময়ের জন্য তোলা থাকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">শুধু মন্দিরে নয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ধূপ যে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরেই জ্বালানো হয়, এই ভুল ধারণাটা ভেঙেছিল এক আত্মীয়ের বাসায়। তার বাসায় ঢুকতেই হঠাৎ ধূপের সুগন্ধ নাকে এসে লাগল। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ধূপ জ্বালিয়েছেন কেন? তিনি বললেন, ধূপের ধোঁয়া তো অনেক কাজের, এই ধোঁয়ায় মশা চলে যায়। বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলাম সেদিন তার বাসায়, ধূপের ধোঁয়ার নেশায়।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বলধা গার্ডেনে শামীমের ডাক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমের একটা গ্রুপ উদ্ভিদ চত্বরের পক্ষ থেকে বলধা গার্ডেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সুযোগ না বলে সৌভাগ্য বলাই ভালো, কারণ বেশ কিছুদিন ধরেই শহীদুলকে বলধা গার্ডেনে যাওয়ার কথা বলছিলাম। গার্ডেনের দুটি অংশের মধ্যে সাইকি নামের অংশটা সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও উদ্ভিদ চত্বরের বদৌলতে সেখানে ঢুকতে পেরেছিলাম। পরিচিত-অপরিচিত নানা রকম গাছের সমাহার সেখানে। সেই ঘোরাঘুরির গল্প অন্য একদিন করব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইকির একদম শেষ অংশে আমরা সবাই ঘোরাঘুরি করছিলাম, হঠাৎ শামীম ডাক দিল। কাছে গিয়ে দেখি একটা গাছের নিচে বসে বসে কী যেন দেখছে। আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করল, ধূপ দেখেছ? এই দেখো ধূপের গাছ। আমি তো অবাক। ধূপের গাছ মানে কী, তাহলে এই গাছ থেকেই কি সেই ধোঁয়া বানানো হয়? এই গাছের সঙ্গে মন্দিরের ধূপের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি না, আমিও জানি না, শামীমও না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এসব ভাবতে ভাবতে আবার গাছটার দিকে তাকালাম। লম্বা-চওড়া গাছ, নিচের দিকে কোনো শাখা-প্রশাখা নেই। মনে হচ্ছিল একটা ইলেকট্রিক পোল দাঁড় করিয়ে রাখা আছে, আর সেই পোলের মাথায় অনেক অনেক পাতা। কাণ্ডটা খুব মসৃণ, রংটা একটু মাটির মতো, ধূসর বলা চলে। ওই উঁচুতে যে পাতাগুলো দেখা যাচ্ছিল, সেগুলো অনেকটা গর্জনের পাতার মতো। সেই জন্যই প্রথমে এই ধূপের গাছকে আমি গর্জন বলে ভুল করেছিলাম। গাছটার গায়ে বৈজ্ঞানিক নাম লেখা ছিল <em>Canarium resiniferum</em> Bruce ex King, আর পরিবার Burseraceae। দুটোই লিখে নিয়েছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাসায় ফিরে একটু খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম, আমাদের সন্দেহ ঠিকই ছিল। এই গাছের সঙ্গে মন্দিরের ধূপের গভীর সম্পর্ক আছে। গাছের কাণ্ড থেকে এক ধরনের রেজিন চুঁইয়ে বের হয়, সেটাই শুকিয়ে মন্দিরে ধূপ হিসেবে জ্বালানো হয়।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মিরপুরে আবার দেখা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এই ধূপের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছিল মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ৫৭ নম্বর সেকশনে। সত্যি বলতে সেখানেই ধূপ গাছগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে পরিচয় হয়েছিল। অনেকগুলো ধূপের গাছ একদম সারিবদ্ধভাবে লাগানো। ধূপের গায়ে এক ধরনের লম্বা লম্বা দাগ থাকে, সেটা সেখানেই জানতে পারলাম। পাতা একটু শক্ত, ওপরের দিকটা তেলচুকচুকে হলেও নিচের দিকে অনেক রোম থাকায় একটু আলাদা দেখায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু সমস্যায় পড়েছিলাম নাম নিয়ে। এখানে পরিবার Burseraceae একই থাকলেও বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া <em>Canarium zeylanicum</em> (Retz.) Blume। অথচ বলধা গার্ডেনে দেখা আর এখানে দেখা দুটো গাছই দেখতে প্রায় একই রকম। পরে জেনেছি <em>Canarium zeylanicum</em> আসলে শ্রীলঙ্কার একটা প্রজাতি, <em>Canarium resiniferum</em> থেকে আলাদা। তাই দুই গার্ডেনের দুই নেমপ্লেটের কোনো একটা আরেকবার যাচাই করে দেখা দরকার।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ধূপ গাছের পরিচয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের দেশে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিকভাবে ধূপ গাছ জন্মায়, তাই সেখানে এর কিছু স্থানীয় নামও আছে। বারি রাতা, ধনিয়া রাতা বা পাইরাং নামে সেখানে এই গাছ বেশ পরিচিত। শুধু আমাদের দেশেই নয়, পাশের দেশ ভারত, মিয়ানমার আর চীনেও এই গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গবেষণায় এই গাছের রেজিন আর অলিওরেজিনে limonene, alpha-pinene আর amyrin-এর মতো বেশ কিছু টারপিন যৌগ পাওয়ার কথা জানা গেছে, আর বাকল ও কাঠে phellandrene ছাড়াও sitosterol-এর মতো কিছু স্টেরল পাওয়া গেছে। এই গাছের কাঠও খুব কাজের, এই কাঠ দিয়ে ভিনিয়ার আর প্লাইউড তৈরি হয়। ফল আর বীজ ভালো তেলের একটি উৎস, আর অনেক দেশে ফলগুলো খাবার হিসেবেও খাওয়া হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার একটা ধূপের গাছ নিজের বাড়ির পাশে লাগানোর খুব ইচ্ছা আছে। গাছটা বড় হয়ে যদি অনেক অনেক রেজিন দিতেই থাকে, তাহলে সারাদিন সেগুলো শুকাব আর রাতে জ্বালিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাব।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/dhuper-gach-canarium-resiniferum/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সুখদর্শনের সময় হয়েছে</title>
		<link>https://uponnas.com/sukhdarshaner-somoy-hoyeche/</link>
					<comments>https://uponnas.com/sukhdarshaner-somoy-hoyeche/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3718</guid>

					<description><![CDATA[অক্টোপাসের মতো ছড়ানো সাদা ফুল, না ফোটা ম্যাজেন্টা কুঁড়ি, আর ভয় ধরানো এক নাম, পয়জন বাল্ব। ক্যাম্পাসের স্পাইডার লিলিদের পেছনে আমার ছোটাছুটির গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আগে যখন খালাতো ভাই আরিফুলের বাসায় থাকতাম, তখন কার্জন হলে আসতাম নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির তোরণের রাস্তা ধরে। দুই রাস্তার মাঝে লাগানো নানা ধরনের উদ্ভিদের দেখা পেতাম বলে হাঁটতে ভালোই লাগত। কোনটার পরে কোনটা আছে, একদম যেন মুখস্থই হয়ে গিয়েছিল। তখন সবগুলোর নাম না জানলেও উদ্ভিদগুলো পরিচিত হয়ে উঠেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ একদিন দেখলাম, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের গেটের সামনে, যেখানে দুই রাস্তার মাঝের লনটা শেষ হয়েছে, সেখানে খুব সুন্দর ফুল ফুটেছে। সাদা রঙের ফুল। ফুলটার একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। পাপড়িগুলো চারপাশে এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, দেখে মনে হয় একটা অক্টোপাস তার হাতগুলো চারদিকে ছড়িয়ে রেখেছে, অথবা একটা মাকড়সা তার আট পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর হলুদ রঙের পুংকেশরগুলো সেই ছড়ানো পাপড়ির ফাঁক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">অক্টোপাস নাকি মাকড়সা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যে উদ্ভিদটাতে এই ফুলগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা দেখতে কিছুটা ঘৃতকুমারীর (<em>Aloe vera</em>) মতো হলেও দুটো উদ্ভিদে অনেক পার্থক্য আছে। পাতাগুলোও নজরকাড়া। এই ধরনের পাতা আগেও দেখেছি, কিন্তু এত বড় দেখিনি। একদম লম্বা, পুরু বাঁশপাতার মতো, কিন্তু বিশাল সাইজের, মসৃণ আর তেল চুকচুকে সবুজ। হাত দিয়ে মাপতে গিয়ে দেখি পাতার তুলনায় হাতই ছোট। অনেকক্ষণ দেখার পর একটা ছবি তুলে আবার ক্লাসের উদ্দেশে রওনা দিলাম। যেতে যেতে দেখি আরও বিভিন্ন জায়গায় এই উদ্ভিদে ফুল ধরে আছে। দেখে ভালোই লাগছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে যেতেই আবার মনে হলো, এই ধরনের পাতাওয়ালা উদ্ভিদ তো জুওলজি ডিপার্টমেন্টের সামনেও দেখেছি। তাহলে সেখানে গিয়ে ফুলগুলো নিয়ে আরও কিছু সময় ভাবা যাবে। গিয়ে দেখলাম পাতা একই ধরনের হলেও সেখানে এখনো পুরোপুরি ফুল আসেনি, শুধু কুঁড়ি হয়েছে। কিন্তু কুঁড়িগুলোর রং সাদা না, একটু লাল কিংবা ম্যাজেন্টা। এখন কী করা যায়? দুটোই কি একই উদ্ভিদের আলাদা আলাদা রঙের ফুল, নাকি দুটো আলাদা প্রজাতি? এই নিয়ে মহা বিপদে পড়লাম। নামই জানি না, তার ওপর আবার এই সমস্যা। তখন এই নিয়ে আর বেশি চিন্তাভাবনা করিনি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বইয়ের পাতায় পরিচয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদিন পর একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতেই চোখে পড়ল সেই ফুলের পরিচয়। নাম দেওয়া ছিল সুখদর্শন। ফুলটি দেখলে সুখ পাওয়া যায় কি না জানি না, তবে নামটা খুব সুন্দর। আরেকটি নাম বড় কানুর। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Crinum asiaticum</em>। ইংরেজি নামের সঙ্গে আমার কল্পনা মিলে গেল: spider lily, giant crinum lily। কিন্তু আরেকটা ইংরেজি নাম দেখে একটু চিন্তায় পড়লাম। নাম দেওয়া ছিল poison bulb। তাহলে কি এর দেহটাই বিষাক্ত?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আগের দিন তো অনেকক্ষণ পাতা ধরে নাড়াচাড়া করেছিলাম, এবার কী হবে ভেবে একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। এর রস ত্বকে লাগলে নানা রকম জ্বালাপোড়া হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, আর খেয়ে ফেললে পাকস্থলীতে সমস্যা, সঙ্গে সঙ্গে বমি, পেটের পীড়া, এমনকি ডায়রিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারত। ভাগ্যিস খেয়ে দেখিনি, ভেবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। কেউ না জেনে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে প্যারালাইজড পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। শামীম সব সময়ই বলে, অপরিচিত কোনো কিছু দেখলে মুখে দিবা না। যাক, তার কথা শুনে বেঁচে গেছি তাহলে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">লিলি নামের লিলি নয়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সুখদর্শন Amaryllidaceae পরিবারের সদস্য দেখে একবার একটু সন্দেহ হলো। সাধারণত বাল্ব জাতীয় উদ্ভিদগুলো Liliaceae পরিবারের সদস্য হয়, কিন্তু এটা আবার কোন পরিবারের কথা বলছে? সঠিক তথ্য জানার জন্য অনেক কিছু খুঁজতে শুরু করলাম। পরে জানতে পারলাম, নাম স্পাইডার লিলি হলেও এটা সত্যিকার অর্থে লিলি না। দেখতে কিছুটা লিলির মতো, তাই রূপক নাম তার।</p>



<h2 class="wp-block-heading">টিএসসির গোলাপি অপরূপা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">পরে একদিন টিএসসিতে কী একটা কাজে যেন গিয়েছিলাম। ক্যাফেটেরিয়ার দিকে যাব বলে মেইন গেট দিয়ে ঢুকতেই ডানে একটা ফুলের দিকে চোখ গেল। কিছুক্ষণ ভাবলাম, এটাই কি সেই গোলাপি সুখদর্শন, যেটা ফোটার অপেক্ষায় এতদিন জুওলজির সামনে সময় দিচ্ছিলাম? মনে মনে ভাবলাম, ভালোই হলো, অবশেষে তাহলে পেয়ে গেলাম। সেই অপরূপার ছবি তুলে নিলাম। তবে আরেকটা বিষয় খেয়াল করলাম, এটির ফুলও সাদাটার তুলনায় বড়, পাতাও বড়। দেহের চেয়ে পাতা তিন-চার গুণ বড়। তবে বাকি সবকিছু হুবহু একই রকম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে বুঝতে পারলাম, এই দুটো উদ্ভিদ আসলে আলাদা প্রজাতি। এটি লাল স্পাইডার লিলি, লাল সুখদর্শন, বৈজ্ঞানিক নাম <em>Crinum × amabile</em>। আর হ্যাঁ, এটি একটি সংকর প্রজাতি। আমার কাছে দুটোই বেশ পছন্দ হয়েছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বিষ আর ভেষজ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, সুখদর্শনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যৌগ আছে। এর রাইজোমে লাইকোরিন, ক্রিনিন, ক্রিনামিন, হিম্যানথামিনের মতো বেশ কিছু অ্যালকালয়েড পাওয়া যায়। কন্দে থাকে হিপিয়াস্ট্রিন, পাতায় চেরিলিন, আর বীজে ক্রিনামিন ও লাইকোরিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিষাক্ত হলেও এই সুখদর্শনের লোকজ চিকিৎসায় নানা ব্যবহার আছে। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কথা অনেক শুনেছি, কিন্তু বিষাক্ত একটা গাছ যে ওষুধের কাজেও লাগে, সেটা এই প্রথম দেখলাম। লোকজ চিকিৎসায় এর পাতার রস নাক-কানের ব্যথায় ব্যবহার করা হয়। যাদের প্রস্রাব কম হয়, তাদের জন্যও এই উদ্ভিদ ব্যবহারের চল আছে। অনেকের নখের গোড়ায় ইনফেকশন হয়, সেখানেও সুখদর্শনের পাতা লাগানোর প্রচলন আছে। তবে যেহেতু বিষাক্ত, তাই অভিজ্ঞতা ছাড়া এই ধরনের চিকিৎসা করে আমি অন্তত ঝুঁকি নেব না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তা ছাড়া সুখদর্শনের ঘ্রাণ আমার পছন্দ হয়েছে। একটু বিষাক্ততা থাক, কিন্তু এই রকম উদ্ভিদ একটা বাগানে থাকলে কন্দ দিয়ে প্রতিবছরই নতুন নতুন চারা বানিয়ে বড় করতে পারব। আর সুখদর্শন বহুবর্ষজীবী হওয়ায় একটা থেকে অনেক অনেক সুখের দেখা পাওয়া যাবে, এই আশা রাখি।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এখানে লেখা ভেষজ ব্যবহারগুলো শুধু জানার জন্য। কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/sukhdarshaner-somoy-hoyeche/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
