<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><?xml-stylesheet type="text/xsl" href="https://uponnas.com/wp-content/themes/uponnas/assets/feed.xsl?ver=1.5.7"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>উপন্যাস</title>
	<atom:link href="https://uponnas.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://uponnas.com</link>
	<description>শব্দে গাঁথা স্মৃতির বিশ্ব</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 16:57:03 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://uponnas.com/wp-content/uploads/2026/04/cropped-Uponnas-logo-1-150x150.png</url>
	<title>উপন্যাস</title>
	<link>https://uponnas.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বোটানি-৬৫ শিক্ষাসফর ২০২২ (পর্ব ২): সাজেকের ভোর থেকে আলুটিলার আঁধারে</title>
		<link>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3966</guid>

					<description><![CDATA[সাজেকের সূর্যোদয়, লুসাই গ্রাম, জুম্মার নামাজের জন্য দৌড়, রিসাং ঝরনার খাড়া সিঁড়ি আর আলুটিলা গুহার ঘুটঘুটে অন্ধকার, সবই রাঙামাটি যাওয়ার পথে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">এই শান্তির ঘুম ভাঙল একেবারে পরদিন সকালে। চন্দন স্যার বলে দিয়েছিলেন, সূর্যোদয় দেখতে চাইলে সকাল ৬টার মধ্যে হেলিপ্যাডে থাকতে হবে, দেরি করলে আর দেখা যাবে না, সূর্য কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কথামতো সকালে সবাই হেলিপ্যাডে হাজির। অনেক দিন পর এমন সূর্যোদয় দেখলাম। সূর্য যে এত দ্রুত ওঠে, সেটাও উপভোগ করার মতো, দেখতে দেখতে তার আলো চারদিক আলোকিত করে ছড়িয়ে পড়ল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">লুসাই গ্রাম আর মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো প্যাঁচানো পথ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে আরও কিছুক্ষণ থেকে পাশের লুসাই গ্রাম দেখতে গেলাম। অল্প জায়গার মধ্যে খুব সুন্দরভাবে তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন সেখানে। অনেকে তাঁদের পোশাক পরে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর আবুল কাশেম স্যার আর মিহির লাল সাহা স্যার এলেন। মিহির স্যার লুসাই গ্রাম আর জাপানি সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ একটা আলোচনা করলেন, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। ওখানে যে লাইকেনের একটা প্রতিপত্তি আছে, সেটাও স্যারই প্রথম আমাদের দেখালেন। তারপর চারদিক ঘুরে দেখে সকালের নাশতার জন্য আবার রিসোর্টের দিকে রওনা দিলাম। হেঁটে ফেরার পথে কিছু সাইকাস (<em>Cycas</em>) গাছ চোখে পড়ল। নাশতা সেরে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে দার্জিলিং রিসোর্টকে বিদায় জানিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম নতুন কিছু দেখার উদ্দেশে। এবারের গন্তব্য খাগড়াছড়ি শহর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাহাড়ের ঢেউয়ের সঙ্গে ঢেউ মিলিয়ে দোল খেতে খেতে চলছে চান্দের গাড়ি। গত দিনের চেয়ে আজকের পথটা যেন আরও বেশি উপভোগ করছি। সাজেকের রাস্তার একটা বিশেষ গুণ হলো, আমরা কোথায় যাব সেটা বহুদূর থেকে দেখা যায়, এমনকি বেশ কাছেও মনে হয়, কিন্তু রাস্তাটা মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো প্যাঁচানো। গাড়ি ডানে যায়, বামে যায়, ঘুরে যায়, তারপর বোঝা যায় অনেকটা পথ পেরিয়েও আগের জায়গা থেকে সামান্যই এগিয়েছি। এভাবে একটু একটু করে সাজেককে পেছনে ফেলে খাগড়াছড়ির দিকে এগিয়ে চললাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে যেতে গত দিনের মতো আজও বাচ্চাগুলো টাটা দিচ্ছিল। হঠাৎ সামনের গাড়ি থেকে এক ভদ্রলোক বাচ্চাগুলোর দিকে একটা ১০ টাকার নোট ছুড়ে দিলেন। সেই নোটের পেছনে বাচ্চাগুলোর দৌড়ে যাওয়া দেখে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনি &#8220;পালামৌ&#8221;-এর সেই ঘটনাটা মনে পড়ে গেল, নদী পার হওয়ার সময় বাচ্চাদের টাকা দেওয়ার ঘটনা। খুব সুন্দর একটা কাহিনি ছিল সেটা। তবে এখানে বাচ্চাগুলো চারদিকে না তাকিয়ে যেভাবে টাকার পেছনে ছুটছিল, যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতেই খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে গেলাম। সেখানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানিসহ নানা দলের পতাকা দেখে কিছুটা অবাকই হলাম, খেলার ছোঁয়া তাহলে পুরো দেশ জুড়েই লেগেছে। সেদিন রাতে ছিল ব্রাজিলের খেলা, যার রেশ মাঝে মাঝে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব দেখতে দেখতে গত দিনের সেই হোটেল ইকোছড়ি ইনে পৌঁছে গেলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">জুম্মার দৌড় আর রিসাং ঝরনার সিঁড়ি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সেদিন ছিল শুক্রবার। গাড়ি থেকে নেমেই আমরা কয়েকজন জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদের দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু দেড়টা বেজে যাওয়ায় মাঝরাস্তায় আমাদের মধ্যে দুই দল হয়ে গেল। এক দল বলে, সময় তো শেষ, ফিরে যাই, গোসল করে ফ্রেশ হয়ে না হয় নামাজটা পড়ব। আরেক দল বলে, প্রায় চলেই তো এসেছি, নামাজটা পড়েই যাই। কী করলে ভালো হয় ভাবতে ভাবতেই মসজিদের সামনে হাজির। সময় পেরিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু খুতবা চলছে, তার মানে এখনো আশার আলো আছে। তাড়াহুড়ো করে অজু করে নামাজে যুক্ত হতে পেরেছিলাম। আশাবাদী হতে হবে আর শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে, সেদিন এই দুটো শিক্ষা পেলাম। পরে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। এই হোটেলের রান্না সত্যিই চমৎকার। তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে একটু বিশ্রাম, তারপর আবার রওনা, এবার খাগড়াছড়ির বিখ্যাত রিসাং ঝরনা দেখতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই পাইলটের চান্দের গাড়ির ছাদে বসে চারদিক দেখতে দেখতে চললাম। মজার বিষয়, আমাদের গাড়ির ১২ জনের ১০ জনই ছাদে, ভেতরটা ফাঁকা বললেই চলে। অবশ্য ফেরার সময় রাত হয়ে গিয়েছিল বলে সবাই নিচেই বসে এসেছিলাম। চান্দের গাড়ি আমাদের রিসাং ঝরনার ওপরের একটা জায়গায় নামিয়ে দিল। আমরা দল বেঁধে একে একে নিচে নামা শুরু করলাম। নামার এই রাস্তাটা ভীষণ ঢালু, দেখতে বেশ ভয়ংকর, তাই অনেকেই আর নামল না, ওপরেই থেকে গেল। পাহাড়ের গা ঘেঁষে খাঁজকাটা কংক্রিটের পথ, সেটাও অনেক ঢালু, দেখলেই বোঝা যায় ঝরনাটা অনেক নিচে। ধীরেসুস্থে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে পাহাড়ের গায়ে চোখ পড়ল। একটু ভালোভাবে তাকালে সেখানে ফার্ন আর সেলাজিনেলার (<em>Selaginella</em>) আস্তরণ বোঝা যায়। সেগুলো দেখতে দেখতে একদম নিচে ঝরনার কাছে পৌঁছে গেলাম। হোটেল থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়েছিল বলে ঝরনার কাছে যেতেই সূর্যের আলো কমে এল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্যার ম্যামরা ফেরার জন্য সবাইকে তাগাদা দেওয়া শুরু করলেন। সমস্যা তো এটাই, যত আরামে নেমেছিলাম, তত কষ্ট করে এবার উঠতে হবে। আমি দেরিতে নেমেছিলাম, ছিলাম সবার পেছনে, তাই দৌড়ে সবার সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলাম, আর সেটা ছিল আরেক বোকামি। অল্প দৌড়েই হাঁপিয়ে উঠলাম, বাকি পথ কোনোরকমে একটু একটু করে উঠে এলাম। সেখানে বাইকের ব্যবস্থা ছিল, কিছু টাকার বিনিময়ে সোজা ওপরে উঠে আসা যায়, কিন্তু কেউই সেই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ছিল না। সবাই হেঁটেই ওপরে উঠলাম। ওপরে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমরা নির্মাণাধীন রেঞ্জ অফিসে গেলাম। প্রধান কর্মকর্তা আমাদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেরই একজন বড় ভাই। সেদিন ছিল ২ ডিসেম্বর, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি, তাই সেখানে একটা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়েছিল। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাদের সময় দিয়েছেন, এটা সত্যিই আনন্দের।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আবার হোটেলে ফিরে এলাম। তবে চান্দের গাড়িতে এটাই ছিল আমাদের শেষ যাত্রা। সুকাশ দাদার সঙ্গে ছবি তুলে তাঁকে বিদায় জানালাম। দুই দিন ধরে তাঁর গল্প বলে গেলাম, কিন্তু পাইলটের নামটা মনে হয় এই প্রথম বললাম। কাল থেকে আবার বাসে যাত্রা, চান্দের গাড়ি আর পাব না, এই কথাটা কেমন যেন মনের মাঝে আটকে গেল। কিন্তু সবই নিয়তি, মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ইকোছড়ির শেষ রাত</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যে যার রুমে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবারের জন্য তৈরি, ডাক পড়তেই হোটেলের চারতলায় সবাই হাজির। এই হোটেলের খাবার সত্যিই দারুণ। মজা করে খেয়ে হালকা বিশ্রাম নিয়ে কেউ রুমে চলে গেল, কেউ হোটেলের নিচে গল্প করতে, আর কেউ সেখানেই বসে আরও কিছুটা সময় কাটাল। কয়েকজনের একটা দল হোটেলের আশপাশে হাঁটতে বেরোল, তাদের পিছু পিছু আমিও গেলাম। খুব সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ, কোথাও তেমন কেউ নেই, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক স্পষ্ট শোনা যায়। কিছুটা পথ যেতেই একটা টঙের মতো দোকান, সেখানে আমাদের আগেই আরেকটা দল এসে বসেছে। আমরা তাদের চায়ের আড্ডায় যোগ দিলাম, বেশ ভালো লাগছিল। এই উপভোগ্য পরিবেশ ছেড়ে পরে সবাই হোটেলে ফিরে এলাম। স্যার ম্যাম আর বাকি সবাই হোটেলের নিচে অপেক্ষা করছিলেন। এই সফরে আমরা কী শিখলাম, কী দেখলাম, এই নিয়ে সেখানে ছোটখাটো একটা ক্লাস হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ক্লাস শেষে যে যার রুমে। ভাবলাম শান্তির ঘুম হবে, কিন্তু রুমের টিভিটার দিকে নজর যেতেই সেই চিন্তা উবে গেল। আমি খেলাপ্রিয়, কিন্তু যাদের সঙ্গে ছিলাম তারা কট্টর খেলাপন্থী। সেদিন ব্রাজিলের খেলা রাত ১টায়, তারা যেকোনো মূল্যে খেলা দেখবেই। কিন্তু কেন যেন টিভিটা কাজ করছিল না, তাদের জন্য দুঃখ হলেও নিজের জন্য কিছুটা শান্তি পেলাম। ভাবছিলাম তারা হয়তো পাশের রুমে খেলা দেখতে চলে যাবে, কিন্তু ওরা আর্জেন্টিনার ভক্ত, তাই সেটা আর হয়নি। মোবাইলে মাঝে মাঝে স্কোর দেখে নিচ্ছিল। ততক্ষণে আমি ঘুমের জগতে হাবুডুবু খেতে শুরু করেছি, আর এই জগতের বাসিন্দা হিসেবে টিকে থাকতে পারলাম না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সকালে ঘুম ভাঙতেই রাসিফ বলল, ভাই, রাত জেগে খেলা না দেখে ভালোই হয়েছে, ব্রাজিল হেরেছে। পাশে থাকা রাকিবও বলে বসল, হ্যাঁ ভাই, ভালো হয়েছে, খেলা তেমন জমেনি। বাহ, সকালে মানুষ পাখির ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠে, সুপ্রভাত শোনে, আর আমি শুনি খেলার খবর, ভালোই। তাহলে আজ আমাদের একটা দল নীরবতা পালন করবে। বাস্তবে হলোও তা-ই। নাশতার ডাক পড়লে সবাই দলে দলে চারতলায় উঠে এলাম। তাদের কাছে যেতেই বোঝা যাচ্ছিল, তারা কিছুটা নিশ্চুপ, কিছুই বলছে না। তবে খেতে খেতে একপর্যায়ে কেউ একজন খেলা নিয়ে কিছু বলে উঠতেই সবার মাঝে কথা শুরু হলো, ধীরে ধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হলো। আজকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলো। নাশতা শেষে ব্যাগ-বস্তা গুছিয়ে পছন্দের হোটেল ইকোছড়ি ইনকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় জানালাম। মিহির স্যার দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা বললেন, তারপর সবাই মিলে স্মৃতি হিসেবে একটা গ্রুপ ছবি তুলে আমাদের জন্য অপেক্ষারত বাসের দিকে হাঁটা শুরু করলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">হর্টিকালচার পার্কের নাটা থেকে আলুটিলার অন্ধকারে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আজকের শেষ গন্তব্য রাঙামাটি, তবে পথে হর্টিকালচার পার্ক আর আলুটিলা গুহা দেখে রাতে রাঙামাটিতে থাকব। বাসে হইহুল্লোড় করতে করতে খুব দ্রুতই হর্টিকালচার পার্কে পৌঁছে গেলাম। সকাল সকাল বলে গুটিকয়েক ছাড়া আর কোনো পর্যটক ছিল না; বেশি দেরি হলে ভিড়ে টেকা যেত না। আমরা খুব আরামে চারদিক ঘুরে দেখার সুযোগ পেলাম। ঝুলন্ত ব্রিজ পার হয়ে ভেতরে যেতেই পরিবেশটা যেন পাল্টে গেল, কী নিরিবিলি আর শান্ত। চেনা-পরিচিত গাছপালার পাশাপাশি বেশ কিছু দুর্লভ গাছের দেখা পেলাম। সাজেকের মতো এখানেও ফার্ন আর লাইকেনের জোরালো উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। এ ছাড়া রাস্তার দুই ধারে সাজসজ্জার জন্য চোখ জুড়ানো বেশ কিছু ফুলের গাছও লাগানো। ধীরে ধীরে সামনে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি আবার সেই ঝুলন্ত ব্রিজের সামনে। জায়গাটা এমনভাবে সাজানো যে দুটো পথের একটা দিয়ে গেলে আরেকটা দিয়ে ফিরে আসা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আশপাশে আরও কিছুক্ষণ ঘুরে আবার রওনা দিলাম। ফেরার পথে রাস্তার ধারে নাটা গাছের ফলের দেখা পেলাম। এই নাটা গাছের ফুল দেখেছিলাম সাজেকের দার্জিলিং রিসোর্টের পাশে, এতক্ষণে যেন গাছটার পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালীর কিশোর সংস্করণ &#8220;আম আঁটির ভেঁপু&#8221;-তে নাটা ফলের বীজ নিয়ে খেলার কথা। এই নাটা সেই নাটা কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়লাম। পরিপক্ব বীজ পাওয়া যায় কি না চারদিকে একটু খুঁজে দেখলাম, কিন্তু চোখেও পড়ল না, সময়ও জুটল না। তাই আবার দেখা হবে, এই আশা রেখে বাসে গিয়ে বসে পড়লাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার যাব আলুটিলা গুহায়। সবাই এই গুহায় যাওয়ার জন্য এত আগ্রহী যে তাদের উচ্ছ্বাস গানের তালে তালে বোঝা যাচ্ছিল। গান আর প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে গুহার সামনে এসে হাজির হলাম, বুঝতেই পারলাম না। বাস থেকে নেমেই গুহার দিকে হাঁটা শুরু। পাহাড়ের গা কেটে মনোরম রাস্তা, তার পাশে গাছপালার সাজানো সারি, সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে ভালোই লাগছিল। রাস্তার মাঝের বটগাছটা ছিল একেবারে নজরকাড়া, তার ঝুরিগুলো এত সুন্দরভাবে ঝুলে ছিল যে দেখেই মন পুলকিত হয়ে উঠল। তবে সময়ের অভাবে স্যার আগেই বলে দিয়েছিলেন কোথাও যেন না থামি, তাই একদম গুহার মুখের সামনে গিয়ে হাজির হলাম। সেখানে গিয়ে হঠাৎ মাটির দিকে নজর গেল। এমন সুন্দর কারুকার্যময় মাটি আগে কখনো দেখিনি, যেন কেউ রংতুলি দিয়ে মনের মতো করে ছবি এঁকে রেখেছে। সবাই একে একে গুহায় ঢুকছে, এবার ভেতরে যাওয়ার পালা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি ভেবেছিলাম পাহাড়ের মাঝে ফাটল হলে যেমন হয়, সামনে ঠিক তেমনই কিছু হবে। কিন্তু একটু একটু করে ভেতরে যেতে শুরু করতেই আমার ধারণা একেবারে পাল্টে গেল। যতই ভেতরে যাই, গুহার মুখ ততই ছোট হতে থাকে আর আলো কমতে থাকে। একপর্যায়ে দেখি ভেতরে রীতিমতো অন্ধকার, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়েও তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। পায়ের নিচ দিয়ে বয়ে চলা পানির ধারা এই অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছিল, মনে কেমন একটা গা-ছমছমে শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল। আরও কিছুটা পথ যেতেই আশার আলো দেখতে পেলাম। সেই আলো দেখে কী যে খুশি লাগছিল, বলে বোঝানো যাবে না। দ্রুত গুহা থেকে বেরিয়ে এলাম, তখন একেবারে অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল। পেছনে থাকা সবাই একে একে বেরোল। তবে সবার শেষে মিহির স্যারকে গুহার মুখ থেকে বেরোতে দেখে অবাক হলাম। তিনি প্রথমে বলেছিলেন গুহায় যাবেন না, কিন্তু নতুনকে জানার প্রতি তাঁর যে তুমুল আগ্রহ, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। জীবনে কিছু করতে চাইলে এমন মনোবল থাকা দরকার। তারপর সবাই ওপরে উঠতে শুরু করলাম। মাঝে আরও কিছু দর্শনীয় জায়গা ছিল, নির্মাণাধীন হলেও দেখতে ভালো লাগছিল। আরও কিছুটা সময় থাকতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু আমরা সময়ের হাতে জিম্মি। সবাইকে ডেকে ডেকে বাসে তুলে এবার রওনা হলাম রাঙামাটির দিকে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রাঙা মাটির পথে রাঙামাটি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুটা পথ যেতেই পথের চেহারা একেবারে বদলে গেল। এতক্ষণ দুই ধারে পাহাড়, ঢাল আর সেগুনগাছ দেখছিলাম, এখন সেসব আর চোখে পড়ে না। এখন শুধু পানি আর পানি। চারদিক নদী আর ছড়ায় ভরা, আর সেই পানিতে সূর্যের আলোর ঝলমলানি মন ভুলিয়ে দিচ্ছিল। এমন সময় মনে পড়ে গেল রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গান, &#8220;গ্রাম-ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ&#8221;। সত্যিই মুগ্ধ চোখে সব যেন আনন্দ দিয়ে যাচ্ছিল। তবে কিছুটা পথ পরপরই বিজিবি ক্যাম্প এলে বাস থেমে যাচ্ছিল, এটা বেশ বিরক্ত লাগছিল। বিরক্ত লাগলেও কিছু করার ছিল না, কারণ এসব ছিল আমাদের নিরাপত্তার জন্যই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিকেলে আমরা রাঙামাটি শহরে পৌঁছে গেলাম। হালকা ফ্রেশ হয়ে, দুপুরের খাবার খেয়ে বাজারের দিকে গেলাম বাসার জন্য কেনাকাটা করতে। দাম তুলনামূলক সাধ্যের মধ্যে ছিল বলে অনেকেই অনেক কিছু কিনল। কেউ নিজের বা ভাইয়ের জন্য ফতুয়া, কেউ পরিবারের জন্য শাল, কেউ জামা, তো কেউ মন ভরে আচার আর চকলেট। একপর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিল, স্যার ম্যাম বাসে ওঠার তাগাদা না দিলে সবাই মিলে দোকানের সব মালামালই কিনে ফেলত। কেনাকাটা শেষে ধীরেসুস্থে আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পৌঁছে গেলাম। এখানেই আজ রাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা। জায়গাটা মূলত সরকারি একটা আশ্রয়স্থল, যাঁরা বিভিন্ন সংগীত বা নাচ পরিচালনা করেন, অনুশীলন করেন আর নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাঁরা এখানে রাতে বিশ্রাম নেন। চন্দন স্যার আমাদের রুম দেখিয়ে দিলেন, আমরা যে যার মতো ফ্রেশ হয়ে কিছুটা সময় জিরিয়ে নিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের খাবারের ব্যবস্থা হলো দোতলায়, তবে এই খাবার হোটেল থেকে প্যাকেটে করে আনা হলো, আমাদের হোটেল পর্যন্ত যাওয়ার খাটুনি কমল। খাবার প্রতিবারের মতো এবারও দারুণ সুস্বাদু, কিন্তু ঝালের পরিমাণও প্রতিবারের মতো তুলনামূলক বেশি। এই অতিরিক্ত ঝালের জন্য অনেক খাবার বাড়তি থেকে গেল, কিছু নষ্টও হলো। সবকিছুর সুবিধা-অসুবিধা দুই দিকই আছে। অবশ্য খাবার শেষে দই আর মিষ্টির ব্যবস্থা ছিল, সুবর্ণা ম্যাম সবাইকে এই দই-মিষ্টি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খাওয়ার পর্ব শেষ হলে সবাই ওপরের রুমে এসে হাজির। আজ রাতের বিশেষ আয়োজন লটারি। রাঙামাটিতে আসার পর থেকেই তৌফিকা আপু আর নাসিহা লটারির টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, এবার সেই অনুষ্ঠান। লটারিতে ১৮টা পুরস্কার, আর আমরা স্যার ম্যামসহ ৪৪ জন। একে একে নম্বর বলা শুরু হলো, আর যে-ই পুরস্কার পায় সে-ই অভিনেতা জসীমের মতো আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে প্রথম পুরস্কারটা পেল হাসিবুর, আর তাতেই লটারির অনুষ্ঠান শেষ। এরপর ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সবাই শুরু করল আর্জেন্টিনার খেলা দেখার প্রস্তুতি। খেলা শেষে যে যার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। কাপ্তাই হ্রদের গল্প থাকছে পরের পর্বে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-2-alutila/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বোটানি-৬৫ শিক্ষাসফর ২০২২ (পর্ব ১): কার্জন হল থেকে মেঘের দেশ সাজেকে</title>
		<link>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3962</guid>

					<description><![CDATA[করোনায় দুবার বাতিলের পর অবশেষে শিক্ষাসফর শুরু হলো: বাসে বিশ্বকাপের রাত, পাহাড়ি পথে চান্দের গাড়ির দুরন্ত দৌড়, আর সাজেকের মেঘের মাঝে প্রথম দিন।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">তখন রাত ৮টা। কথামতো কার্জন হলের সামনে প্রায় সবাই হাজির। সবার চোখেমুখে শিক্ষাসফরে যাওয়ার একটা উচ্ছ্বাস ফুটে উঠছিল, আর সেটাই স্বাভাবিক। করোনার জন্য পরপর দুবার আমাদের শিক্ষাসফর বাতিল হয়েছিল, তৃতীয়বারে এসে অবশেষে পরিকল্পনাটা সফল হতে যাচ্ছে। সবাই এসে পৌঁছালে শ্রদ্ধেয় স্যার ম্যামরা সংক্ষেপে কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন, তারপর একটা গ্রুপ ছবি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা ৩৯ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক (মিহির স্যার, তাহমিনা ম্যাম, চন্দন স্যার ও আবুল কাশেম স্যার) আর ১ জন স্টাফ (সাইফুল ভাই), মোট ৪৪ জনের দল রওনা দিলাম প্রথম গন্তব্য সাজেকের উদ্দেশে। আমাদের শিক্ষাসফরের প্রধান জায়গা ছিল তিনটা: সাজেক, খাগড়াছড়ি আর রাঙামাটি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সেন্টমার্টিন থেকে সাজেক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তবে শুরু থেকেই যে আমরা এই জায়গাগুলোতে যেতে চেয়েছিলাম, এমন নয়। প্রথম পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হয়তো আমরা সেন্টমার্টিন আর কক্সবাজারের পথে রওনা দিতাম। কিন্তু সেন্টমার্টিনে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়নি। তাহলে কোথায় যাওয়া যায়, এই নিয়ে স্যারদের সঙ্গে অনেক আলোচনা হলো। প্রথমে সুন্দরবনের কথা উঠল। আমি মনে মনে রাজি ছিলাম, কারণ সুন্দরবনের পরিবেশ অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা। কিন্তু সেখানে গেলে পুরোটা সময় লঞ্চে থাকতে হতো, কষ্টটা একটু বেশিই হতো, তাই সেই পরিকল্পনাও বাতিল হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিহির স্যার আলোচনায় যারা ছিল সবাইকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আর কোথায় যাওয়া যায়। আমাদের একজন বলে উঠল, সাজেক। সবাই রাজি হয়ে গেল, আর সাজেকের সঙ্গে যুক্ত হলো খাগড়াছড়ি আর রাঙামাটি। সব মিলিয়ে চার দিনের এই শিক্ষাসফরের একটা খসড়া তৈরি হয়ে গেল। আজ সেই খসড়ার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের শুরু।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাসে রাত ১টার বিশ্বকাপ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">দেখতে দেখতে ইট-পাথরের উঁচু উঁচু দালানকোঠা পেরিয়ে আমরা ঢাকা শহরের বাইরে চলে এলাম। বাসের ভেতরে যারা গানবাজনায় মেতে ছিল, একসময় তারাও নিজ নিজ সিটে বসে পড়ল। চারদিক নীরব, সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, কেবল বাসটা আপন মনে চলছে। কিছুটা পথ পেরিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতি হলো। ফ্রেশ হয়ে, চা খেয়ে আবার বাসে উঠলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভেবেছিলাম বাকি পথটা হয়তো নীরবেই কাটবে, কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপের কথা মাথায় ছিল না। রাত ১টা বাজতেই পুরো বাস দুই দলে ভাগ হয়ে গেল, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা, আর মেয়েরাও সমান তালে তাতে যোগ দিল। সাউন্ড বক্সে খেলার ধারাভাষ্য চলছে, বাকি সবাই নিজ নিজ মোবাইলে খেলা দেখছে। কিন্তু নেটওয়ার্কের সমস্যায় খেলা ভালোমতো দেখা যাচ্ছিল না, সবার মন একটু খারাপ। একপর্যায়ে নেটওয়ার্ক একেবারেই নেই, কোনো আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ একজন চিৎকার করে বলল, আর্জেন্টিনা গোল দিয়েছে। ব্যস, পুরো বাস আর্জেন্টিনার স্লোগানে মুখরিত। রাত ৩টার পর খেলা শেষ হলে বাস আবার ধীরে ধীরে নীরব হয়ে এল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এই নীরবতা ক্ষণস্থায়ী। সকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ আমরা মাটিরাঙ্গায় পৌঁছে গেলাম। এখান থেকে সব যানবাহন একসঙ্গে খাগড়াছড়িতে ঢুকবে, গাড়ি ছাড়তে কিছুটা দেরি আছে। বাস থেকে নেমে আশপাশটা একটু ঘুরে দেখলাম, তবে সূর্য ওঠেনি বলে দেখার সুযোগ তেমন হয়নি। একটা টঙের দোকানে বসে সবাই চা খেলাম। চা খেতে খেতে চন্দন স্যার, আবুল কাশেম স্যার আর সুবর্ণা ম্যাম আমাদের সঙ্গে যেভাবে বন্ধুর মতো কথা বললেন, সেটা সত্যিই কল্পনার বাইরে। মনে হচ্ছিল বড় ভাই, বড় বোন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন, আর আমরা শুনছি কীভাবে কী করা যায়। শিক্ষাসফরের এই একটা জিনিস আমার খুব ভালো লাগে, সবাইকে অনেক কাছ থেকে দেখা যায়, অনেক কাছে পাওয়া যায়। মনে মনে এমন সময় আরেকটু বেশি চেয়েছিলাম, কিন্তু সুখ সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী। গাড়ি চলাচল শুরু হতেই সবাইকে বাসে উঠে পড়তে হলো। তবে স্মৃতির পাতায় এমন ঘটনার লেখা কেবল শুরু, পুরো শিক্ষাসফরটাই তখনো বাকি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ইকোছড়ি ইন আর চান্দের গাড়ি</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ধীরে ধীরে আমরা খাগড়াছড়িতে ঢুকলাম। সাজেকে যেতে হয় মূলত খাগড়াছড়ি হয়েই। পূর্ব আকাশে সূর্য উঠছে, আঁকাবাঁকা রাস্তা, তার ধার ঘেঁষে উঁচু-নিচু পাহাড় আর ছোট-বড় গাছপালা এখন হালকা চোখে পড়ছে। জানালার ধারে বসে এসব দেখতে দেখতে খাগড়াছড়ি বাজারের ভেতর দিয়ে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ একটা হোটেলে এসে পৌঁছালাম, হোটেল ইকোছড়ি ইন। আমার কাছে এই হোটেলটাই একটা দর্শনীয় জায়গা মনে হলো। নীল কাচে ঢাকা সুন্দর একটা হোটেল, চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা, নিচে তাকালে ধান আর আখের খেত। হোটেলের সামনের রং-বেরঙের ফুলগুলো দেখে মন জুড়িয়ে যায়: গেটের ওপরে মধুমঞ্জরী (<em>Combretum indicum</em>), ভেতরে হলুদ কাগজফুল, লাল ছোপ ছোপ কাঁটামুকুট (<em>Euphorbia milii</em>) আর থোকায় থোকায় ফুটে থাকা রসুন লতা (<em>Mansoa alliacea</em>)। ছবিপ্রিয়দের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফ্রেশ হয়ে সকালের নাশতা সেরে আবার রওনা দিলাম, তবে এবার আর বাসে নয়, সাজেকের বাহন চান্দের গাড়িতে। ৪টা চান্দের গাড়িতে ৪ জন শিক্ষক আর আমরা মিলেমিশে উঠে পড়লাম। ওঠার আগে জানলাম, সাজেক থেকে ফেরার পথে আবার এই হোটেলেই উঠব। এমন সুন্দর একটা হোটেলে আবার থাকতে পাব শুনে মনে মনে একটু খুশিই হলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চান্দের গাড়িতে মুহূর্তের মধ্যে শহর ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা রাস্তা, রাস্তার ধারে মাঝেমধ্যে বাঁশ-কাঠের দু-একটা বাড়ি, সারি সারি কলাগাছ। যতই দেখি, ততই চেয়ে থাকি। গাড়িতে তখন বাজছে কৃষ্ণপক্ষ ব্যান্ডের তুহিন কান্তি দাসের গান &#8220;চান্দের গাড়ি&#8221;। এমন গান আর এমন প্রকৃতির মাঝে একসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টুরিস্ট ক্যাম্পে যাত্রাবিরতি হলো। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে, আখের রস খেয়ে আবার রওনা দিলাম। তবে রওনা দেওয়ার আগে ঘটল এক মজার ঘটনা। চান্দের গাড়ির সামনে তিন-চারজন মিলে ছবি তুলছিল, তারা সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ একজন বলে বসল, এটা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফ্রেম। একে একে &#8220;আমিও আর্জেন্টিনা, আমিও আর্জেন্টিনা&#8221; বলে ফ্রেম ভরে গেল, শেষে স্যাররাও যোগ দিলে ফ্রেমটা একেবারে জমজমাট হয়ে উঠল। এই ঘটনায় সবাই খুব মজা পেয়েছিলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাঘাইহাটের ঢাল আর পাইলটের রোলার কোস্টার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আবার যাত্রা শুরু, আর পরের বিরতির আগ পর্যন্ত ফুটবলের এই রেশ চলল অবিরাম। পরের যাত্রাবিরতি বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে। সবাই চান্দের গাড়ি থেকে নেমে আশপাশ ঘুরে দেখা শুরু করলাম। হালকা টিলার মতো উঁচু জায়গার পাশে এই বিশ্রামের জায়গা, কিন্তু রোদের তাপে টিকে থাকাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। আমাদের অনেকেই সাজেকে ঠান্ডা হবে ভেবে শীতের কাপড় নিয়ে এসে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে চারদিকের সৌন্দর্যের কাছে এই গরম তুচ্ছ। কেউ হাঁটাহাঁটি শুরু করল, কেউ টিলার পাশে গাছের ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নিল। আমাদের মতো আরও অনেক গাড়ি সেখানে অপেক্ষা করছিল, আর এই মানুষের আনাগোনা ঘিরে রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটা ছোট দোকানও বসেছে। ফলমূল থেকে শুরু করে বাঁশের মগ, অল্প দামের নানা জিনিস অনেকেই কিনছে। আমিও ক্রেতাদের কাতারের একজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাস্তার ধার ঘেঁষে পাহাড়ের ঢালটা একটু ভালোভাবে দেখতেই অনেক রকম টেরিডোফাইট নজরে পড়ল। বিশেষ করে মাটির ওপর ঘাসের মতো ছড়িয়ে থাকা সেলাজিনেলা (<em>Selaginella</em> sp.) একেবারে চোখে পড়ার মতো। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কিছু ম্যাকারাঙ্গা (<em>Macaranga peltata</em>) গাছ ঢালটাকে ছায়ায় ঢেকে রেখেছে, আর ক্যাম্পের চারপাশে লাগানো রেইনট্রি (<em>Samanea saman</em>) আর আকাশমণির (<em>Acacia auriculiformis</em>) দেখাও মেলে। ঢালুতে যে গাছটা আলাদা করে চোখে পড়ল, সেটা ভেরেন্ডা (<em>Ricinus communis</em>)। ফুল ফুটে থাকা অবস্থায় ছিল বলে কয়েকজন উদ্ভিদপ্রেমীর একটা ছোট ভিড়ও জমে গিয়েছিল সেখানে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এভাবে এটা-সেটা দেখতে দেখতে অনেকটা সময় কেটে গেল। তারপর একদম বিরতিহীন পথচলা। সাজেকের পথে নতুন একটা জিনিস খেয়াল করলাম। যখনই কোনো চান্দের গাড়ি যাচ্ছিল, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছোট বাচ্চাগুলো হাত নেড়ে টাটা দিচ্ছিল। বিষয়টা আমাকে খুব কৌতূহলী করে তুলল, একপর্যায়ে আমিও হাত নেড়ে তাদের টাটা দিতে লাগলাম। রাস্তার দুই ধারে উঁচু-নিচু পাহাড়, মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঝরনা, ধার ঘেঁষে সেগুনের (<em>Tectona grandis</em>) বনায়ন, সব মিলিয়ে মন জুড়িয়ে যাচ্ছিল। সেগুনের ফাঁকে ফাঁকে আরেকটা গাছ চোখে পড়ে, ফুলঝাড়ু (<em>Thysanolaena latifolia</em>)। এই গাছের ফুল দিয়েই বাসাবাড়ি পরিষ্কারের ফুলঝাড়ু বানানো হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ধীরেসুস্থে গেলে হয়তো সবকিছু আরও উপভোগ্য হতো, আরও অনেক কিছু দেখা যেত। কিন্তু আমাদের পাইলট (চান্দের গাড়ির ড্রাইভার) যে হারে গাড়ি টানছিল, মনে হচ্ছিল রোলার কোস্টারে বসে আছি। প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগলেও আমাদের চারটা গাড়ির একটাকে পেছনে ফেলে সামনে যেতেই সবাই &#8220;পাইলট, পাইলট&#8221; বলে চিৎকার করে উঠল। সেই যে শুরু, আমরা স্লোগান দিয়ে পাইলটকে আরও উৎসাহ দিতে থাকলাম, আর সামনে থাকা গাড়িগুলোকে একে একে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললাম। একে তো পাহাড়ি রাস্তা, তার ওপর একেবারে সরু, এই ওভারটেক করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। কিন্তু সবাই আনন্দ পাচ্ছিল, আর পাইলটকে বেশ দক্ষ মনে হলো, তাই ঝুঁকির কথা ভুলে আমিও আনন্দে যোগ দিলাম। একপর্যায়ে আমাদের দ্বিতীয় গাড়িকেও পেছনে ফেলে প্রথম গাড়ির ঠিক পেছনে চলে এলাম। সেটাকে পার করার আগমুহূর্তে পাইলট গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়ল। সবাই বলে উঠল, এটা কী হলো? তার হাতে একটা কাগজের প্যাকেট, পাশের দোকানে সেটা দিয়ে, কিছু কথাবার্তা বলে ফেরত এল। ততক্ষণে যতগুলো গাড়িকে পেছনে ফেলে এসেছিলাম, সবগুলো একে একে পার হয়ে গেল। সবাই কী কষ্টটাই না পেল। আমরা আশাবাদী ছিলাম, পাইলট আবার তার জাদু দেখাবে। কিন্তু না, সেদিন তো নয়ই, একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত সে আর সামনের একটা গাড়িকেও ছাড়িয়ে যায়নি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মেঘের দেশে প্রথম দিন</h2>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম সাজেকে। আমাদের বন্ধু রবিউলের পরিচিত একজন ছিলেন বলে দার্জিলিং রিসোর্টে আগেই বুকিং হয়েছিল। খুব সুন্দর, মনোরম পরিবেশ। রিসোর্টের পেছনে তাকালেই দূরদূরান্তের দৃশ্য, রাশি রাশি মেঘ আর সেই মেঘের জন্য মাটিতে আলো-ছায়ার খেলা, সবই চোখ জুড়ানো। হালকা ফ্রেশ হয়ে সবাই দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। শহরে-গ্রামে আমরা সচরাচর যা খাই, মেনুতে তার চেয়ে ভিন্ন ধরনের আইটেম ছিল। ঝাল তুলনামূলক বেশি হলেও খাবার ছিল সুস্বাদু। তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে রিসোর্টে ফিরে একটু বিশ্রাম, তারপর আবার রওনা কংলাক পাহাড়ের উদ্দেশে। এবার চান্দের গাড়ির ছাদে বসার অনুমতি মিলল, তাই বেশির ভাগ ছেলেই ছাদে বসে পুরোটা পথ হইহুল্লোড় করতে করতে গেলাম। কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারপাশ দেখে ছবি তোলার ধুম পড়ে গেল। প্রথমে তেমন মানুষ না থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যে চূড়া মানুষে ভরে গেল, একজনের ছবি তুলতে গেলে আরও কয়েকজন ফ্রেমে চলে আসে, এমন অবস্থা। যে যার মতো ছবি তুলে সন্ধ্যা নামার আগেই কংলাককে বিদায় জানালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঠিক গোধূলির আলোয় আমরা হেলিপ্যাডে চলে এলাম, সবাই মিলে গোল হয়ে বসলাম। স্যার আহ্বান জানালেন, আমাদের মধ্যে যে গান পারে সে শুরু করুক, বাকিরা গলা মেলাবে। সিয়াম গান ধরল, বাকিরা তার সঙ্গে গলা মেলাল। সারা দিনের ক্লান্তিতে হালকা নাশতা করতে করতে গান শুনতে বেশ আরাম লাগছিল। রাতের খাবারের সময় হয়ে আসছিল, তাই আরও কিছুক্ষণ কাটিয়ে সবাই রিসোর্টে ফেরার জন্য তৈরি হলাম। হেলিপ্যাড থেকে রিসোর্ট সামান্য দূরে, তাই বেশির ভাগই হেঁটে এগোলাম। হেলিপ্যাড থেকে নেমেই বেশ কিছু খাবারের দোকান, রিসোর্টে যাওয়ার আগে সেখানে কী কী পাওয়া যায় একবার দেখতে গেলাম। নানা রকম খাবার, যার বেশির ভাগই শহরেও পাওয়া যায়। তাহমিনা ম্যাম সেখানে যারা ছিলাম তাদের মোমো আর ব্যাম্বু চিকেন খাওয়ালেন, সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে আমিও একজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রিসোর্টে ফিরে গোসল সেরে রাতের খাবার খেতে গেলাম আবার সেই দুপুরের জায়গাতেই। কথামতো আমাদের বারবিকিউ পার্টির সবকিছু তারাই তৈরি রেখেছিল, আমরা শুধু গিয়ে খেয়ে এলাম। আগে ভেবেছিলাম সবাই মিলে নিজেরা বারবিকিউ করলে বেশি মজা হতো, কিন্তু শরীরের ক্লান্তির যা অবস্থা, তাতে এটাই ভালো হয়েছে। শিক্ষাসফরের শুরুতেই চন্দন স্যার বলেছিলেন, তিনি ইন্টারনেট খুঁজে, যারা আগে গেছে তাদের অভিজ্ঞতা জেনে, সবচেয়ে ভালো যা হয় তা-ই ঠিক করেছেন। এখন মনে হলো তিনি একদম সঠিক কথাই বলেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খাওয়াদাওয়া সেরে আজকের মতো বিরতি, আর কোনো পরিকল্পনা নেই, এটা ভাবতেও শান্তি লাগছিল। রিসোর্টে গিয়ে এদিক-সেদিক দেখাদেখি নেই, একদম বিছানায়। সেখানে ঘটল এক মজার ঘটনা। সাজেকের অন্য বাড়িগুলোর মতো দার্জিলিং রিসোর্টেরও সবকিছু কাঠের, তাই পাশের রুমের কথাবার্তা স্পষ্ট শোনা যায়। পাশের রুমের বন্ধুরা কী নিয়ে আলোচনা করছে শুনতে পেয়ে কাঠের দেয়ালে টোকা দিয়ে বললাম, পাশের রুমে সবকিছু ভালো তো? ওপাশ থেকে সাড়া এল, চলে। রাত যত গভীর হলো, শব্দ যেন আরও স্পষ্ট হতে থাকল। পাশের রুমের কারও নাক ডাকার শব্দ, এমনকি ওপরের তলায় চলাফেরার শব্দও কানে এসে ঝাঁকি দিচ্ছিল। তবে ক্লান্ত শরীরে কোনো শব্দই আর বাধা হলো না, কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেই পারলাম না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shikkhasofor-2022-porbo-1-sajek/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বন ভবনে একটি স্মরণীয় দিন</title>
		<link>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/</link>
					<comments>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3958</guid>

					<description><![CDATA[বন ভবনে বিপন্ন আর আগ্রাসী উদ্ভিদ নিয়ে একটা সেমিনার, ৫০০ টাকার এক মজার গোলমাল, আর বাসায় ফেরার পথে খালি সিএনজির লম্বা এক খোঁজ।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">মনে রাখার মতো একটা দিন গেল আজ। সত্যি বলতে, বুড়ো বয়সে সময় কাটানোর খোরাক হয়তো এগুলোই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ বন ভবনে, মানে আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে, বাংলাদেশের উদ্ভিদের রেড ডাটা লিস্ট হালনাগাদ আর দেশের কয়েকটি সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশি উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা সেমিনার ছিল। সেখানে হাজির ছিলাম, তবে নিমন্ত্রণপত্র নিয়ে সে এক লম্বা কাহিনি। বলতে শুরু করলে আরও তিন দিন আগের ঘটনা থেকে বলতে হবে, তাই আর বললাম না। এমনিতেই অনেকের অভিযোগ, আমি নাকি পোস্ট অনেক বড় করে ফেলি, পড়তে অসুবিধা হয়। কিন্তু আমি তো আর ইচ্ছা করে বড় করি না, এটা ওটা বলতে বলতে কখন যে পোস্ট লম্বা হয়ে যায় নিজেই টের পাই না। আর একটা ঘটনা তো টুকরো টুকরো করে বলা যায় না, তখন নিজের কাছেই খাপছাড়া লাগে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, আর ভণিতা না করে আজকের স্মৃতিগুলো মনের ভেতর থেকে একটা একটা করে তুলে আনি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রামপুরা থেকে আগারগাঁও</h2>



<p class="wp-block-paragraph">সকালে উঠেই শুনলাম সিয়াম প্রোগ্রামে যেতে পারবে না, মনটা একটু খারাপই হলো। তবে আসল প্রোজেক্টে যেন সে যেতে পারে, এই কামনা করেই রওনা দিলাম রামপুরার টিভি সেন্টারে। সেখান থেকে সম্রাট ভাই, রবিন ভাই, ফাহাদ ভাই, আমরা সবাই একসঙ্গে হয়ে যাব আগারগাঁও। বন ভবনের হৈমন্তী অডিটোরিয়ামে ছিল আমাদের আজকের প্রোগ্রাম। বড় ভাইদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হাতিরঝিলের উপর দিয়ে উবারের হাওয়া খেতে খেতে ঠিক সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে গিয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টের বেশ কয়েকজন স্যারকে দেখতে পেয়ে ভালোই লাগল। আর আজ যে স্যারের ক্লাস ছিল, তাঁকেও প্রোগ্রামে হাজির দেখে আমি যে কী খুশি হয়েছিলাম, বলার মতো না। কিছুক্ষণ পরে সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে পড়ল, আর আমাদের বলা হলো, সবার জায়গা সংকুলান না-ও হতে পারে, তাই আপনারা যারা রেড ডাটা লিস্টের না, তারা নিচের করবী কনফারেন্স হলে চলে যান। তাতেই বুঝলাম, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পরেই সেমিনারটা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে, একসঙ্গে দুটোতে থাকা যাবে না। কী আর করা, আমরা সবাই নিচে চলে এলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">করবী হলের প্রজেক্টর আর গ্রামের সেই নেটওয়ার্ক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">করবী হলে গিয়ে মনে হলো, দেশটা সত্যিই ডিজিটাল হয়ে গেছে। ব্যবস্থা মোটেও খারাপ না। সারা হল জুড়ে তিন দিকে তিনটা প্রজেক্টর, আর উপরে যা হচ্ছে সবই জুম অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হচ্ছে। প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা। কত রকমের কত বিচিত্র শব্দ যে হচ্ছিল, নিজে উপস্থিত না থাকলে তা কখনো বোঝা যাবে না। সাউন্ড ঠিক হলো তো শুরু হলো নতুন সমস্যা। বারবার দেখায় নেটওয়ার্ক আনস্টেবল, এই থামে, এই যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহামারির সময় যখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, জুমে ক্লাস করতে গিয়ে ঘণ্টাখানেকের ক্লাসে কতবার যে ডিসকানেক্টেড হয়ে যেতাম তার হিসাব থাকত না। খুবই হতাশ লাগত। কিন্তু আজ আমার এতদিনের সেই হতাশার অবসান ঘটল। সরকারি ভবনে অত্যাধুনিক সবকিছু থাকার পরেও যদি উপরের ঘর থেকে নিচের ঘরে কানেক্ট করতে ব্রডব্যান্ডের নেটওয়ার্ক আসা-যাওয়া করে, তাহলে আমি গ্রামের বাড়িতে বসে হতাশ হব কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইসব ঝুটঝামেলা থেকে রেহাই পেলাম যখন একজন কর্মকর্তা এসে বললেন, আপনারা যারা আছেন সবাই উপরে চলে আসেন, ছড়ানো-ছিটানো কিছু জায়গা বাকি আছে। এক লাফে উঠে দৌড় দিলাম দোতলার হৈমন্তী অডিটোরিয়ামে। গিয়ে দেখি বনমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বন উপমন্ত্রী, জাতীয় হার্বেরিয়ামের প্রধানসহ আরও অনেকে উপস্থিত। শুরু হলো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। তাঁরা অনেকেই নানা বিষয়ে কথা বললেন, দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরলেন, সঙ্গে ভবিষ্যতে কী কী ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করলেন। দেখতে দেখতে সময় কেটে গেল, অনুষ্ঠানের এই অংশও শেষ হলো।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আসল প্রোগ্রাম আর ৫০০ টাকার চমক</h2>



<p class="wp-block-paragraph">চা বিরতিতে নাস্তা নিয়ে আবার চলে এলাম সেই করবী কনফারেন্স হলে। এবার শুরু হলো আসল প্রোগ্রাম। কারা আগ্রাসী উদ্ভিদ, কিসের ভিত্তিতে তাদের ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা যায়, কারা বিদেশি উদ্ভিদ, কীভাবে তাদের শনাক্ত করা যায়, অনেক কিছুই জানতে পারলাম। সঙ্গে একজন প্রফেসরের কাছে কিছু কথা শুনে অবাকও হলাম। ইউক্যালিপটাস (<em>Eucalyptus camaldulensis</em>), আকাশমণি (<em>Acacia auriculiformis</em>), এই গাছগুলোকে যাঁরা প্রথমে উপকারী বলে দেশে এনে লাগাতে উৎসাহ দিতেন, আজ তাঁরাই এগুলো না লাগানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তাই নতুন কোনো গাছ উপকারী হবে নাকি অপকারী, সেটা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে বলা যায় না, কিছু সময় পরে বোঝা যায়। আর আরেকটা কথা, অন্য দেশে যে গাছ উপকারী, আমাদের দেশের জন্যও সেটা উপকারী হবে, এমনটা না-ও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটা বিষয় অনুভব করলাম। আজকের সেমিনারে দেশের সেরা উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন বলেই ধারণা করি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেমন যেন যোগাযোগের অভাব মনে হলো। হয়তো বছরে এমন দু-একটা সেমিনার হয়, আর সেই সেমিনারের আড়াই-তিন ঘণ্টার জন্যই তাঁরা একসঙ্গে হন। কারণ বেশ কিছু বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো সমাধান হলো না, সময় শেষ হয়ে গেল, বিষয়গুলো অমীমাংসিত অবস্থাতেই থেকে গেল। কে জানে কবে এর সমাধান হবে। অবশ্য আমার ধারণা ভুলও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যা-ই হোক, একে একে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা তাঁদের মূল্যবান আইডিয়াগুলো উপস্থাপন করলেন। এর মাঝেই ঘটল এক মজার ঘটনা। দেখলাম হাতে হাতে একটা খাতা পাশ হতে হতে এদিকে আসছে। ভাবলাম, কে কে আছে হয়তো তার একটা লিস্ট। খাতাটা একটু কাছে আসতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। নামের পাশে টাকার একটা ছক। দেখলাম ফাহাদ ভাই আগের পাতাগুলো উল্টে দেখছেন কে কত টাকা দিয়েছে। সবাই ৫০০ টাকা করে দিয়েছে। রবিন ভাইও তা-ই দিল। আমি আবার সামনে বসা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনিও তা-ই বললেন। কী আর করা, আমিও নাম আর ৫০০ টাকা লিখে পাশের জনের হাতে দিলাম, আর মনে মনে হিসাব করলাম, ৫০০ টাকা দিয়ে একটা সেমিনারে এলাম। একটু অনুশোচনাও হচ্ছিল, ৫০০ টাকা দিতে হবে আগে জানলে হয়তো আসতামই না। তারপর ভাবলাম, কত টাকা কত দিকে যায়, এমন তথ্যবহুল সুন্দর একটা সেমিনারের জন্য না হয় দিলামই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণ পরে একজন কর্মকর্তা সবার হাতে হাতে একটা করে খাম দিয়ে গেলেন। সেই চমক, সেই। খামের ভেতর থেকে কাগজের মতো একটা কিছু বের করে দেখি ৫০০ টাকার এক কড়কড়ে নোট। কী যে চমক ছিল এটা। আমি তো হেসে কুটিকুটি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">খাবারের ব্যাগ আর বিলিম্বি গাছ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">বেশিক্ষণ আর বসে থাকতে হলো না। অল্পক্ষণ পরেই সেমিনার শেষ, খাবারের ব্যাগ চলে এল। ব্যাগ খুলতেই স্টেজের মতো সাজানো খাবারের সব বাটি। দেখেই আমাদের ডিপার্টমেন্টের খাবারের কথা মনে পড়ে গেল। ডিপার্টমেন্ট যে আরও কত দিন বন্ধ থাকবে, আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। অনেক দিন পর বড় ভাইদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে দুপুরের খাবার শেষ করলাম। শুধু মনে হচ্ছিল, জহিরের ক্যান্টিনে ঘাসের উপর বসে সবাই মিলে দুপুরের খাবার কত দিন খাই না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু বিশ্রাম নিয়ে এবার বন ভবনকে বিদায় দেওয়ার পালা। ধীরেসুস্থে গেট দিয়ে বেরিয়ে চলে যাব, ঠিক সেই সময় একটা বিলিম্বি গাছ (<em>Averrhoa bilimbi</em>) চোখে পড়ল। আমি ছোট মানুষ, হাতই পেলাম না। দিপন কিছু বিলিম্বি পেড়ে দিতে সাহায্য করল। তারপর রবিন ভাই আর দিপন দুজন দুদিকে চলে গেল। আর আমি, ফাহাদ ভাই আর সম্রাট ভাই রওনা দিলাম বাসায় ফেরার সিএনজির খোঁজে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">খালি সিএনজির খোঁজে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে আছি আইডিবি ভবনের সামনে, সিএনজি নাই তো নাই। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সবাই আবার রাস্তা পার হয়ে ওপারে গেলাম। এপাশে যেগুলো দেখে এলাম সেগুলো সব ভরা, খালি নাই তো নাই। এখানেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সম্রাট ভাই বলল, চলো রিকশায় ফার্মগেট চলে যাই, সেখানে সিএনজি পাওয়া যাবে। কথামতো ফার্মগেটের দিকে যেতে যেতে অনেক সিএনজি দেখে কী মনে হলো, বিজয় সরণিতে নেমে পড়লাম। নেমেই এক বোকামি করলাম। অগুনতি সিএনজি যায়, কিন্তু একটাও খালি নাই। সেখানে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কোনো উপায় না দেখে হাঁটা ধরলাম। কাদা-পানিতে হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালাম ফার্মগেটের আগের লিংক রোডে। আবারও একই অবস্থা, কোনো সিএনজি ফাঁকা নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার তো সম্রাট ভাই একদম বসেই পড়ল। উবারে কল দিয়ে প্রথমটা ক্যানসেল, আরেকটা রিসিভ করল, কিন্তু কেন জানি না দ্বিতীয়টাও ক্যানসেল। হঠাৎ একটা সিএনজি ফাঁকা দেখে ভাই চিৎকার দিয়ে উঠল। সিএনজির পাশে যেতেই আরেকটা ফাঁকা সিএনজি এসে সেখানেই থামল, ভালোই হলো। প্রথমটা ভাড়া বেশি চাইল বলে ভাই রাজি না হয়ে পরেরটার ভরসায় ছেড়ে দিল। দ্বিতীয়টাকে জায়গার নাম বলতেই যাব না বলে চলে গেল। প্রথম জনকে তার চাওয়া ভাড়াই দিতে চাইলাম, কিন্তু সে আর ফিরে তাকাল না। চলে গেল তো গেলই। আমরা তো একদম হতাশ। অবশেষে কীভাবে যেন একটা সিএনজি ম্যানেজ হলো, তাতে করে বাসায় ফিরে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিনটা ভালোই ছিল, স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শেষে ধন্যবাদ জানাই জসীম উদ্দিন স্যারকে। তিনি আমাদের এমন একটা সুন্দর সেমিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেই আজ অনেক কিছু জানতে পারলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এর কয়েক সপ্তাহ পরেই আমরা রওনা দিয়েছিলাম রেমা-কালেঙ্গার পথে। সেই দিনগুলোর গল্প আছে &#8216;রেমা-কালেঙ্গার দিনগুলো&#8217; সিরিজে।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/bon-bhabane-smaraniyo-din/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সবই নিয়তি</title>
		<link>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/</link>
					<comments>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3954</guid>

					<description><![CDATA[যমজ ভাইয়ের বই কিনতে নীলক্ষেতে গিয়েছিলাম, আর দোকানদার আমাকে ভাই ভেবেই বসলেন। এরপর যা ঘটল, তাকে নিয়তি ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">২০২০ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। আমার পরীক্ষা শেষ, ক্লাস শুরু হব হব করছে, আর জামানের ততদিনে পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। একদিন সে বলল, তুমি তো ফ্রি আছ, নীলক্ষেত গেলে আমার কিছু বই কিনে দিয়ো তো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্য সময় হলে হয়তো কাজটা করার জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিতাম, কিন্তু দেখলাম সত্যিই তার সময় নেই। বেচারার জন্য একটু মায়া হলো, তাই বললাম, ঠিক আছে, কী কী বই লাগবে একটা লিস্ট করে দিয়ো। সে প্রথমে অনেকগুলো বইয়ের একটা লিস্ট ধরিয়ে দিলেও পরে বলল, এখন তো সব লাগবে না, তুমি এটা, এটা আর এটা, মোট এই ৩টা বই কিনলেই হবে। আর নীলক্ষেতে অমুক দোকানে গেলে এই বইগুলো পেয়ে যাবে, খুঁজে বেড়াতে হবে না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ফাল্গুনীর প্রথম ট্রিপ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">পরের দিন নীলক্ষেতে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্যাম্পাসে গেলাম, কিন্তু পুরো ক্যাম্পাস ঘুরেফিরে দেখতে গিয়ে নীলক্ষেত যেতে একটু দেরি হয়ে গেল। জলদি সব কিছু সেরে ফেলতে না পারলে ফাল্গুনীর প্রথম ট্রিপ মিস করব। তাই তাড়াহুড়ো করে জামানের বলা সেই দোকানে গেলাম। আমি যেমন ভেবেছিলাম, দোকানটা তেমন খুব একটা বড় না। যা-ই হোক, সেখানে ঢুকতেই দোকানে যিনি বসে ছিলেন তিনি বললেন, কেমন আছেন? আজকে আপনার ক্লাস নাই?</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁর কথা শুনেই বুঝলাম, লোকটা জামানকে চেনেন, হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর কাছ থেকেই বই কেনে। কিন্তু এখন আমি কী করি? তাঁকে কি বলব যে আপনি হয়তো আমাকে জামান ভেবেছেন, আসলে আমি সে নই, আমি তার যমজ ভাই, সে EEE-তে পড়ে আর আমি বোটানি ডিপার্টমেন্টে, সে বই কিনতে আসার সময় পায়নি তাই তার বই আমি কিনতে এসেছি, ইত্যাদি ইত্যাদি? এত কিছু বলার সময়ও তো নেই, দেরি করলেই ফাল্গুনী মিস। তা ছাড়া অচেনা লোক বুঝতে পারলেই তো বেশি দাম চেয়ে বসবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে বললাম, জি ভাই, আজকে আমার ক্লাস নাই, আমার ছুটি চলে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ল্যাও ঠ্যালা সামলাও</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি ওপরে উঠে খুঁজে খুঁজে একটা বই বের করে দিলেন। দিয়ে বললেন, ভাই, এই বইটা নেন, আর আপনি যে ২য় বইটা চেয়েছেন, সেটা আপনার ডিপার্টমেন্টে আমি ৩০ কপি পাঠিয়েছি গত পরশু। আপনার সিআর অভিজিৎকে কল দেন, আরও কপি লাগলে আমি আপনার ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেব। ল্যাও ঠ্যালা সামলাও। এখন কী করি? জামানকে কল দিলাম, কিন্তু সে কলটা কেটে দিল। একটা মেসেজ এল, সে ক্লাসে আছে, কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শেষ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর কী করার, পরে বাড়ি গিয়ে জামানকে বিষয়টা বলব, যেন সে তার সিআরকে জানায়। কিন্তু এখন তো সেটা সম্ভব না, তাই বিষয়টা একটু এড়ানোর চেষ্টা করলাম। বললাম, আচ্ছা ভাই, আমি তাকে জানিয়ে দেব, আর কত কপি লাগবে সেটাও বলে দেব। এই বলে তাঁর মোবাইল নম্বরটা চেয়ে নিলাম। মনে মনে ভাবলাম, এই যাত্রায় একটুর জন্য বেঁচে গেলাম। কিন্তু এ তো কেবল শুরু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটা বই চাইতেই তিনি বললেন, ভাই, আপনার সিনিয়র রাফি ভাই আছে না, গত বছর তারা এই ৩য় বইটার বদলে এই বইটা নিয়ে গিয়েছিল। এই বলে আরেকটা বই আমার সামনে রাখলেন। রেখে বললেন, ভাই, এটা দুই বছর পর পর লাগে, মানে এই বছর নিলে পরের বছর লাগে না, তার পরের বছর আপনাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই নিয়ে যায়। তাহলে কি এটা কপি করতে দেব ভাই? আর কত কপি লাগবে, একটু আপনার সিআরকে একটা কল দিয়ে কনফার্ম করলে আমি আজকেই কপি করতে দিয়ে দেব, কাল-পরশুর মধ্যে আপনার ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে দেব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার আর কিছু বলে বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই পেলাম না। কল দেন, কনফার্ম করেন বলে বলে এমনভাবে জাপটে ধরলেন যে কী বলব বুঝে পাচ্ছিলাম না। কী আর করার, সবই নিয়তি।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বোটানির বই লাগবে না?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁকে বললাম, ভাই, আপনি আমাকে যে ভাবছেন, আমি সে নই। জামান আমার যমজ ভাই, সে সময় পায়নি, তাই আমি তার বই কিনতে এসেছি। কথাগুলো শুনে তিনি বললেন, আচ্ছা ভাই। আমি তো ভেবেছিলাম এই বুঝি বকাঝকা শুরু করবেন, কিন্তু না। তিনি বললেন, ভাই, আপনার বোটানির কোনো বই লাগবে না? তাঁর কথা শুনে মনে হলো, একেই বলে বিজনেসম্যানের স্ট্র্যাটেজি। যা-ই হোক, কত টাকা লাগবে জিজ্ঞেস করে টাকাপয়সা দিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে হতাশাজনক যে ঘটনাটা ঘটে, সেটাই ঘটল। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি ফাল্গুনী চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমি যত দূরে আছি, সেখান থেকে দৌড়েও লাভ নেই, ডাক দিয়েও লাভ নেই। তারপরও সবাই যা করে, একটু পিছু পিছু দৌড় দিলাম, এই আশায় যে যদি জ্যামে পড়ে। কিন্তু কপাল এমনই যে শেষমেশ লোকাল বাসে বাসায় এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতে জামানকে সব ঘটনা খুলে বললাম। পরে জানতে পেরেছিলাম, লোকটা আমার কাছ থেকে বইটার দাম ঠিকই বেশি নিয়েছিলেন। মানে দিন শেষে আমার আম তো গেলই, সঙ্গে ছালাটাও গেল।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/sobi-niyoti-nilkhet-boi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ঢাকায় ফিরব, নাকি থেকে যাব?</title>
		<link>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/</link>
					<comments>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3950</guid>

					<description><![CDATA[২০২০ সালের মে মাস। লকডাউন শিথিল হচ্ছে, সবাই ঢাকায় ফিরছে, অথচ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গ্রামের বাড়িতে আটকে থেকে ভেবেই পাচ্ছি না, সবার সঙ্গে আমিও ফিরব কি না।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">একটু খোলামেলাভাবে কিছু কথা বলি। মার্চের শুরুতে যখন প্রথম ঘোষণা এল যে দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার আগে থেকেই বিষয়টা কিছুটা আঁচ করতে পারছিলাম। তাই ১৬ মার্চ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লাম। কিন্তু যতটা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হলো। ফলে এখানেই আটকে গেলাম, ঢাকায় আর ফেরা হলো না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">আমার নিজের একটা ধারণা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এতদিন আমার মনে একটা ধারণা ছিল, একেবারেই নিজস্ব ধারণা, কোনো প্রমাণ ছাড়া। মনে হতো, টিভিতে আক্রান্তের যে সংখ্যা দেখানো হয়, আসল সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশি। সঙ্গে এটাও ভাবতাম, অনেক বড় একটা সংখ্যা হুট করে সবার সামনে চলে এলে মানুষ হয়তো প্যানিক হয়ে যাবে, প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবে। দুশ্চিন্তা একজন সুস্থ মানুষকেই অসুস্থ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, আর যারা সত্যিই আক্রান্ত, তাদের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে সেটা না হয় না-ই বললাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঈদের আগে পর্যন্ত আমি এমনটাই ভাবতাম। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম, ঈদের আগে সীমিত পরিসরে সব কিছু খুলে দেওয়া হলো। এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার কারণ বোঝার চেষ্টা করতে করতেই দেখলাম যানবাহনও চালু হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মাথায় নানা রকম ব্যাখ্যা আসছিল। হতে পারে আমাদের কথা ভেবেই সব কিছু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ ছেড়ে না দিলেও যে লুকিয়ে লুকিয়ে যে যার মতো দোকান খুলবে, বাড়ি যাবে, এটা সবাই জানে। ঈদের নামাজের আগে ইমাম সাহেব যে কথাটা বললেন, সেটাও অনেকটা এ রকমই। তিনি বললেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে বলে নয়, হাজার নিষেধ করলেও বাঙালি ঈদের নামাজ পড়বেই, তাই বাধ্য হয়েই নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেন অন্তত কিছু নিয়মকানুন মেনে নিরাপদে নামাজটা পড়া হয়। আবার এর কোনোটাই না হয়ে অন্য কিছুও হতে পারে। আসল ঘটনা কী, বোঝা মুশকিল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">সবাই ঢাকায় ফিরছে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">ঈদের পর এই নিয়ে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু করার আগেই এখন শুনছি, ১৫ জুনের পর আর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে না, সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। আজ খবরের পাতায় পাতায় একই কথা, ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে, সবাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু এমন কেন? আজই তো দেখলাম আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে। অনলাইনে একটা হেডলাইনে চোখে পড়ল, সর্বোচ্চ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, এক দিনে ২,৫২৩ জন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাহলে এভাবে লকডাউন তুলে নেওয়া কি ঠিক হবে? দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আমি জানি না। হয়তো তাঁরা এমন কিছু দেখছেন, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না। তবে গ্রামবাসী হোক বা শহরবাসী, এই দেশের গুটিকয়েক মানুষ বাদে কাউকে দেখে মনেই হয় না যে করোনায় আক্রান্তের হার প্রতিদিন কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মোড়ে গিয়ে যা দেখলাম</h2>



<p class="wp-block-paragraph">চিন্তার বিষয় হলো, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও লকডাউনের প্রভাব প্রথমে যেমন ছিল, আজ তার সামান্যতমও নেই, দিন দিন আরও কমছে। গতকাল একান্ত প্রয়োজনে বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয়ে মোড়ে গেলাম। দেখলাম রাস্তা একদম গরম। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, শুধু বাসটাই চোখে পড়ল না, তা ছাড়া রীতিমতো সব কিছুই চলছে, কোনো রকম করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা ছাড়াই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অত মানুষের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কারও মুখে মাস্ক নেই, নিরাপদ দূরত্ব বলেও কিছু নেই। আর তাদের যুক্তিটাও কী সুন্দর। তারা বলছে, এ পর্যন্ত এখানে কারও করোনা ধরা পড়েনি, তাই চিন্তার কিছু নেই। কথাটা ঠিক আছে, কিন্তু তারা বুঝতে চায় না যে এখনো ধরা পড়েনি মানে এই না যে ধরা পড়বে না। আর যত দিনে একজন রোগী শনাক্ত হবে, তত দিনে তার থেকে আরও কত মানুষ আক্রান্ত হবে, তার কি কোনো হিসাব আছে?</p>



<h2 class="wp-block-heading">তাহলে আমি কী করব?</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তাহলে কি এতদিন আমি ভুল ভেবে এসেছি? হয়তো টিভিতে যে সংখ্যা দেখানো হয়, সেটাই ঠিক। আর করোনার ভয়ে দিন কাটাচ্ছি শুধু আমি একাই, এমনও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভেবেই পাচ্ছি না এখন আমি কী করব। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যায়, তাহলে কি চারপাশের সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে, নিজের এতদিনের সব চিন্তাভাবনা ভুল মেনে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাব? নাকি নিজের ভাবনাটাই ঠিক ধরে নিয়ে কুরবানির ঈদ পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে থেকে যাব, তারপর ঢাকা ফিরব? উত্তরটা এখনো খুঁজছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>এটা পুরোটাই ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনার ব্যক্তিগত পোস্ট, কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/dhakay-firbo-naki-theke-jabo/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শুধু পরিকল্পনা থাকলেই হয় না</title>
		<link>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/</link>
					<comments>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3942</guid>

					<description><![CDATA[২০২০ সালের লকডাউনের আগে ঢাকায় মাসখানেকের বাজার করে রাখলাম, তারপর হঠাৎ মনে হলো গ্রামের বাড়ি ঘুরে আসি। পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের ফারাকের একদম হাতে-কলমে শিক্ষা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">শুধু আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলেই হয় না, সঙ্গে সেটা সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নও করা লাগে। কেউ যদি এই দুটোর একটা সমন্বয় করতে না পারে, তাহলে অন্তিম ফলাফল শূন্য। কথাটা বুঝতে অসুবিধা হলে একটা বাস্তব উদাহরণ দিই, আর উদাহরণটা আমার নিজেরই।</p>



<h2 class="wp-block-heading">এক মাসের বাজার</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এই কিছুদিন আগের কথা, বেশি না, এই মার্চ মাসেরই ১৩ কি ১৪ তারিখ। হঠাৎ বুঝতে পারলাম করোনাভাইরাসের কারণে দেশের পরিস্থিতি ভালো না, যেকোনো দিন জরুরি অবস্থা জারি করে সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ভাবলাম, এই ঘোষণা দেওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলি। এখন না কিনলে ঘোষণা দেওয়া মাত্রই দাম বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে যাবে, এমনকি জিনিসপত্র নাও পেতে পারি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই বাড়িতে পরামর্শ করে ১৫ তারিখ যা যা প্রয়োজনীয়, মাছ-মাংস, তেল-ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, ডিম, লবণ-চিনি, সাবান, ডেটল, তরিতরকারি, সব মাসখানেকের মতো কিনে ফেললাম। বাসা থেকে বের হতে দেবে না? না দিক। কোনো সমস্যা নেই, অন্তত এক মাস নিশ্চিত।</p>



<h2 class="wp-block-heading">পরের দিনই ঘোষণা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">তার পরের দিনই, ১৬ তারিখে, ঘোষণা এল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুদিনের জন্য বন্ধ। বাহ্, আমি তো খুশি। হঠাৎ করেই দুপুরবেলা মনে হলো, এই সুযোগে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। একদম তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, গ্রামের বাড়ি যাব, আর রাতেই রাজশাহী চলে এলাম। সেখানে কিছুদিন থেকে যেদিন গ্রামের বাড়ি এলাম, তার পরের দিন থেকেই ঘোষণা: রাস্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, আর সাধারণ গণপরিবহন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ।</p>



<h2 class="wp-block-heading">বাজার ঢাকায়, আমি গ্রামে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এখন পুরো দেশ বন্ধ। আর ঢাকায় পড়ে আছে আমার সেই পূর্বপরিকল্পনার খাবারদাবার। আমি এখন এই গ্রামের বাড়িতে ভয়ে ভয়ে দোকানে গিয়ে এটা ওটা কিনছি আর খাচ্ছি। মাঝে মাঝে নিজেকে বকাও দিচ্ছি, গ্রামের বাড়ি কেন যে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গল্প এখানেই শেষ। আর শিক্ষাটা? সেটা তো একেবারে শুরুতেই বলে দিয়েছি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/shudhu-porikolpona-thakle-hoy-na/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিনজনের স্মৃতির পাতায় একদিন</title>
		<link>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/</link>
					<comments>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3938</guid>

					<description><![CDATA[পরীক্ষা শেষে দুই বন্ধুর সঙ্গে কোনো প্ল্যান ছাড়াই একটা দিন: গার্ডেন, মাটির নিচের জাদুঘর, রাস্তার ধারে গাছ চেনার প্রতিযোগিতা, আর শেষে বিরিয়ানির ভোজ।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার রহমতে আজকে খুব সুন্দর একটা দিন কাটল। একদম মনে রাখার মতো একটা দিন। জানি না এমন দিন আবার পাব কি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গতকাল সুজন কল দিয়ে বলেছিল, আজকে যেন ক্যাম্পাসে আসি। এমনিই, কোনো কারণ ছাড়াই, ঘুরতে ফিরতে। পরীক্ষাও শেষ, ছুটির দিন, বাসায় বসে এমনিতেও তেমন কিছু করা হচ্ছিল না। তাই সকালে উঠেই রওনা দিলাম ক্যাম্পাসে। পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুজনের কল। ভেবেছিলাম সে ক্যাম্পাসেই আছে, কিন্তু সে বলে, ঘুম থেকে উঠলাম, আসছি, একটু অপেক্ষা করো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাসিফকে কল দিলাম, সে বলে সেও বাইরে, তারও আসতে একটু সময় লাগবে। কী আর করার, গার্ডেনে গিয়ে একটু ঘুরে ফিরে, কিছু ছবি তুলে হলের দিকে গেলাম। দেখলাম রাসিফ এসেছে, তার সঙ্গে চা খেতে গেলাম। কিছুক্ষণ পরে সুজনও চলে এল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">কোনো প্ল্যান ছাড়াই বেরিয়ে পড়া</h2>



<p class="wp-block-paragraph">এইবার কী করা যায়? ঘুরব ফিরব ঠিক আছে, কিন্তু কোথায়? কোনো প্ল্যান তো নেই। রাসিফ বলল, চলো গার্ডেনে যাই, অনেক দিন যাওয়া হয় না। সুজনও যেতে চাইল দেখে আমি আর দ্বিমত করলাম না, আবারও গেলাম গার্ডেনে। সেখানে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে কথায় কথায় বলে বসলাম, চলো রমনায় যাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে গেলে একসঙ্গে দুটোই হয়ে যায়। এই বলে বেরিয়ে পড়লাম সেদিকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কী যে ভালো লাগছিল, বলার মতো না। মাথায় কোনো প্রেশার নেই, কোনো তাড়া নেই। নিশ্চিন্ত মনে তিনজন মিলে গল্প করতে করতে হাঁটছি, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানে যেতে যেতেই দেখলাম, অনেকে স্বাধীনতা জাদুঘর দেখার জন্য ভিড় করে আছে। আমি কখনো যাইনি, তাই প্রস্তাব দিলাম, চলো সেখানে যাই। রাসিফও নাকি যায়নি, ভালোই হলো। আমার কী একটা অবস্থা, ক্যাম্পাসের একদম পাশেই এই জাদুঘর, কিন্তু দুই দুইটা বছর পার করে তৃতীয় বর্ষে পা দিয়েছি, তবুও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কেউ শুনলে অট্টহাসি দেবে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মাটির নিচের জাদুঘর</h2>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক, গেলাম সেখানে। পুরোটাই মাটির নিচে, সবগুলো রুম আন্ডারগ্রাউন্ড। ১৯৭১ সালের পর থেকে বেশ কিছু পত্রিকার খবর, আর তার সঙ্গে স্মরণীয় কিছু ঘটনা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে কৃত্রিম ঝরনাটা। দেখার মতো একটা দৃশ্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাদুঘর থেকে বের হতে হতেই দেখি দুপুর দেড়টা বাজে। রমনা আজকে আর হয়ে উঠবে না, সেটা বুঝতে আর বাকি রইল না। আমরা আবার হলের উদ্দেশে রওনা দিলাম।</p>



<h2 class="wp-block-heading">রাস্তার ধারে গাছ চেনার প্রতিযোগিতা</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আসতে আসতে হঠাৎ সুজন বলে উঠল, নাগেশ্বর গাছ। এটা শুনে রাসিফ বলল, <em>Mesua ferrea</em>। আমি আবার একটু মজা নেওয়ার জন্য বললাম, সমনাম <em>Mesua nagassarium</em>। ভাবলাম, এখানে একটা গাছ চেনার প্রতিযোগিতা শুরু করে দেওয়া যাক। তাহলে ওদের কিছু নতুন গাছ চেনা হবে, সঙ্গে সঙ্গে যেগুলো চেনে সেগুলো আরেকটু রিভাইজ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই সেদিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করলাম, এই গাছটা কে চেনো? দেখলাম দুজনেই চেনে, কিন্তু রাসিফ সায়েন্টিফিক নাম বলে সুজনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল। পরের গাছটার নাম কী, এটা বলাতে রাসিফের আগেই সুজন উত্তর দিয়ে এগিয়ে গেল। তারপরেরটা দুজনেই একসঙ্গে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইভাবে আসতে আসতে রাস্তার ধারের বেশ কিছু গাছের নাম আর বৈজ্ঞানিক নাম জানা হয়ে গেল। ভালোই হলো, ঘোরাফেরাও হলো, সঙ্গে সঙ্গে কিছু পড়ালেখাও। মজার বিষয় হলো, আমরা ল্যাবে গাছ নিয়ে কত কী না করি, কিন্তু বাস্তবে সেই গাছগুলো কজন চিনি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইভাবে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ দেখা গেল, একটা গাছে দোলনার মতো করে দড়ি বাঁধা আছে। রাসিফ আগে ছুটে গেল, তার দেখাদেখি গেল সুজন। দুজনে মিলে পালাক্রমে অনেক কষ্টে সেটায় দোল খাওয়ার চেষ্টা করছে। আমি তো ভাবছিলাম, কেউ একজন দড়ি ছিঁড়ে ধপাস করে পড়বে, কারণ দড়িটা খুব একটা শক্ত বলে মনে হলো না। কিন্তু তাদের বাচ্চামি দেখে এই চিন্তাটা খুবই নগণ্য বলে মনে হলো। সৌভাগ্য যে তারা অক্ষত অবস্থায় দোল খাওয়া শেষ করল।</p>



<h2 class="wp-block-heading">মামুন বিরিয়ানি হাউসে ভোজ</h2>



<p class="wp-block-paragraph">হয়তো আরও কিছু সময় সেখানেই কাটত, কিন্তু সুজনের ইমার্জেন্সি কিছু কাজ থাকায় যত দ্রুত সম্ভব আমরা হলে ফিরে এলাম। হলে এসে ভাবলাম সবাই মিলে খেতে যাব, কিন্তু এসে দেখি বেনি আমিন খাবার নিয়ে রেডি, মোমিনুরও খাবার প্লেটে নিয়ে বলে, খেয়ে নিলাম। বাইরে হাসিবুরকে বললাম, সেও খেয়ে ফেলেছে। আসলে আরেকটু আগে আসতে পারলে হতো। সমস্যা নেই, আজ হয়নি, অন্য দিন হবে ইনশাআল্লাহ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বের হলাম খাবারের উদ্দেশে। যাওয়ার প্ল্যান ছিল অনেক দূর, কিন্তু এই খিদে আমাদের দূরত্বকে সর্বোচ্চ কমিয়ে নিয়ে এল মামুন বিরিয়ানি হাউসে। তিনজন মিলে গেলাম, সুজনের ট্রিটে ভালো খানাই খেলাম, একদম তৃপ্তি সহকারে খেলাম। এমন খাওয়া খেলাম যে আর হেঁটে ফিরে আসার অবস্থা নেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেখানেই বসে রইলাম, আর যখন মনে হলো দেহ এবার একটু হাঁটার সায় দিচ্ছে, তখন কোনো রকমে উঠে এলাম হলের দিকে। আসতে আসতে শহীদুল্লাহ হলে খেলা চলছে দেখে গেলাম সেদিকে। আমি আর সুজন চলে এলাম, আর রাসিফ সেখানে থেকে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুজন হলে এসে শুয়েই পড়ল। জিজ্ঞাসা করায় বলল, আমি বাড়ি যাব না। আর আমি আমার ৫.১০-এর ফাল্গুনী ধরে বাসায় ফিরে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চমৎকার একটা দিন কাটল। আবারও চাই, এমন কতগুলো দিন ফিরে আসুক আমাদের জীবনে। এইবার ইনশাআল্লাহ রমনা পার্কে যাব। খুব শীঘ্রই যাব।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/tinjoner-smritir-patay-ekdin/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্লান্ট ট্যাক্সোনমি কনফারেন্সে একদিন</title>
		<link>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/</link>
					<comments>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনের গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3934</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের প্লান্ট ট্যাক্সোনমিস্টদের বাৎসরিক কনফারেন্সে গিয়ে বুঝলাম, আসল সম্মানটা আসে জ্ঞান থেকে। ছিল একের পর এক কঠিন প্রশ্ন, আর এমন একটা খাওয়া যা আজও মনে আছে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আজকে প্রথমবার বুঝলাম, অন্য ইউনিভার্সিটির স্যারেদের কাছে আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যারেদের কথার ওজন কতটা। আজকের প্লান্ট ট্যাক্সোনমি কনফারেন্সে না গেলে হয়তো কখনো বুঝতেই পারতাম না। তবে একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি, এই ওজনটা ইউনিভার্সিটির নামের নয়, জ্ঞানের। সারা দিন চুপচাপ বসে থেকে এইটুকু খুব পরিষ্কার হয়ে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ প্লান্ট ট্যাক্সোনমিস্টসের (Bangladesh Association of Plant Taxonomists) প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সেক্রেটারি, ট্রেজারার, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বেশির ভাগই আমাদের ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় স্যারেদের হাতে। আজকে ছিল অ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক কনফারেন্স। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি আর কলেজের রিসার্চার আর প্রফেসররা তাঁদের গবেষণা নিয়ে এসেছিলেন। একেকজন প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর প্রেজেন্টেশন শেষে সময় দেওয়া হচ্ছিল, যাতে উপস্থিত বাকিরা সেই গবেষণা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">যে বইয়ের লেখকেরা সামনেই বসে</h2>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথমেই একজন প্রফেসর তাঁর প্রেজেন্টেশন শুরু করলেন। শুরুতেই তিনি Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh বইটির রেফারেন্স টেনে কিছু তথ্য তুলে ধরলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্যারেরা ধরিয়ে দিলেন, তথ্যটা ঠিক নয়। তিনি একটু ঘাবড়ে গেলেন, আর সেটাই স্বাভাবিক। একজন মানুষ একটা বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলছেন, আর সেই বইয়েরই দুজন লেখক সামনে বসে তাঁর ভুল ধরছেন, ঘাবড়ে না গিয়ে উপায় কী? সামনে বসা তাহমিনা ম্যাম সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি বললেন, কোনো প্রশ্ন থাকলে প্রেজেন্টেশনের পরে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দেওয়া হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রেজেন্টেশন শেষ হতেই আবার প্রশ্ন শুরু হলো। তিনি তাঁর প্রেজেন্টেশনে পানিছিটকি (<em>Phyllanthus reticulatus</em>) গাছটিকে অ্যাকুয়াটিক প্লান্ট হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, এটা অ্যাকুয়াটিক প্লান্ট হয় কী করে, এটা তো মাটিতে হয়। কিছুক্ষণ আলোচনার পর বিষয়টার ফয়সালা হয়ে গেল, পানিছিটকি মাটিতেই হয়। আমরা শুধু আমাদের স্যারেদের জ্ঞানের গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বসে রইলাম। তাঁদের জানাশোনার পরিধি কতটা, সেটা কল্পনাও করা যায় না।</p>



<h2 class="wp-block-heading">প্রশ্নের পর প্রশ্ন</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা তো শুধু চুপচাপ শুনছি আর অবাক হচ্ছি। অন্য ইউনিভার্সিটির প্রফেসররা একের পর এক প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর আমাদের স্যারেদের নানা রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁদের বেশ ভাবতে হচ্ছিল। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে স্যারেদের একটা কথা। তাঁরা বললেন, এখন তো ইন্টারনেটের যুগ, কোনো কিছুতে সমস্যা হলে একটু যোগাযোগ করলেই তো হয়, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। মাঝে মাঝে আমাদের ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই আপুরাও তাঁদের প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলেন, আর স্যারেরা তাঁদেরও সমানভাবে নানা প্রশ্ন করছিলেন। নিজের ডিপার্টমেন্ট বলে কোনো ছাড় নেই। আরও ভালো লাগছিল এই দেখে যে স্যারেরাই আবার সেই সমস্যাগুলোর সমাধান বাতলে দিচ্ছিলেন।</p>



<h2 class="wp-block-heading">ডিপার্টমেন্ট যখন রেস্টুরেন্ট</h2>



<p class="wp-block-paragraph">আর খাবারের প্রশংসা না করলেই নয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টে যে খাবার দেয়, তার তুলনা হয় না। একজন বলেছিল, &#8220;ডিপার্টমেন্ট যখন রেস্টুরেন্ট&#8221;। সত্যিই, আজকে যা খেয়েছি তা চিন্তার বাইরে। এমন একটা দিন কাটল, যেটা অনেক দিন মনে থাকবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/plant-taxonomy-conference-ekdin/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ট্রেনে বসে কিছু এলোমেলো ভাবনা</title>
		<link>https://uponnas.com/train-e-elomelo-bhabna/</link>
					<comments>https://uponnas.com/train-e-elomelo-bhabna/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3930</guid>

					<description><![CDATA[রাতের শহরের জাদু, দিশেহারা নাবিকের জন্য দূরের একটা ক্ষীণ আলো, আর হারিয়ে যাওয়া নদীগুলো: যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় ট্রেনে বসে মাথায় আসা কিছু এলোমেলো ভাবনা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">শহরে রাত নামলে মনে হয় কোনো এক জাদুকর তার জাদুর জোরে শহরের রূপরেখাটাই বদলে দিয়েছে। লাল নীল আলোর সঙ্গে হলুদের মিশ্রণ, এক অন্য ধরনের অনুভূতি। রাতের শহর যেন অন্য এক জগৎ। মাঝে মাঝে তো মনে হয়, দিনের শহরের সঙ্গে রাতের শহরের কোনো তুলনাই হয় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেখানে যেখানে আলোর আনাগোনা, সেখানে মানুষ আছে, কিন্তু যেন মানুষ নেই। সবাই নিজ নিজ কোনো না কোনো ইচ্ছার বশীভূত হয়ে কোথাও না কোথাও ছুটে চলেছে। কেউ বাসায়, কেউ হোটেলে, কেউ বা অন্য কোথাও। তাদের মধ্যে একটা মিলই চোখে পড়ে, সবাই কিছু না কিছুর পেছনে ছুটছে। যান্ত্রিক এই শহর রাতে যেন রঙিন হয়ে ওঠে, এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়, যদিও তা ক্ষণস্থায়ী। আর কেউ যদি একবার সেই উৎসবে এসে পড়ে, তাহলে তার আর ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, ইচ্ছাও নেই।</p>



<h2 class="wp-block-heading">দূরের একটা ক্ষীণ আলো</h2>



<p class="wp-block-paragraph">রাত আর আলোর কথা ভাবতে গেলে নাবিকের কথা মনে পড়ে। অন্ধকার নিঝুম রাত, নাবিক যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন দূরের একটা ক্ষীণ, সংকীর্ণ আলোই যেন তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। ওই একটা ক্ষুদ্র আলোই তার মনে নতুন এক দৃঢ় মনোবল এনে দেয়, যা তাকে বাকিটা পথ যেতে সাহায্য করে। ছোট্ট একটা আলো, কিন্তু এই একটা আলোকে ঘিরেই কত নাবিকের পথচলা। সে নিজেও নতুন পথ পায়, সঙ্গে অন্যদেরও নতুন পথ দেখায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আগে যেমন তারাগুলো শত শত নাবিকের পথচলার দিক হয়ে দাঁড়াত, বর্তমানে সেটা হয়তো কিছুটা বিলুপ্তির পথে। কিন্তু দূরের একটা আলো দেখে পথ খুঁজে নেওয়ার ব্যাপারটা মানুষের মধ্যে আজও টিকে আছে।</p>



<h2 class="wp-block-heading">নদীগুলো কোথায়</h2>



<p class="wp-block-paragraph">নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে নদীর ধারে বসে বসে কবি সাহিত্যিকরা কত সাহিত্যই না অনুধাবন করেছেন। আজও যদি কেউ সেই নদীর ধারে এক পলক চেয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে আজকাল আর নদী নালা কোথায়? ছোটখাটো সবগুলোই তো মানুষের ভরণপোষণের তাগিদে হারিয়ে গেছে। এখন বাকি শুধু বড় কয়েকটা মৃতপ্রায় নদী। এই কয়েকটা নদীও কতদিন টিকে থাকে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রেনে বসে যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় এসব অর্থহীন কথা কেন যে মনের মধ্যে ঠাঁই পেল, জানি না। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে জানালার পাশের সিটটা না পেলে অবশ্য এসব সেভাবে ভালো লাগে না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/train-e-elomelo-bhabna/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেডিকেলের এগারো নম্বর টেবিল</title>
		<link>https://uponnas.com/medical-egaro-nombor-table/</link>
					<comments>https://uponnas.com/medical-egaro-nombor-table/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[উপন্যাস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 16:56:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://uponnas.com/?p=3926</guid>

					<description><![CDATA[মেডিকেলের এক সাধারণ টেবিল নিয়ে একটি কবিতা। বছরের পর বছর সে নীরবে দেখেছে মানুষের আসা-যাওয়া, সুখ-দুঃখ, আর একটিবার বেঁচে ফেরার প্রার্থনা।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">মেডিকেলের সেই এগারো নম্বর টেবিলটা</p>



<p class="wp-block-paragraph">কত বছর ধরে সেখানে আছে কেউ জানে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কত মানুষকে সেবা দিয়ে এসেছে তার হিসাব কেউ রাখে না;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কত কিছুর সে সাক্ষী কেউ বোঝে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মেডিকেলের সেই এগারো নম্বর টেবিলটা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>*</em></p>



<p class="wp-block-paragraph">মানুষকে একের পর এক আসতে দেখেছে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">মানুষকে একের পর এক যেতেও দেখেছে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে কেউ সুস্থ হয়ে, আবার কেউ বা লাশ হয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু সে সেখানে ছিল, এখনো সেখানেই আছে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">হয়তো ভবিষ্যতে আরও মানুষের ভাগ্যের ইতিহাস গড়ে উঠতেও দেখবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>*</em></p>



<p class="wp-block-paragraph">মেডিকেলের সেই এগারো নম্বর টেবিলটা</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনেছে মেঝেতে পড়ে থাকা গরিবের কষ্টের আর্তনাদ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার শুনেছে কেবিনে থাকা ধনীর হুংকার;</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনেছে মুমূর্ষু রোগীর আর একটিবার বেঁচে ফেরার প্রার্থনা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার শুনেছে আত্মহননের পেছনে থাকা মানুষের কল্পনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>*</em></p>



<p class="wp-block-paragraph">মেডিকেলের সেই এগারো নম্বর টেবিলটা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবকিছুর সাক্ষী সে, তবুও তার ছিল শুধু নীরবতা;</p>



<p class="wp-block-paragraph">মানুষের সুখে দুঃখে নিঃশব্দে সেবা দিয়ে গেছে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">মানুষের অজান্তেই হয়েছে তাদের সকল ঘটনার সাথি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://uponnas.com/medical-egaro-nombor-table/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
