<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><?xml-stylesheet type="text/xsl" href="https://uponnas.com/wp-content/themes/uponnas/assets/feed.xsl?ver=1.5.7"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>জীবনের গল্প &#8211; উপন্যাস</title>
	<atom:link href="https://uponnas.com/category/jiboner-golpo/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://uponnas.com</link>
	<description>শব্দে গাঁথা স্মৃতির বিশ্ব</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:53 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://uponnas.com/wp-content/uploads/2026/04/cropped-Uponnas-logo-1-150x150.png</url>
	<title>জীবনের গল্প &#8211; উপন্যাস</title>
	<link>https://uponnas.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বন ভবনে একটি স্মরণীয় দিন</title>
		<link>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/</link>
					<comments>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3958</guid>

					<description><![CDATA[বন ভবনে বিপন্ন আর আগ্রাসী উদ্ভিদ নিয়ে একটা সেমিনার, ৫০০ টাকার এক মজার গোলমাল, আর বাসায় ফেরার পথে খালি সিএনজির লম্বা এক খোঁজ।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">মনে রাখার মতো একটা দিন গেল আজ। সত্যি বলতে, বুড়ো বয়সে সময় কাটানোর খোরাক হয়তো এগুলোই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ বন ভবনে, মানে আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে, বাংলাদেশের উদ্ভিদের রেড ডাটা লিস্ট হালনাগাদ আর দেশের কয়েকটি সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশি উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা সেমিনার ছিল। সেখানে হাজির ছিলাম, তবে নিমন্ত্রণপত্র নিয়ে সে এক লম্বা কাহিনি। বলতে শুরু করলে আরও তিন দিন আগের ঘটনা থেকে বলতে হবে, তাই আর বললাম না। এমনিতেই অনেকের অভিযোগ, আমি নাকি পোস্ট অনেক বড় করে ফেলি, পড়তে অসুবিধা হয়। কিন্তু আমি তো আর ইচ্ছা করে বড় করি না, এটা ওটা বলতে বলতে কখন যে পোস্ট লম্বা হয়ে যায় নিজেই টের পাই না। আর একটা ঘটনা তো টুকরো টুকরো করে বলা যায় না, তখন নিজের কাছেই খাপছাড়া লাগে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, আর ভণিতা না করে আজকের স্মৃতিগুলো মনের ভেতর থেকে একটা একটা করে তুলে আনি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রামপুরা থেকে আগারগাঁও</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সকালে উঠেই শুনলাম সিয়াম প্রোগ্রামে যেতে পারবে না, মনটা একটু খারাপই হলো। তবে আসল প্রোজেক্টে যেন সে যেতে পারে, এই কামনা করেই রওনা দিলাম রামপুরার টিভি সেন্টারে। সেখান থেকে সম্রাট ভাই, রবিন ভাই, ফাহাদ ভাই, আমরা সবাই একসঙ্গে হয়ে যাব আগারগাঁও। বন ভবনের হৈমন্তী অডিটোরিয়ামে ছিল আমাদের আজকের প্রোগ্রাম। বড় ভাইদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হাতিরঝিলের উপর দিয়ে উবারের হাওয়া খেতে খেতে ঠিক সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে গিয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টের বেশ কয়েকজন স্যারকে দেখতে পেয়ে ভালোই লাগল। আর আজ যে স্যারের ক্লাস ছিল, তাঁকেও প্রোগ্রামে হাজির দেখে আমি যে কী খুশি হয়েছিলাম, বলার মতো না। কিছুক্ষণ পরে সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে পড়ল, আর আমাদের বলা হলো, সবার জায়গা সংকুলান না-ও হতে পারে, তাই আপনারা যারা রেড ডাটা লিস্টের না, তারা নিচের করবী কনফারেন্স হলে চলে যান। তাতেই বুঝলাম, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পরেই সেমিনারটা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে, একসঙ্গে দুটোতে থাকা যাবে না। কী আর করা, আমরা সবাই নিচে চলে এলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">করবী হলের প্রজেক্টর আর গ্রামের সেই নেটওয়ার্ক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">করবী হলে গিয়ে মনে হলো, দেশটা সত্যিই ডিজিটাল হয়ে গেছে। ব্যবস্থা মোটেও খারাপ না। সারা হল জুড়ে তিন দিকে তিনটা প্রজেক্টর, আর উপরে যা হচ্ছে সবই জুম অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হচ্ছে। প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা। কত রকমের কত বিচিত্র শব্দ যে হচ্ছিল, নিজে উপস্থিত না থাকলে তা কখনো বোঝা যাবে না। সাউন্ড ঠিক হলো তো শুরু হলো নতুন সমস্যা। বারবার দেখায় নেটওয়ার্ক আনস্টেবল, এই থামে, এই যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহামারির সময় যখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, জুমে ক্লাস করতে গিয়ে ঘণ্টাখানেকের ক্লাসে কতবার যে ডিসকানেক্টেড হয়ে যেতাম তার হিসাব থাকত না। খুবই হতাশ লাগত। কিন্তু আজ আমার এতদিনের সেই হতাশার অবসান ঘটল। সরকারি ভবনে অত্যাধুনিক সবকিছু থাকার পরেও যদি উপরের ঘর থেকে নিচের ঘরে কানেক্ট করতে ব্রডব্যান্ডের নেটওয়ার্ক আসা-যাওয়া করে, তাহলে আমি গ্রামের বাড়িতে বসে হতাশ হব কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইসব ঝুটঝামেলা থেকে রেহাই পেলাম যখন একজন কর্মকর্তা এসে বললেন, আপনারা যারা আছেন সবাই উপরে চলে আসেন, ছড়ানো-ছিটানো কিছু জায়গা বাকি আছে। এক লাফে উঠে দৌড় দিলাম দোতলার হৈমন্তী অডিটোরিয়ামে। গিয়ে দেখি বনমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বন উপমন্ত্রী, জাতীয় হার্বেরিয়ামের প্রধানসহ আরও অনেকে উপস্থিত। শুরু হলো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। তাঁরা অনেকেই নানা বিষয়ে কথা বললেন, দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরলেন, সঙ্গে ভবিষ্যতে কী কী ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করলেন। দেখতে দেখতে সময় কেটে গেল, অনুষ্ঠানের এই অংশও শেষ হলো।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আসল প্রোগ্রাম আর ৫০০ টাকার চমক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">চা বিরতিতে নাস্তা নিয়ে আবার চলে এলাম সেই করবী কনফারেন্স হলে। এবার শুরু হলো আসল প্রোগ্রাম। কারা আগ্রাসী উদ্ভিদ, কিসের ভিত্তিতে তাদের ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা যায়, কারা বিদেশি উদ্ভিদ, কীভাবে তাদের শনাক্ত করা যায়, অনেক কিছুই জানতে পারলাম। সঙ্গে একজন প্রফেসরের কাছে কিছু কথা শুনে অবাকও হলাম। ইউক্যালিপটাস (<em>Eucalyptus camaldulensis</em>), আকাশমণি (<em>Acacia auriculiformis</em>), এই গাছগুলোকে যাঁরা প্রথমে উপকারী বলে দেশে এনে লাগাতে উৎসাহ দিতেন, আজ তাঁরাই এগুলো না লাগানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তাই নতুন কোনো গাছ উপকারী হবে নাকি অপকারী, সেটা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে বলা যায় না, কিছু সময় পরে বোঝা যায়। আর আরেকটা কথা, অন্য দেশে যে গাছ উপকারী, আমাদের দেশের জন্যও সেটা উপকারী হবে, এমনটা না-ও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটা বিষয় অনুভব করলাম। আজকের সেমিনারে দেশের সেরা উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন বলেই ধারণা করি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেমন যেন যোগাযোগের অভাব মনে হলো। হয়তো বছরে এমন দু-একটা সেমিনার হয়, আর সেই সেমিনারের আড়াই-তিন ঘণ্টার জন্যই তাঁরা একসঙ্গে হন। কারণ বেশ কিছু বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো সমাধান হলো না, সময় শেষ হয়ে গেল, বিষয়গুলো অমীমাংসিত অবস্থাতেই থেকে গেল। কে জানে কবে এর সমাধান হবে। অবশ্য আমার ধারণা ভুলও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, একে একে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা তাঁদের মূল্যবান আইডিয়াগুলো উপস্থাপন করলেন। এর মাঝেই ঘটল এক মজার ঘটনা। দেখলাম হাতে হাতে একটা খাতা পাশ হতে হতে এদিকে আসছে। ভাবলাম, কে কে আছে হয়তো তার একটা লিস্ট। খাতাটা একটু কাছে আসতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। নামের পাশে টাকার একটা ছক। দেখলাম ফাহাদ ভাই আগের পাতাগুলো উল্টে দেখছেন কে কত টাকা দিয়েছে। সবাই ৫০০ টাকা করে দিয়েছে। রবিন ভাইও তা-ই দিল। আমি আবার সামনে বসা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনিও তা-ই বললেন। কী আর করা, আমিও নাম আর ৫০০ টাকা লিখে পাশের জনের হাতে দিলাম, আর মনে মনে হিসাব করলাম, ৫০০ টাকা দিয়ে একটা সেমিনারে এলাম। একটু অনুশোচনাও হচ্ছিল, ৫০০ টাকা দিতে হবে আগে জানলে হয়তো আসতামই না। তারপর ভাবলাম, কত টাকা কত দিকে যায়, এমন তথ্যবহুল সুন্দর একটা সেমিনারের জন্য না হয় দিলামই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণ পরে একজন কর্মকর্তা সবার হাতে হাতে একটা করে খাম দিয়ে গেলেন। সেই চমক, সেই। খামের ভেতর থেকে কাগজের মতো একটা কিছু বের করে দেখি ৫০০ টাকার এক কড়কড়ে নোট। কী যে চমক ছিল এটা। আমি তো হেসে কুটিকুটি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">খাবারের ব্যাগ আর বিলিম্বি গাছ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বেশিক্ষণ আর বসে থাকতে হলো না। অল্পক্ষণ পরেই সেমিনার শেষ, খাবারের ব্যাগ চলে এল। ব্যাগ খুলতেই স্টেজের মতো সাজানো খাবারের সব বাটি। দেখেই আমাদের ডিপার্টমেন্টের খাবারের কথা মনে পড়ে গেল। ডিপার্টমেন্ট যে আরও কত দিন বন্ধ থাকবে, আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। অনেক দিন পর বড় ভাইদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে দুপুরের খাবার শেষ করলাম। শুধু মনে হচ্ছিল, জহিরের ক্যান্টিনে ঘাসের উপর বসে সবাই মিলে দুপুরের খাবার কত দিন খাই না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু বিশ্রাম নিয়ে এবার বন ভবনকে বিদায় দেওয়ার পালা। ধীরেসুস্থে গেট দিয়ে বেরিয়ে চলে যাব, ঠিক সেই সময় একটা বিলিম্বি গাছ (<em>Averrhoa bilimbi</em>) চোখে পড়ল। আমি ছোট মানুষ, হাতই পেলাম না। দিপন কিছু বিলিম্বি পেড়ে দিতে সাহায্য করল। তারপর রবিন ভাই আর দিপন দুজন দুদিকে চলে গেল। আর আমি, ফাহাদ ভাই আর সম্রাট ভাই রওনা দিলাম বাসায় ফেরার সিএনজির খোঁজে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">খালি সিএনজির খোঁজে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে আছি আইডিবি ভবনের সামনে, সিএনজি নাই তো নাই। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সবাই আবার রাস্তা পার হয়ে ওপারে গেলাম। এপাশে যেগুলো দেখে এলাম সেগুলো সব ভরা, খালি নাই তো নাই। এখানেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সম্রাট ভাই বলল, চলো রিকশায় ফার্মগেট চলে যাই, সেখানে সিএনজি পাওয়া যাবে। কথামতো ফার্মগেটের দিকে যেতে যেতে অনেক সিএনজি দেখে কী মনে হলো, বিজয় সরণিতে নেমে পড়লাম। নেমেই এক বোকামি করলাম। অগুনতি সিএনজি যায়, কিন্তু একটাও খালি নাই। সেখানে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কোনো উপায় না দেখে হাঁটা ধরলাম। কাদা-পানিতে হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালাম ফার্মগেটের আগের লিংক রোডে। আবারও একই অবস্থা, কোনো সিএনজি ফাঁকা নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার তো সম্রাট ভাই একদম বসেই পড়ল। উবারে কল দিয়ে প্রথমটা ক্যানসেল, আরেকটা রিসিভ করল, কিন্তু কেন জানি না দ্বিতীয়টাও ক্যানসেল। হঠাৎ একটা সিএনজি ফাঁকা দেখে ভাই চিৎকার দিয়ে উঠল। সিএনজির পাশে যেতেই আরেকটা ফাঁকা সিএনজি এসে সেখানেই থামল, ভালোই হলো। প্রথমটা ভাড়া বেশি চাইল বলে ভাই রাজি না হয়ে পরেরটার ভরসায় ছেড়ে দিল। দ্বিতীয়টাকে জায়গার নাম বলতেই যাব না বলে চলে গেল। প্রথম জনকে তার চাওয়া ভাড়াই দিতে চাইলাম, কিন্তু সে আর ফিরে তাকাল না। চলে গেল তো গেলই। আমরা তো একদম হতাশ। অবশেষে কীভাবে যেন একটা সিএনজি ম্যানেজ হলো, তাতে করে বাসায় ফিরে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিনটা ভালোই ছিল, স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শেষে ধন্যবাদ জানাই জসীম উদ্দিন স্যারকে। তিনি আমাদের এমন একটা সুন্দর সেমিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেই আজ অনেক কিছু জানতে পারলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এর কয়েক সপ্তাহ পরেই আমরা রওনা দিয়েছিলাম রেমা-কালেঙ্গার পথে। সেই দিনগুলোর গল্প আছে &#8216;রেমা-কালেঙ্গার দিনগুলো&#8217; সিরিজে।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সবই নিয়তি</title>
		<link>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/</link>
					<comments>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3954</guid>

					<description><![CDATA[যমজ ভাইয়ের বই কিনতে নীলক্ষেতে গিয়েছিলাম, আর দোকানদার আমাকে ভাই ভেবেই বসলেন। এরপর যা ঘটল, তাকে নিয়তি ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">২০২০ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। আমার পরীক্ষা শেষ, ক্লাস শুরু হব হব করছে, আর জামানের ততদিনে পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। একদিন সে বলল, তুমি তো ফ্রি আছ, নীলক্ষেত গেলে আমার কিছু বই কিনে দিয়ো তো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্য সময় হলে হয়তো কাজটা করার জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিতাম, কিন্তু দেখলাম সত্যিই তার সময় নেই। বেচারার জন্য একটু মায়া হলো, তাই বললাম, ঠিক আছে, কী কী বই লাগবে একটা লিস্ট করে দিয়ো। সে প্রথমে অনেকগুলো বইয়ের একটা লিস্ট ধরিয়ে দিলেও পরে বলল, এখন তো সব লাগবে না, তুমি এটা, এটা আর এটা, মোট এই ৩টা বই কিনলেই হবে। আর নীলক্ষেতে অমুক দোকানে গেলে এই বইগুলো পেয়ে যাবে, খুঁজে বেড়াতে হবে না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ফাল্গুনীর প্রথম ট্রিপ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">পরের দিন নীলক্ষেতে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্যাম্পাসে গেলাম, কিন্তু পুরো ক্যাম্পাস ঘুরেফিরে দেখতে গিয়ে নীলক্ষেত যেতে একটু দেরি হয়ে গেল। জলদি সব কিছু সেরে ফেলতে না পারলে ফাল্গুনীর প্রথম ট্রিপ মিস করব। তাই তাড়াহুড়ো করে জামানের বলা সেই দোকানে গেলাম। আমি যেমন ভেবেছিলাম, দোকানটা তেমন খুব একটা বড় না। যা-ই হোক, সেখানে ঢুকতেই দোকানে যিনি বসে ছিলেন তিনি বললেন, কেমন আছেন? আজকে আপনার ক্লাস নাই?</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁর কথা শুনেই বুঝলাম, লোকটা জামানকে চেনেন, হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর কাছ থেকেই বই কেনে। কিন্তু এখন আমি কী করি? তাঁকে কি বলব যে আপনি হয়তো আমাকে জামান ভেবেছেন, আসলে আমি সে নই, আমি তার যমজ ভাই, সে EEE-তে পড়ে আর আমি বোটানি ডিপার্টমেন্টে, সে বই কিনতে আসার সময় পায়নি তাই তার বই আমি কিনতে এসেছি, ইত্যাদি ইত্যাদি? এত কিছু বলার সময়ও তো নেই, দেরি করলেই ফাল্গুনী মিস। তা ছাড়া অচেনা লোক বুঝতে পারলেই তো বেশি দাম চেয়ে বসবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে বললাম, জি ভাই, আজকে আমার ক্লাস নাই, আমার ছুটি চলে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ল্যাও ঠ্যালা সামলাও</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি ওপরে উঠে খুঁজে খুঁজে একটা বই বের করে দিলেন। দিয়ে বললেন, ভাই, এই বইটা নেন, আর আপনি যে ২য় বইটা চেয়েছেন, সেটা আপনার ডিপার্টমেন্টে আমি ৩০ কপি পাঠিয়েছি গত পরশু। আপনার সিআর অভিজিৎকে কল দেন, আরও কপি লাগলে আমি আপনার ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেব। ল্যাও ঠ্যালা সামলাও। এখন কী করি? জামানকে কল দিলাম, কিন্তু সে কলটা কেটে দিল। একটা মেসেজ এল, সে ক্লাসে আছে, কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শেষ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর কী করার, পরে বাড়ি গিয়ে জামানকে বিষয়টা বলব, যেন সে তার সিআরকে জানায়। কিন্তু এখন তো সেটা সম্ভব না, তাই বিষয়টা একটু এড়ানোর চেষ্টা করলাম। বললাম, আচ্ছা ভাই, আমি তাকে জানিয়ে দেব, আর কত কপি লাগবে সেটাও বলে দেব। এই বলে তাঁর মোবাইল নম্বরটা চেয়ে নিলাম। মনে মনে ভাবলাম, এই যাত্রায় একটুর জন্য বেঁচে গেলাম। কিন্তু এ তো কেবল শুরু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটা বই চাইতেই তিনি বললেন, ভাই, আপনার সিনিয়র রাফি ভাই আছে না, গত বছর তারা এই ৩য় বইটার বদলে এই বইটা নিয়ে গিয়েছিল। এই বলে আরেকটা বই আমার সামনে রাখলেন। রেখে বললেন, ভাই, এটা দুই বছর পর পর লাগে, মানে এই বছর নিলে পরের বছর লাগে না, তার পরের বছর আপনাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই নিয়ে যায়। তাহলে কি এটা কপি করতে দেব ভাই? আর কত কপি লাগবে, একটু আপনার সিআরকে একটা কল দিয়ে কনফার্ম করলে আমি আজকেই কপি করতে দিয়ে দেব, কাল-পরশুর মধ্যে আপনার ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে দেব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার আর কিছু বলে বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই পেলাম না। কল দেন, কনফার্ম করেন বলে বলে এমনভাবে জাপটে ধরলেন যে কী বলব বুঝে পাচ্ছিলাম না। কী আর করার, সবই নিয়তি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বোটানির বই লাগবে না?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁকে বললাম, ভাই, আপনি আমাকে যে ভাবছেন, আমি সে নই। জামান আমার যমজ ভাই, সে সময় পায়নি, তাই আমি তার বই কিনতে এসেছি। কথাগুলো শুনে তিনি বললেন, আচ্ছা ভাই। আমি তো ভেবেছিলাম এই বুঝি বকাঝকা শুরু করবেন, কিন্তু না। তিনি বললেন, ভাই, আপনার বোটানির কোনো বই লাগবে না? তাঁর কথা শুনে মনে হলো, একেই বলে বিজনেসম্যানের স্ট্র্যাটেজি। যা-ই হোক, কত টাকা লাগবে জিজ্ঞেস করে টাকাপয়সা দিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে হতাশাজনক যে ঘটনাটা ঘটে, সেটাই ঘটল। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি ফাল্গুনী চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমি যত দূরে আছি, সেখান থেকে দৌড়েও লাভ নেই, ডাক দিয়েও লাভ নেই। তারপরও সবাই যা করে, একটু পিছু পিছু দৌড় দিলাম, এই আশায় যে যদি জ্যামে পড়ে। কিন্তু কপাল এমনই যে শেষমেশ লোকাল বাসে বাসায় এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতে জামানকে সব ঘটনা খুলে বললাম। পরে জানতে পেরেছিলাম, লোকটা আমার কাছ থেকে বইটার দাম ঠিকই বেশি নিয়েছিলেন। মানে দিন শেষে আমার আম তো গেলই, সঙ্গে ছালাটাও গেল।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ঢাকায় ফিরব, নাকি থেকে যাব?</title>
		<link>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/</link>
					<comments>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3950</guid>

					<description><![CDATA[২০২০ সালের মে মাস। লকডাউন শিথিল হচ্ছে, সবাই ঢাকায় ফিরছে, অথচ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গ্রামের বাড়িতে আটকে থেকে ভেবেই পাচ্ছি না, সবার সঙ্গে আমিও ফিরব কি না।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">একটু খোলামেলাভাবে কিছু কথা বলি। মার্চের শুরুতে যখন প্রথম ঘোষণা এল যে দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার আগে থেকেই বিষয়টা কিছুটা আঁচ করতে পারছিলাম। তাই ১৬ মার্চ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লাম। কিন্তু যতটা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হলো। ফলে এখানেই আটকে গেলাম, ঢাকায় আর ফেরা হলো না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আমার নিজের একটা ধারণা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এতদিন আমার মনে একটা ধারণা ছিল, একেবারেই নিজস্ব ধারণা, কোনো প্রমাণ ছাড়া। মনে হতো, টিভিতে আক্রান্তের যে সংখ্যা দেখানো হয়, আসল সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশি। সঙ্গে এটাও ভাবতাম, অনেক বড় একটা সংখ্যা হুট করে সবার সামনে চলে এলে মানুষ হয়তো প্যানিক হয়ে যাবে, প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবে। দুশ্চিন্তা একজন সুস্থ মানুষকেই অসুস্থ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, আর যারা সত্যিই আক্রান্ত, তাদের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে সেটা না হয় না-ই বললাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঈদের আগে পর্যন্ত আমি এমনটাই ভাবতাম। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম, ঈদের আগে সীমিত পরিসরে সব কিছু খুলে দেওয়া হলো। এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার কারণ বোঝার চেষ্টা করতে করতেই দেখলাম যানবাহনও চালু হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মাথায় নানা রকম ব্যাখ্যা আসছিল। হতে পারে আমাদের কথা ভেবেই সব কিছু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ ছেড়ে না দিলেও যে লুকিয়ে লুকিয়ে যে যার মতো দোকান খুলবে, বাড়ি যাবে, এটা সবাই জানে। ঈদের নামাজের আগে ইমাম সাহেব যে কথাটা বললেন, সেটাও অনেকটা এ রকমই। তিনি বললেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে বলে নয়, হাজার নিষেধ করলেও বাঙালি ঈদের নামাজ পড়বেই, তাই বাধ্য হয়েই নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেন অন্তত কিছু নিয়মকানুন মেনে নিরাপদে নামাজটা পড়া হয়। আবার এর কোনোটাই না হয়ে অন্য কিছুও হতে পারে। আসল ঘটনা কী, বোঝা মুশকিল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সবাই ঢাকায় ফিরছে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ঈদের পর এই নিয়ে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু করার আগেই এখন শুনছি, ১৫ জুনের পর আর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে না, সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। আজ খবরের পাতায় পাতায় একই কথা, ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে, সবাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু এমন কেন? আজই তো দেখলাম আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে। অনলাইনে একটা হেডলাইনে চোখে পড়ল, সর্বোচ্চ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, এক দিনে ২,৫২৩ জন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাহলে এভাবে লকডাউন তুলে নেওয়া কি ঠিক হবে? দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আমি জানি না। হয়তো তাঁরা এমন কিছু দেখছেন, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না। তবে গ্রামবাসী হোক বা শহরবাসী, এই দেশের গুটিকয়েক মানুষ বাদে কাউকে দেখে মনেই হয় না যে করোনায় আক্রান্তের হার প্রতিদিন কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মোড়ে গিয়ে যা দেখলাম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">চিন্তার বিষয় হলো, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও লকডাউনের প্রভাব প্রথমে যেমন ছিল, আজ তার সামান্যতমও নেই, দিন দিন আরও কমছে। গতকাল একান্ত প্রয়োজনে বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয়ে মোড়ে গেলাম। দেখলাম রাস্তা একদম গরম। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, শুধু বাসটাই চোখে পড়ল না, তা ছাড়া রীতিমতো সব কিছুই চলছে, কোনো রকম করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা ছাড়াই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অত মানুষের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কারও মুখে মাস্ক নেই, নিরাপদ দূরত্ব বলেও কিছু নেই। আর তাদের যুক্তিটাও কী সুন্দর। তারা বলছে, এ পর্যন্ত এখানে কারও করোনা ধরা পড়েনি, তাই চিন্তার কিছু নেই। কথাটা ঠিক আছে, কিন্তু তারা বুঝতে চায় না যে এখনো ধরা পড়েনি মানে এই না যে ধরা পড়বে না। আর যত দিনে একজন রোগী শনাক্ত হবে, তত দিনে তার থেকে আরও কত মানুষ আক্রান্ত হবে, তার কি কোনো হিসাব আছে?</p>



<h2 class="wp-block-heading">তাহলে আমি কী করব?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তাহলে কি এতদিন আমি ভুল ভেবে এসেছি? হয়তো টিভিতে যে সংখ্যা দেখানো হয়, সেটাই ঠিক। আর করোনার ভয়ে দিন কাটাচ্ছি শুধু আমি একাই, এমনও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভেবেই পাচ্ছি না এখন আমি কী করব। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যায়, তাহলে কি চারপাশের সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে, নিজের এতদিনের সব চিন্তাভাবনা ভুল মেনে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাব? নাকি নিজের ভাবনাটাই ঠিক ধরে নিয়ে কুরবানির ঈদ পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে থেকে যাব, তারপর ঢাকা ফিরব? উত্তরটা এখনো খুঁজছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এটা পুরোটাই ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনার ব্যক্তিগত পোস্ট, কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শুধু পরিকল্পনা থাকলেই হয় না</title>
		<link>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3942</guid>

					<description><![CDATA[২০২০ সালের লকডাউনের আগে ঢাকায় মাসখানেকের বাজার করে রাখলাম, তারপর হঠাৎ মনে হলো গ্রামের বাড়ি ঘুরে আসি। পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের ফারাকের একদম হাতে-কলমে শিক্ষা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">শুধু আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলেই হয় না, সঙ্গে সেটা সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নও করা লাগে। কেউ যদি এই দুটোর একটা সমন্বয় করতে না পারে, তাহলে অন্তিম ফলাফল শূন্য। কথাটা বুঝতে অসুবিধা হলে একটা বাস্তব উদাহরণ দিই, আর উদাহরণটা আমার নিজেরই।</p>



<h2 class="wp-block-heading">এক মাসের বাজার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এই কিছুদিন আগের কথা, বেশি না, এই মার্চ মাসেরই ১৩ কি ১৪ তারিখ। হঠাৎ বুঝতে পারলাম করোনাভাইরাসের কারণে দেশের পরিস্থিতি ভালো না, যেকোনো দিন জরুরি অবস্থা জারি করে সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ভাবলাম, এই ঘোষণা দেওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলি। এখন না কিনলে ঘোষণা দেওয়া মাত্রই দাম বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে যাবে, এমনকি জিনিসপত্র নাও পেতে পারি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই বাড়িতে পরামর্শ করে ১৫ তারিখ যা যা প্রয়োজনীয়, মাছ-মাংস, তেল-ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, ডিম, লবণ-চিনি, সাবান, ডেটল, তরিতরকারি, সব মাসখানেকের মতো কিনে ফেললাম। বাসা থেকে বের হতে দেবে না? না দিক। কোনো সমস্যা নেই, অন্তত এক মাস নিশ্চিত।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পরের দিনই ঘোষণা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তার পরের দিনই, ১৬ তারিখে, ঘোষণা এল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুদিনের জন্য বন্ধ। বাহ্, আমি তো খুশি। হঠাৎ করেই দুপুরবেলা মনে হলো, এই সুযোগে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। একদম তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, গ্রামের বাড়ি যাব, আর রাতেই রাজশাহী চলে এলাম। সেখানে কিছুদিন থেকে যেদিন গ্রামের বাড়ি এলাম, তার পরের দিন থেকেই ঘোষণা: রাস্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, আর সাধারণ গণপরিবহন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাজার ঢাকায়, আমি গ্রামে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এখন পুরো দেশ বন্ধ। আর ঢাকায় পড়ে আছে আমার সেই পূর্বপরিকল্পনার খাবারদাবার। আমি এখন এই গ্রামের বাড়িতে ভয়ে ভয়ে দোকানে গিয়ে এটা ওটা কিনছি আর খাচ্ছি। মাঝে মাঝে নিজেকে বকাও দিচ্ছি, গ্রামের বাড়ি কেন যে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গল্প এখানেই শেষ। আর শিক্ষাটা? সেটা তো একেবারে শুরুতেই বলে দিয়েছি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিনজনের স্মৃতির পাতায় একদিন</title>
		<link>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/</link>
					<comments>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3938</guid>

					<description><![CDATA[পরীক্ষা শেষে দুই বন্ধুর সঙ্গে কোনো প্ল্যান ছাড়াই একটা দিন: গার্ডেন, মাটির নিচের জাদুঘর, রাস্তার ধারে গাছ চেনার প্রতিযোগিতা, আর শেষে বিরিয়ানির ভোজ।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার রহমতে আজকে খুব সুন্দর একটা দিন কাটল। একদম মনে রাখার মতো একটা দিন। জানি না এমন দিন আবার পাব কি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গতকাল সুজন কল দিয়ে বলেছিল, আজকে যেন ক্যাম্পাসে আসি। এমনিই, কোনো কারণ ছাড়াই, ঘুরতে ফিরতে। পরীক্ষাও শেষ, ছুটির দিন, বাসায় বসে এমনিতেও তেমন কিছু করা হচ্ছিল না। তাই সকালে উঠেই রওনা দিলাম ক্যাম্পাসে। পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুজনের কল। ভেবেছিলাম সে ক্যাম্পাসেই আছে, কিন্তু সে বলে, ঘুম থেকে উঠলাম, আসছি, একটু অপেক্ষা করো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাসিফকে কল দিলাম, সে বলে সেও বাইরে, তারও আসতে একটু সময় লাগবে। কী আর করার, গার্ডেনে গিয়ে একটু ঘুরে ফিরে, কিছু ছবি তুলে হলের দিকে গেলাম। দেখলাম রাসিফ এসেছে, তার সঙ্গে চা খেতে গেলাম। কিছুক্ষণ পরে সুজনও চলে এল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">কোনো প্ল্যান ছাড়াই বেরিয়ে পড়া</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এইবার কী করা যায়? ঘুরব ফিরব ঠিক আছে, কিন্তু কোথায়? কোনো প্ল্যান তো নেই। রাসিফ বলল, চলো গার্ডেনে যাই, অনেক দিন যাওয়া হয় না। সুজনও যেতে চাইল দেখে আমি আর দ্বিমত করলাম না, আবারও গেলাম গার্ডেনে। সেখানে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে কথায় কথায় বলে বসলাম, চলো রমনায় যাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে গেলে একসঙ্গে দুটোই হয়ে যায়। এই বলে বেরিয়ে পড়লাম সেদিকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কী যে ভালো লাগছিল, বলার মতো না। মাথায় কোনো প্রেশার নেই, কোনো তাড়া নেই। নিশ্চিন্ত মনে তিনজন মিলে গল্প করতে করতে হাঁটছি, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে যেতে যেতেই দেখলাম, অনেকে স্বাধীনতা জাদুঘর দেখার জন্য ভিড় করে আছে। আমি কখনো যাইনি, তাই প্রস্তাব দিলাম, চলো সেখানে যাই। রাসিফও নাকি যায়নি, ভালোই হলো। আমার কী একটা অবস্থা, ক্যাম্পাসের একদম পাশেই এই জাদুঘর, কিন্তু দুই দুইটা বছর পার করে তৃতীয় বর্ষে পা দিয়েছি, তবুও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কেউ শুনলে অট্টহাসি দেবে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মাটির নিচের জাদুঘর</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, গেলাম সেখানে। পুরোটাই মাটির নিচে, সবগুলো রুম আন্ডারগ্রাউন্ড। ১৯৭১ সালের পর থেকে বেশ কিছু পত্রিকার খবর, আর তার সঙ্গে স্মরণীয় কিছু ঘটনা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে কৃত্রিম ঝরনাটা। দেখার মতো একটা দৃশ্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাদুঘর থেকে বের হতে হতেই দেখি দুপুর দেড়টা বাজে। রমনা আজকে আর হয়ে উঠবে না, সেটা বুঝতে আর বাকি রইল না। আমরা আবার হলের উদ্দেশে রওনা দিলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রাস্তার ধারে গাছ চেনার প্রতিযোগিতা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আসতে আসতে হঠাৎ সুজন বলে উঠল, নাগেশ্বর গাছ। এটা শুনে রাসিফ বলল, <em>Mesua ferrea</em>। আমি আবার একটু মজা নেওয়ার জন্য বললাম, সমনাম <em>Mesua nagassarium</em>। ভাবলাম, এখানে একটা গাছ চেনার প্রতিযোগিতা শুরু করে দেওয়া যাক। তাহলে ওদের কিছু নতুন গাছ চেনা হবে, সঙ্গে সঙ্গে যেগুলো চেনে সেগুলো আরেকটু রিভাইজ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই সেদিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করলাম, এই গাছটা কে চেনো? দেখলাম দুজনেই চেনে, কিন্তু রাসিফ সায়েন্টিফিক নাম বলে সুজনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল। পরের গাছটার নাম কী, এটা বলাতে রাসিফের আগেই সুজন উত্তর দিয়ে এগিয়ে গেল। তারপরেরটা দুজনেই একসঙ্গে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইভাবে আসতে আসতে রাস্তার ধারের বেশ কিছু গাছের নাম আর বৈজ্ঞানিক নাম জানা হয়ে গেল। ভালোই হলো, ঘোরাফেরাও হলো, সঙ্গে সঙ্গে কিছু পড়ালেখাও। মজার বিষয় হলো, আমরা ল্যাবে গাছ নিয়ে কত কী না করি, কিন্তু বাস্তবে সেই গাছগুলো কজন চিনি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইভাবে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ দেখা গেল, একটা গাছে দোলনার মতো করে দড়ি বাঁধা আছে। রাসিফ আগে ছুটে গেল, তার দেখাদেখি গেল সুজন। দুজনে মিলে পালাক্রমে অনেক কষ্টে সেটায় দোল খাওয়ার চেষ্টা করছে। আমি তো ভাবছিলাম, কেউ একজন দড়ি ছিঁড়ে ধপাস করে পড়বে, কারণ দড়িটা খুব একটা শক্ত বলে মনে হলো না। কিন্তু তাদের বাচ্চামি দেখে এই চিন্তাটা খুবই নগণ্য বলে মনে হলো। সৌভাগ্য যে তারা অক্ষত অবস্থায় দোল খাওয়া শেষ করল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মামুন বিরিয়ানি হাউসে ভোজ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">হয়তো আরও কিছু সময় সেখানেই কাটত, কিন্তু সুজনের ইমার্জেন্সি কিছু কাজ থাকায় যত দ্রুত সম্ভব আমরা হলে ফিরে এলাম। হলে এসে ভাবলাম সবাই মিলে খেতে যাব, কিন্তু এসে দেখি বেনি আমিন খাবার নিয়ে রেডি, মোমিনুরও খাবার প্লেটে নিয়ে বলে, খেয়ে নিলাম। বাইরে হাসিবুরকে বললাম, সেও খেয়ে ফেলেছে। আসলে আরেকটু আগে আসতে পারলে হতো। সমস্যা নেই, আজ হয়নি, অন্য দিন হবে ইনশাআল্লাহ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বের হলাম খাবারের উদ্দেশে। যাওয়ার প্ল্যান ছিল অনেক দূর, কিন্তু এই খিদে আমাদের দূরত্বকে সর্বোচ্চ কমিয়ে নিয়ে এল মামুন বিরিয়ানি হাউসে। তিনজন মিলে গেলাম, সুজনের ট্রিটে ভালো খানাই খেলাম, একদম তৃপ্তি সহকারে খেলাম। এমন খাওয়া খেলাম যে আর হেঁটে ফিরে আসার অবস্থা নেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানেই বসে রইলাম, আর যখন মনে হলো দেহ এবার একটু হাঁটার সায় দিচ্ছে, তখন কোনো রকমে উঠে এলাম হলের দিকে। আসতে আসতে শহীদুল্লাহ হলে খেলা চলছে দেখে গেলাম সেদিকে। আমি আর সুজন চলে এলাম, আর রাসিফ সেখানে থেকে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুজন হলে এসে শুয়েই পড়ল। জিজ্ঞাসা করায় বলল, আমি বাড়ি যাব না। আর আমি আমার ৫.১০-এর ফাল্গুনী ধরে বাসায় ফিরে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চমৎকার একটা দিন কাটল। আবারও চাই, এমন কতগুলো দিন ফিরে আসুক আমাদের জীবনে। এইবার ইনশাআল্লাহ রমনা পার্কে যাব। খুব শীঘ্রই যাব।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্লান্ট ট্যাক্সোনমি কনফারেন্সে একদিন</title>
		<link>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/</link>
					<comments>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3934</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের প্লান্ট ট্যাক্সোনমিস্টদের বাৎসরিক কনফারেন্সে গিয়ে বুঝলাম, আসল সম্মানটা আসে জ্ঞান থেকে। ছিল একের পর এক কঠিন প্রশ্ন, আর এমন একটা খাওয়া যা আজও মনে আছে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আজকে প্রথমবার বুঝলাম, অন্য ইউনিভার্সিটির স্যারেদের কাছে আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যারেদের কথার ওজন কতটা। আজকের প্লান্ট ট্যাক্সোনমি কনফারেন্সে না গেলে হয়তো কখনো বুঝতেই পারতাম না। তবে একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি, এই ওজনটা ইউনিভার্সিটির নামের নয়, জ্ঞানের। সারা দিন চুপচাপ বসে থেকে এইটুকু খুব পরিষ্কার হয়ে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ প্লান্ট ট্যাক্সোনমিস্টসের (Bangladesh Association of Plant Taxonomists) প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সেক্রেটারি, ট্রেজারার, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বেশির ভাগই আমাদের ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় স্যারেদের হাতে। আজকে ছিল অ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক কনফারেন্স। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি আর কলেজের রিসার্চার আর প্রফেসররা তাঁদের গবেষণা নিয়ে এসেছিলেন। একেকজন প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর প্রেজেন্টেশন শেষে সময় দেওয়া হচ্ছিল, যাতে উপস্থিত বাকিরা সেই গবেষণা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">যে বইয়ের লেখকেরা সামনেই বসে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথমেই একজন প্রফেসর তাঁর প্রেজেন্টেশন শুরু করলেন। শুরুতেই তিনি Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh বইটির রেফারেন্স টেনে কিছু তথ্য তুলে ধরলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্যারেরা ধরিয়ে দিলেন, তথ্যটা ঠিক নয়। তিনি একটু ঘাবড়ে গেলেন, আর সেটাই স্বাভাবিক। একজন মানুষ একটা বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলছেন, আর সেই বইয়েরই দুজন লেখক সামনে বসে তাঁর ভুল ধরছেন, ঘাবড়ে না গিয়ে উপায় কী? সামনে বসা তাহমিনা ম্যাম সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি বললেন, কোনো প্রশ্ন থাকলে প্রেজেন্টেশনের পরে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দেওয়া হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রেজেন্টেশন শেষ হতেই আবার প্রশ্ন শুরু হলো। তিনি তাঁর প্রেজেন্টেশনে পানিছিটকি (<em>Phyllanthus reticulatus</em>) গাছটিকে অ্যাকুয়াটিক প্লান্ট হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, এটা অ্যাকুয়াটিক প্লান্ট হয় কী করে, এটা তো মাটিতে হয়। কিছুক্ষণ আলোচনার পর বিষয়টার ফয়সালা হয়ে গেল, পানিছিটকি মাটিতেই হয়। আমরা শুধু আমাদের স্যারেদের জ্ঞানের গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বসে রইলাম। তাঁদের জানাশোনার পরিধি কতটা, সেটা কল্পনাও করা যায় না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">প্রশ্নের পর প্রশ্ন</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা তো শুধু চুপচাপ শুনছি আর অবাক হচ্ছি। অন্য ইউনিভার্সিটির প্রফেসররা একের পর এক প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর আমাদের স্যারেদের নানা রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁদের বেশ ভাবতে হচ্ছিল। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে স্যারেদের একটা কথা। তাঁরা বললেন, এখন তো ইন্টারনেটের যুগ, কোনো কিছুতে সমস্যা হলে একটু যোগাযোগ করলেই তো হয়, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। মাঝে মাঝে আমাদের ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই আপুরাও তাঁদের প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর স্যারেরা তাঁদেরও সমানভাবে নানা প্রশ্ন করছিলেন। নিজের ডিপার্টমেন্ট বলে কোনো ছাড় নেই। আরও ভালো লাগছিল এই দেখে যে স্যারেরাই আবার সেই সমস্যাগুলোর সমাধান বাতলে দিচ্ছিলেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ডিপার্টমেন্ট যখন রেস্টুরেন্ট</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আর খাবারের প্রশংসা না করলেই নয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টে যে খাবার দেয়, তার তুলনা হয় না। একজন বলেছিল, &#8220;ডিপার্টমেন্ট যখন রেস্টুরেন্ট&#8221;। সত্যিই, আজকে যা খেয়েছি তা চিন্তার বাইরে। এমন একটা দিন কাটল, যেটা অনেক দিন মনে থাকবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সেই বুনো সবজির গাছটা</title>
		<link>https://uponnas.com/buno-sobjir-gach/</link>
					<comments>https://uponnas.com/buno-sobjir-gach/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 14:56:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গাছের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/buno-sobjir-gach/</guid>

					<description><![CDATA[অফিস থেকে ফেরার পথে ফুটপাতের দোকানে হঠাৎ ছোটবেলায় খাওয়া একটা বুনো সবজি চোখে পড়ল। সেটা কিনতে গিয়ে মনে এল হারিয়ে যেতে বসা এমন সব সবজির কথা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আজ অফিস শেষে বাসায় ফিরছি। একে তো গরম, তার ওপর জ্যামের রাস্তা। অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি। হঠাৎ &#8216;ঢাকা শহরের মানবসৃষ্ট সবচেয়ে বড় দানব&#8217; কথাটা মনে পড়ে গেল। বসে বসে আশপাশে চেয়ে দেখা ছাড়া কী আর করার। রাস্তার দুদিকে বহুতল ভবনের সারি, আর রাস্তার মাঝে চিকন একটা বিভাজক, যেখানে কিছু গাছপালা আছে। বহুতল ভবন আর দেখতে মন চায় না, তাই সেই গাছপালাই দেখছি। তবে যতই দেখছি, ততই মর্মাহত হচ্ছি। যে কটা গাছ চোখে পড়ল, কোনোটার ডাল ভাঙা, কোনোটার পাতা ধুলোময়লা আর গাড়ির কালো ধোঁয়ায় জীর্ণশীর্ণ, কোনোটার পাতা গাড়ির তাপে, বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে পুড়ে ঝলসে গেছে, আর কোনোটা নিচে মাটি না পেয়ে, চারপাশে বাড়ার জায়গা না পেয়ে মৃতপ্রায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বেচারা গাছগুলো, কী কষ্টের জীবন তাদের! সবাই ধুঁকে ধুঁকে মরছে। কোনো এক কালে গাছপালা ঘেরা পরিবেশে বড় হয়েছি, পাশাপাশি উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলাম বলে হয়তো গাছপালার প্রতি দরদ একটু বেশি, তাই হয়তো তাদের এই করুণ দশা আর সহ্য হলো না। বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে আছি। পাশের লোকটা ঝিমুনি দিয়ে বারবার গায়ে এসে পড়ায় বিরক্ত লাগল, তাই সিট থেকে উঠে দাঁড়ালাম। এমনিতেও বাসা আর বেশি দূরে না। ভাবলাম হেঁটে গেলে হয়তো আগেই পৌঁছাব। সিট ছেড়ে বেরোতেই মাঝের লেনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সেই সিটে বসার জন্য ঠেলাঠেলি শুরু করে দিল। কোনো রকমে ভিড় ঠেলে বাস থেকে নামলাম। ফুটপাতের ভিড় দেখে মনে হলো, আমার মতো আরও অনেকেই &#8216;সামনেই বাসা&#8217; বলে নেমে পড়েছে। সেই ভিড়ের সঙ্গে পিঁপড়ার মতো একজনের পেছনে আরেকজন সারি ধরে বাসার দিকে যাচ্ছি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ফুটপাতের দোকানে ছোটবেলার সবজি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে যেতে প্রতিদিনের মতো রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকানগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে যাচ্ছি। কেউ মাছ নিয়ে, কেউ পোশাক, কেউ ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আবার কেউ শাকসবজি নিয়ে ছোট অস্থায়ী দোকান দিয়েছে। অন্য সময় পাওয়া না গেলেও এই সময়ে সবাই এমন সারি ধরে বাসায় যায় বলে দোকানগুলো এই সময়েই বসে। কেনাবেচাও মন্দ হয় বলে মনে হয় না। আমিও মাঝে মাঝে ভালো কোনো সবজি পেলে বাসার জন্য নিয়ে যাই। মজার বিষয়, কেউ কিছু কেনার জন্য থামলে তার পেছনের তিন-চারজনও ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়, এখানেও যেন এক কৃত্রিম জ্যাম বেঁধে যায়। তারপর ধীরে ধীরে ঠিক হয়, আবার কোথাও আটকায়। এভাবে একটু একটু করে এগোতে এগোতে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে যাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে আজ বাসায় পৌঁছানোর আগেই একটা দোকানের সামনে থমকে দাঁড়ালাম। এক দোকানি একটা বুনো সবজি বিক্রি করছে, যেটা সেই ছোটবেলায় খেয়েছিলাম। তখন গ্রামের বাড়িতে থাকতাম, আর বহুদিন আগের ঘটনা বলে স্বাদ কেমন সেটাও মনে করতে পারছি না। কেজিখানেক কিনে চলে আসতে যাব, ঠিক সেই সময় মনে হলো, তিনি এই জিনিস কোথায় পেলেন একটু না জেনে গেলে রাতে আবার ঘুম হবে না। দোকানিকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল, এর আগে এই সবজি কখনো বিক্রি করেনি, আজই প্রথম এনেছে। যে তাকে এই সবজি দিয়েছে, সে তার পাশের বনজঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেছে। সব সময় নাকি পাওয়া যায় না। তাকে আর বিরক্ত না করে চুপচাপ চলে এলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">যারা হারিয়ে যাচ্ছে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এমন বুনো সবজিগুলো এখন যেন সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি, যেকোনো পরিবেশে টিকে যাওয়ার দক্ষতা বেশি, খরা-বন্যাও সহ্য করতে পারে, কিন্তু তারপরেও এরা অনাদরে, অবহেলায় বেড়ে ওঠে, কারণ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদের ফলন কম। সত্যি বলতে, এদের ফলন মোটেও কম না, এদের ফলনই স্বাভাবিক। কিন্তু বাজারে উচ্চ ফলনশীল কিছু সংকর জাত আসায় তাদের সঙ্গে তুলনা করে এদের &#8216;কম ফলনশীল, নিম্নমানের বুনো সবজি&#8217; বলে আর চাষ করা হয় না। তাই এরা হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ উচ্চ ফলনশীল সংকর জাতের সবজির শুধু ফলনক্ষমতাই আছে, অন্য কোনো গুণ নেই বলে অধিক যত্নের প্রয়োজন হয়। বৈরী আবহাওয়া এরা সহ্য করতে পারে না। পোকামাকড় বা খরা-বন্যা হলেই এসব সবজি আর টিকতে পারে না, শেষে খাদ্যাভাব দেখা দেয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে বলতাম, এই বুনো সবজিগুলো হলো সেই শিক্ষার্থীরা, যারা বুঝেশুনে পড়াশোনা করে, জ্ঞানের গভীরে যায়, পারিপার্শ্বিক সব কাজে অবদান রাখে, সহশিক্ষা কার্যক্রমে পুরোদমে জড়িত, কিন্তু এদের ফলন কম, মানে রেজাল্ট হয়তো গড় বা তার চেয়ে সামান্য ওপরে। আর যাদের ফলন সর্বোচ্চ, মানে সিজিপিএ ফোর, তারা শুধু চারটা বছর পড়ালেখাই করেছে। প্রাপ্তির খাতায় আর কিছু নেই। যদিও কিছু ব্যতিক্রমও আছে, যারা সবদিক দিয়েই সেরা, তাই তো প্রবাদ আছে, যারা রাঁধে তারা চুলও বাঁধে। আসলে আমি এই দুটোর কোনোটাতেই ছিলাম না। কোনো রকমে টেনে চারটা বছর পাস করেছি, তাই তাদের এসব বলে খুব মজা পেতাম। আজ তাদের কেউ উচ্চশিক্ষায় দেশের বাইরে, কেউ গবেষণায় মগ্ন, আর বাকিরা বেশির ভাগই আমার মতো একটা ছোটখাটো চাকরি করেই জীবন পার করছে। বন্ধুদের সঙ্গে মজার আড্ডার এই পুরোনো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠায় একটু স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লাম। এক পা, দুই পা করতে করতে কখন যে বাসার সামনে চলে এলাম, বুঝতেই পারলাম না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেষমেশ বাসায় গিয়ে গিন্নির হাতে বুনো সবজিটা ধরিয়ে দিয়ে রান্না করতে বললাম। সে একটু গরম হলো। বাজারে যা বিক্রি হয় না, তুমি তা-ই কিনে নিয়ে আসো! পারব না এসব ঘাস রান্না করতে। তারপর রাতের খাবারে সেই রান্না করা বুনো সবজিই দুজনে তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। তাকে বলতে যাব, ঠিক সেই সময় সে-ই বলল, থাক, আর বলতে হবে না। বুনো সবজির বিচিগুলো তুলে রেখেছি, কাল ছাদের টবে লাগিয়ে দেব। ও, কাল তো তোমার অফিস বন্ধ, নিজেই লাগিয়ে নেবে। মাটি রেডি করে ছাদের ডান কোনায় রাখা আছে। আর কাল ছাদে গিয়ে দেখবে, আগের নিয়ে আসা বুনো কাঁকরোলের যে ফলগুলো এসেছে, সেগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়েছে কি না। হলে পেড়ে বাসার মালিককে কিছু দিয়ে আসবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পুরোনো অভ্যাসমতো শুয়ে শুয়ে ডায়েরিতে আজকের ঘটনা লিখছিলাম, কিন্তু আর বেশি কিছু লেখা হয়ে উঠল না। অবশেষে বয়সের কাছে হার মেনে ঘুমের জগতে প্রবেশ করলাম।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/buno-sobjir-gach/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইউনিভার্সিটিতে আমার প্রথম পিকনিক</title>
		<link>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/</link>
					<comments>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 14:04:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/</guid>

					<description><![CDATA[বোটানি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে আমার প্রথম পিকনিক। নৌকায় লাল শাপলা দেখা আর জামান ভাইয়ের সঙ্গে তিন পায়ের দৌড়ে প্রথম হওয়ার গল্প।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার রহমতে পিকনিক শেষে বাসায় পৌঁছেই লিখতে বসেছি আজকের এই নতুন অভিজ্ঞতার কথা। আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতিবছর দুটি আউটিং হয়: একটি পিকনিক, যেখানে সব বর্ষের শিক্ষার্থী সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যায়। আরেকটি শিক্ষাসফর, যা প্রত্যেক বর্ষের জন্য আলাদা ইভেন্ট। গতবার আমাদের শিক্ষাসফর হলেও নানা কারণে পিকনিক হয়নি, তাই জানতাম না পিকনিকের সার্থকতা। আজ পিকনিকে গিয়ে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কারণ গতকালের প্রথম নির্দেশনা ছিল ৭টায় রওনা, কিন্তু সর্বশেষ নির্দেশনায় সাড়ে ৬টার মধ্যে উপস্থিতি চাওয়া হয়েছিল। চাইবে না-ই বা কেন? যাব তো সেই জ্যামপূর্ণ রাস্তার তালিকার প্রথম স্থানে থাকা গাজীপুরে: চম্পা রিসোর্ট, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ভোরের বাস</h2>



<p class="wp-block-paragraph">মনে মনে জানতাম, এত সকালে বাস ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে পারবে না। সবাইকে দেখে অভ্যস্ত। তবু বলা যায় না কী হয়, তাই সময়মতোই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলাম। পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুজন কল দিল, তার সঙ্গে কথা হলো। ডিপার্টমেন্টের সামনে গিয়ে দেখি কয়েকজন আছে, বাকিদের কোনো খোঁজখবর নেই। শামীমকে দিয়ে শুরু করলাম: কল দিয়ে বাকিদের অবস্থা জানা আর কয়টা বাজে সেটা জানিয়ে দেওয়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় ৮টার আগেই চারটি বাস নিয়ে ভাওয়ালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো আমাদের বোটানি ডিপার্টমেন্ট। হালকা জ্যাম হলেও ঢুকঢাক ঢুকঢাক গানের তালে তালে ভালো গতিতেই এগোচ্ছিল আমাদের বাস। দুটো পাউরুটি, মিষ্টি, সেদ্ধ ডিম আর আপেল দিয়ে সকালের নাশতাটা ভালোই হলো। সামনের সিটে স্যাররা বসায় প্রথমে একটু বিব্রত বোধ করলেও পুরো রাস্তায় দেখলাম তাঁরা আমাদের সঙ্গেই ছিলেন, ছেলেমেয়েরা যা-ই করুক, তাঁরা সেরকম কিছু বলেননি। রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ পলাশ আর দেবকাঞ্চনের ফুল আমাকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করছিল। প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে কোনো সমস্যা ছাড়াই পৌঁছে গেলাম চম্পার সামনে। গিয়ে দেখি আমাদের একটা বাস সামনে দাঁড়িয়ে আছে, গেট খুলছে না। ওপর থেকে নির্দেশনা না এলে গেটের লোকজন খুলবে না। স্যাররা সেটার ব্যবস্থা করলেন, আর আমাদের সব কটা বাস একসঙ্গে ঢুকে পড়ল সেই বহুল পরিচিত শালবনের ছোটখাটো রাস্তায়। রাস্তার ধারে বেশ কিছু সাইনবোর্ডে নানা প্রাণীর পরিচিতি, তাদের বর্তমান অবস্থা আর এখানে তাদের সংখ্যা লেখা ছিল। একটু অবাক লাগল যে শুধু প্রাণীরই তালিকা আছে, কোনো উদ্ভিদের তালিকা নেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রিসোর্টের সামনে গিয়ে বাস থেকে সবাই নামল। নেমেই জুনিয়র, সিনিয়র, মোস্ট সিনিয়র, সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। এটাই পিকনিকের আসল মজা।</p>



<h2 class="wp-block-heading">নৌকা, অটো আর জাভা ক্যাসিয়া</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবহাওয়া একটু খারাপ হতে যাচ্ছিল, হালকা বৃষ্টির দেখাও পেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার রহমতে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। স্যারদের কাছে জানলাম, এই চম্পাই সবচেয়ে ভালো, ভিভিআইপি রিসোর্ট। স্যাররা আমাদের জন্য এটি বরাদ্দ করায় খুব শান্তি লাগল। স্যারদের কথা শেষে সবাই বেরিয়ে পড়লাম, যার যেদিকে দুচোখ যায়। আমি তো আগেই পুকুরপাড়ে গিয়ে উঠে পড়লাম নৌকায়। রাসিফকে ডাকলাম, সে ছিল তার নিজস্ব পরিকল্পনায়, তাই এল না। আমরা বেশ কয়েকজন মিলে নৌকাভ্রমণ শুরু করলাম। পুকুরে লাল শাপলার দেখা পাওয়াও খুব আনন্দের, যা এক নৌকাভ্রমণকে রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নৌকা থেকে নেমে এবার কী করি ভাবতে না ভাবতেই এক লোক বলে উঠল, ভাই, আমার অটোতে চড়েন, পুরো এলাকা ঘুরিয়ে দেখাব। প্রথমে অনেক টাকা চাইছিল বলে যাওয়া হয়নি, কিন্তু তার সেই কথা, &#8216;আর কবে আসবেন কি না-আসবেন, না দেখলে কী বুঝবেন&#8217;, শেষে আমাদের হার মানাল। হাসিবুর, নাফিস, তরিকুল, জাফিরুল, জুবায়ের, আমরা একসঙ্গে ঘুরতে বেরোলাম। সেখানে একটা ছোট্ট চিড়িয়াখানা আর একটা ওয়াচ টাওয়ার ছিল, সেই ভাই আমাদের নিয়ে গিয়ে দেখালেন। ফেরার পথে হঠাৎ একটা ফুল চোখে পড়ল, যেটা আমি অনেকদিন ধরে খুঁজছিলাম। কাছে গিয়ে দেখলাম, হ্যাঁ, এটা সেটাই, জাভা ক্যাসিয়া। ভাবিনি এর দেখা এখানে পেয়ে যাব।</p>



<h2 class="wp-block-heading">তিন পায়ের দৌড়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবার ফিরে এলাম রিসোর্টে। দুপুরের খাবারের জন্য ডাক দিলেন স্যাররা। একদম উন্নত মানের রেস্টুরেন্টে যেমন খাবার হয়, এখানে তার চেয়েও ভালো খাবার দেওয়া হয়েছিল বলে আমি মনে করি। পেটপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে শুরু হলো সাংস্কৃতিক পর্ব। নানা ধরনের খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন আমাদের বড় ভাই-আপুরা। তিন পায়ের দৌড়, নামটা শুনে মজা পেয়েছিলাম। আসলে দুজনের একটা একটা পা বেঁধে একটা বানিয়ে দৌড়াতে হয়, তাই তিন পায়ের দৌড়। আমি এমনিই কনককে বলছিলাম, আমি আর তুমি মিলে দৌড় দিই। হঠাৎ জামান ভাই বললেন, আমি আর তুমি দৌড় দিই, আমার এই খেলায় অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বাস্তবেই জামান ভাইয়ের জন্য তিন পায়ের খেলায় আমরা প্রথমও হয়েছিলাম। খেলাধুলা পর্ব শেষে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আমাদের সেখানকার অফিশিয়াল প্রোগ্রাম শেষ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার ফেরার পালা। সবাই নিজ নিজ বাসে উঠে পড়লাম। অল্প সময়ের মধ্যেই সব কটা গাড়ি আবার ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল। গতবারের মতো এবারও আর সবার সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাওয়া হলো না, মাঝরাস্তায় আমি নেমে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই তো সারাদিনের আনন্দ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/prothom-picnic-bhawal/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিনি কি সত্যিই রিকশাওয়ালা ছিলেন?</title>
		<link>https://uponnas.com/rickshawala-rohosso/</link>
					<comments>https://uponnas.com/rickshawala-rohosso/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 13:48:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/rickshawala-rohosso/</guid>

					<description><![CDATA[পরীক্ষার আগে কেমিস্ট্রির সামনে বসে পড়ছিলাম। এক রিকশাওয়ালা এসে চক্রবৃদ্ধি মুনাফার অঙ্ক আর ইংরেজি ব্যাকরণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি আসলে কে ছিলেন, আজও জানি না।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আজ ১২টায় সাইটোলজির ইনকোর্স পরীক্ষা ছিল। প্রথম ক্লাসের পর ফাঁকা থাকায় সবাই মিলে চা-টা খেয়ে একটু পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কেমিস্ট্রির সামনে বসে পড়লাম। একজন খাতা বের করল তো আরেকজন শিট। একজন দেখলাম নেট থেকে কিছু টপিক প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছে। সবার পড়া শুরু করার গতি দেখে ভালো লাগল। সবাইকে দেখে আমিও খাতা খুলে নানা জিনিস দেখতে লাগলাম। পড়াও চলে, সঙ্গে গল্পও চলে। হরেক রকম চিত্রের সঙ্গে হরেক রকম গল্পের টপিক যেন একটার সঙ্গে আরেকটা মিলে যাচ্ছিল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">একটা প্রশ্ন ছিল</h2>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ দেখলাম এক রিকশাওয়ালা রিকশাটা একপাশে দাঁড় করিয়ে আমাদের দিকে এসে বললেন, একটা প্রশ্ন ছিল। আমরা বললাম, বলেন কী প্রশ্ন। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ডিপার্টমেন্ট চিনতে পারছেন না, সেটাই জিজ্ঞেস করবেন, অথবা আশপাশে পানি কোথায় পাওয়া যাবে, এই ধরনের কিছু। অচেনা মানুষ সাধারণত এ রকম প্রশ্নই করে। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন শুনে কিছুটা হতভম্ব হলাম। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারিনি। বললাম, আবার বলেন। আবার বলার পরেও বুঝতে পারিনি, তবে তিনি যে একটা অঙ্ক জিজ্ঞেস করছেন সেটা টের পেলাম। আবার বললাম, ভাই, আরেকবার বলেন। এবার তিনিসহ বাকিরা সবাই আমাকে প্রশ্নটা বলল: যদি ১০০ টাকার ৫ বছরে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা ৫০ টাকা হয়, তাহলে ১ বছরে ৫০ টাকা মুনাফা পেতে কত টাকা দিতে হবে? সবার মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সবাই মনে মনে হিসাব করছে দেখে আমিও হিসাব শুরু করলাম। বলে বসলাম, হিসাবটা বেশি জটিল না। ৫ বছরে ৫০ টাকা, তাহলে ১ বছরে ১০ টাকা, তাহলে&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু একটু&#8230; চক্রবৃদ্ধি মুনাফা? ও, এটা হলে তো এভাবে করা যাবে না। যতটা সহজ ভেবেছিলাম, ততটা সহজ না অঙ্কটা। এটা করার জন্য কী কী যেন সূত্র ছিল: n, r, p, কার ওপর কার পাওয়ার, হাবিজাবি অনেক ঝামেলা। আর আমি তো মনে হচ্ছে সব ভুলে গেছি। এবার কী হবে, আমি তো পারি না! বাকিদের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, তাদেরও একই অবস্থা। সেই কবে করেছি এগুলো, এখন কি আর হঠাৎ মনে পড়ে? শহিদুল রিকশাওয়ালাকে বলল, ভাই, এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কী করবেন? কাউকে পড়াবেন নাকি? তিনি বললেন, জি, দুইটা বাচ্চা আছে, একটা ক্লাস ফাইভে পড়ে, একটা ক্লাস থ্রিতে। ও, আচ্ছা, আপনার বাসা কোথায়? উত্তর: গাইবান্ধা। তিনি গাইবান্ধায় পড়ান, কথাটা একটু কেমন লাগল। সারাদিন এখানে, আর পড়ান গাইবান্ধায়? এটাই সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছি, রিকশাওয়ালা ভাই আবার বললেন, ভাই, আরেকটা প্রশ্ন আছে। ভালো, বলেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">অ্যাডজেকটিভ কোথায় বসে?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">অ্যাডজেকটিভ কোথায় বসে, ভার্বের আগে না পরে? এতক্ষণ অঙ্ক সমাধানের চেষ্টায় থাকলেও এই প্রশ্ন শুনে পরিবেশটা মুহূর্তে বদলে গেল। তাঁর কথাবার্তা আর রিকশাওয়ালাদের মতো মনে হচ্ছিল না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাসিফ বলল, ক্লাস ফাইভে চক্রবৃদ্ধির অঙ্ক আছে? আমরা তো আরও ওপরের ক্লাসে পড়েছিলাম, এগুলো তো ক্লাস নাইনের প্রশ্ন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শামীম বলল, ভাই, আপনি কি কোনো রিপোর্টার? কোনো সার্ভে করছেন? তিনি বললেন, না ভাই, এমনিতেই জিজ্ঞেস করছিলাম। কনককে দেখলাম একটু অন্যভাবে বসে পড়ল। তাদের সন্দেহ আমাকেও সন্দিহান করে তুলল। আমারও জানার ইচ্ছা হলো, উনি আসলে কে? জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, আপনি কতদূর পড়ালেখা করেছেন? উত্তর এল, ক্লাস ফোর। শুনে সন্দেহ তীব্র হলো। ক্লাস ফোরে পড়ে ক্লাস ফাইভের বাচ্চাকে পড়ায়, হাস্যকর না? শামীমের কথা ঠিক হলে, রিপোর্টার হলে তো ক্যামেরা থাকবে। আমরা তাঁর চারপাশে ক্যামেরা খোঁজা শুরু করলাম। অনেকক্ষণ দেখেও চোখে পড়ল না। তাহলে কি সত্যিই রিকশাওয়ালা? পোশাকও সাধারণ রিকশাওয়ালাদের মতোই, সেরকম কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না। না, কিছু একটা গোলমাল আছে, ধরতে পারছি না। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, ভাই, এই অঙ্ক কোথায় পেয়েছেন? কেউ কি আপনাকে করতে দিয়েছে? এবার উত্তরে একটু ভিন্নতা এল: ভাই, কিস্তিতে টাকা দিতে হয় তো, তাই জিনিসটা কীভাবে চলে জানতে পারলে ভালো হয়। শামীম বারবার ইশারা করছে, আশপাশে ক্যামেরা আছে কি না চেক করতে। কিছুই চোখে পড়ে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবকিছুই স্বাভাবিক, শুধু শার্টের পকেটটা একটু উঁচু, কিন্তু এতটাও না যে ক্যামেরা থাকতে পারে। মোবাইল ফোন আছে বলেও মনে হয় না। যাই হোক, এখন তাঁর প্রশ্নের কিছু উত্তর তো দিতে হবে। কী উত্তর দেব? নাকি বলে দেব, আমরা এই মুহূর্তে পরীক্ষার টেনশনে আছি, পরে যোগাযোগ করতে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে শামীম তাঁকে বলল, এই অঙ্কগুলো আমাদের সায়েন্স ফ্যাকাল্টির কেউ সহজে পারবে না, কারণ এগুলো আমাদের সেরকম প্রয়োজন হয় না, অনেক দিন চর্চাও নেই। তবে যারা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা পরীক্ষার তাগিদে এগুলো মনে রাখে, সেটা ভিন্ন বিষয়। যেদিন আমাদের এ ধরনের অঙ্ক প্রয়োজন হবে, সেদিন একটু প্র্যাকটিস করলেই পেরে যাব। তিনি সব শুনলেন, আর আমাদের আবার ইংরেজির সেই প্রশ্নের জালে জড়িয়ে ফেললেন: এই শিটগুলো তো ইংরেজিতে, তাহলে তো আপনাদের ইংরেজির নিয়ম পারার কথা। শিট বলতে রাসিফের হাতের শিটটা খেয়াল করলাম, তাই তো, উনি এটাও খেয়াল করেছেন! ভালোই পর্যবেক্ষণ। আমি একটু দ্বিধা করে বললাম, অ্যাডজেকটিভ নাউনের আগে বসে। এবার তিনি নানা উদাহরণ দিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, কোনটা নাউন, কোনটা ভার্ব, কোনটা অ্যাডজেকটিভ। আমরা তো অবাক, বাহ!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ক্লাস ফোরে পড়া একজন মানুষ এত সুন্দর করে কীভাবে ইংরেজি বলতে পারে? আমরাই এভাবে বলতে পারব কি না জানি না। আবার কিছু একটা বলা লাগবে। আবারও শামীম সাপোর্ট দিল। সে বলল, ভাই, আমরা যা পড়ি সব ইংরেজিতে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা তো কোনটা ভার্ব আর কোনটা নাউন, এভাবে হিসাব করি না। আমাদের পড়ানো সবকিছু সাধারণ কথাবার্তা: আমি ভাত খাই-এর ইংরেজি I eat rice, এটা সবাই জানে। নিয়মকানুন তো আর শিখি না। এবার তিনি আরেক সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করলেন: তাই নাকি? তাহলে &#8216;এটি আমার রিকশা&#8217;-র ইংরেজি কী? তারপর টানা প্রশ্ন করে গেলেন আর শামীম উত্তর দিতে থাকল: আমি নীলক্ষেত যাই? আমি নীলক্ষেত থেকে ফিরে আসি? আমি রান্না করার পর ভাত খাই? ইত্যাদি। এগুলোর উত্তর পেয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর পরের প্রশ্ন: কোন ডিপার্টমেন্ট আপনাদের? উদ্ভিদবিজ্ঞান বলায় তিনি বললেন, উদ্ভিদ কী? আজব! উদ্ভিদ কী, এটা কোনো প্রশ্ন হলো? আমাদের চারপাশের সব গাছপালাই তো উদ্ভিদ। কেমিস্ট্রির ফাঁকে বিদ্যাপাতা ছিল, সেটা দেখিয়ে শামীম বলল, এটাও একটা উদ্ভিদ। মাশরুমের নাম শুনেছেন কখনো? সেটাও উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত। আরও আশ্চর্য হলাম যখন তিনি বললেন, এর সম্পর্কিত বিষয় কী, প্রাণিবিদ্যা? তাহলে প্রাণী কী? গরু-ছাগল কি প্রাণী? আমরা বললাম, উদ্ভিদ বাদে যা জীবন্ত, সবই প্রাণী, মাছ আর পোকামাকড়ও। এত জ্ঞান একজন সাধারণ ক্লাস ফোর পাস রিকশাওয়ালা রাখতে পারে না, তাতে আর সন্দেহ ছিল না। একটু পরে তিনি বললেন, ওরা কারা? মুখ বাড়িয়ে দেখলাম কিছু বিদেশি। আমাদের সঙ্গে কথা শেষ করে রিকশা নিয়ে তাঁদের দিকে গিয়ে তিনি বললেন, Have a nice day&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে, মনে হাজারো প্রশ্ন জাগিয়ে, একটি রহস্যময় হাসি দিয়ে রিকশায় চড়ে চলে গেলেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আসলেই তিনি কে ছিলেন?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের মনে একটাই প্রশ্ন থেকে গেল: আসলেই তিনি কে ছিলেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">শামীম বলল, কিছু কিছু রিপোর্টার এ রকম ছদ্মবেশে আসে আর কৌশলে তথ্য সংগ্রহ করে। ছদ্মবেশ বানাতে আর কী, নীলক্ষেত থেকে একটা রিকশা দেড়শো টাকায় ভাড়া নিতে বেশি কষ্ট না। এই ছদ্মবেশে হঠাৎ প্রশ্ন করলে জানা জিনিসও ভুল হতে পারে। তারা এই সুযোগটাই কাজে লাগায়, প্র্যাংক ভিডিও বানায়, আর দিন শেষে হয়তো এভাবেই &#8216;I am GPA 5&#8217;-এর মতো ভিডিও তাদের সংগ্রহে চলে যায়। আসলে তাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাদেরই প্রশ্ন করা উচিত, তাদেরই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। রাসিফ বলল, পরীক্ষাটা শেষ হোক, তার পেছনে ক্যামেরা নিয়ে লেগে পড়ব। কতদূর আর গেছে, কার্জন হলে কিছু না পেলে যাবে কলাভবনে, সেখানেই ধরব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ও&#8230; পরীক্ষা! একদম ভুলেই গিয়েছিলাম, এতক্ষণ তো তাঁর সঙ্গে কথা বলেই সময় কাটিয়েছি। আর বেশি সময় হাতে নেই। দ্রুত দেখতে হবে বলে আবার সবাই লেগে পড়লাম নিজ নিজ শিট-খাতা নিয়ে, পরীক্ষায় পাস করার অভিযানে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/rickshawala-rohosso/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জীবনযুদ্ধ</title>
		<link>https://uponnas.com/jibonjuddho/</link>
					<comments>https://uponnas.com/jibonjuddho/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Md. Siddiq Hasan]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 13:32:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/jibonjuddho/</guid>

					<description><![CDATA[সজ্জার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দৃষ্টিজয়ী কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে একটা বিকেল কাটিয়ে নিজের জীবনটাকে নতুন করে দেখা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">একজন মানুষের জন্য জীবনটাই একটা যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধ সবার জন্য এক না, আবার একজনের জীবনেও এই যুদ্ধ সব সময় ধ্রুব থাকে না। যেমন কেউ টাকাপয়সার জন্য যুদ্ধ করে, কেউ ক্ষমতার জন্য, অনেকে আবার যুদ্ধ করে শেষ অবধি টিকে থাকার জন্য। একজনের জীবনে এই যুদ্ধগুলো পর্যায়ক্রমেও আসতে পারে, তবে সবাই প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ করে যাচ্ছে, এটাই বাস্তব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে সব যুদ্ধ সমান নয়। কিছু যুদ্ধ আছে, যেগুলোর কথা মানুষ কল্পনাও করে না। যেমন আজ সজ্জার (সমাজের জন্য জাগরণ) সাংস্কৃতিক অপরাহ্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেখলাম আসল জীবনযুদ্ধ কী। এই অনুষ্ঠানে নতুন কিছু দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হলাম। সুন্দর এই পৃথিবী তারা ঠিকমতো দেখতে পায় না। আমরা তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বললেও মাঈন ভাই ভালোবেসে বলেন দৃষ্টিজয়ী, কারণ তারা দৃষ্টিকে জয় করেই আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরেছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বললে তাদের ছোট করা হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, আমি মাঝে মাঝেই ধনী-দরিদ্র, প্রভাবশালী-নামহীনের দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। আলহামদুলিল্লাহ, যখনই এমনটা ঘটে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একদম সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেন। এই দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পর মনে হলো, কী নিছক ছেলেখেলার জীবন, আর সেই জীবনের চাওয়া-পাওয়া! আমার সবকিছু থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর গুরুত্ব দিই না বলে মনে হয় যেন আমার কিছুই নেই। তাদের অনেক অভিজ্ঞতার গল্প শুনলাম, শুনলাম তাদের অসুবিধার কথা। তাদের চাওয়া বেশি কিছু না: শুধু সবার সঙ্গে একটু ভালো সময় কাটানো আর এক সাধারণ জীবন। তাদের সঙ্গে সময়টা বেশ ভালোই কাটল। তাদের একটা কথা আমার খুব ভালো লাগল: এই সজ্জাই একমাত্র সংগঠন, যা শুধু তাদের নিয়ে ভাবে, তাদের নিয়েই সব পরিকল্পনা করে। অন্য কোনো অনুষ্ঠানে না গেলেও সজ্জার অনুষ্ঠান তারা কখনো বাদ দেয় না, উপস্থিত থাকার চেষ্টা করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাদের কথা শুনে মনটা তৃপ্ত হলো। সত্যিই, ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, আছি, তবে সজ্জাই একমাত্র সংগঠন, যেখানে এলে মনটা সব সময় ভালো থাকে, আত্মিক তৃপ্তি পাই, যা অন্য কোথাও পাই না। সজ্জা পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে গর্ব বোধ করি। এই পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা সব সময় থাকবে। এগিয়ে যাক এই পরিবার, বহুদূর।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/jibonjuddho/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
