বর্ষা এলেই রেইন লিলির মেলা

উপন্যাস অ্যাভাটার
পড়তে ২ মিনিট
এই লেখায়

একটু বর্ষা এলেই কার্জন হলের নানা জায়গায় রেইন লিলি ফুটতে শুরু করে। কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের সামনে, জহির ভাইয়ের ক্যান্টিনের সামনে, আর আমাদের বোটানি ডিপার্টমেন্টের চারপাশ তখন এই ফুলে ভরে ওঠে। কী সুন্দর দেখতে, আর কত রকমের রং। কোনোটা গোলাপি, কোনোটা হলুদ, আবার কোনোটা সাদা।

রং আলাদা হলেও ফুলের গঠন একই রকম, আর মাঝখানে চক্রাকারে সাজানো হলুদ অ্যান্থারগুলো দেখলে কিছুটা আঁচ করা যায় যে এরা একই ধরনের উদ্ভিদ। গাছগুলো লম্বায় খুব একটা বড় হয় না। তবে একটানা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে বলে মনে হয় যেন অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে ফেলেছে।

আমার পছন্দের গোলাপি রেইন লিলি

আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে গোলাপি রঙের ফুলটা। এর বৈজ্ঞানিক নাম Zephyranthes rosea Lindl., রূপের সঙ্গে নামের যথেষ্ট মিল আছে। গুনে গুনে ৬টা পাপড়ি, খুব সুন্দরভাবে বিন্যস্ত। পেরু আর কলম্বিয়ার নেটিভ এই উদ্ভিদগুলো আমাদের মাঝে এমনভাবে মিশে গেছে যে বোঝার উপায় নেই এগুলো আমাদের দেশের না।

সাদা আর হলুদ

সাদা রেইন লিলিটাকে বছরের বেশি সময় ধরে দেখতে পাই বলে তার প্রতিও একটা টান কাজ করে। এই সাদাটা Zephyranthes candida (Lindl.) Herb. নামে পরিচিত। আর সবচেয়ে কম দেখা পাই হলুদ ফুলটার। ১৮৮২ সালে বিজ্ঞানী বেকার (Baker) এর নাম দেন Zephyranthes citrina।

পাতা, বাল্ব আর ফল

রেইন লিলির পাতাগুলো লম্বা লম্বা, চিরল। আর এর বাল্ব দেখলে যে কেউ পেঁয়াজ ছাড়া অন্য কিছু বলবে না। ও, এদের ফলগুলোও প্রশংসার দাবিদার। দেখে মনে হয় তিনটা বল একসঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা আছে। ভালোই দেখতে।

একটু সাবধানতাও দরকার

একধারে যখন ফুলগুলো ফুটে থাকে, দেখতে সত্যিই ভালো লাগে। তবে পরিচর্যার সময় একটু সাবধান থাকতে হবে। এদের মধ্যে লাইকোরিন জাতীয় কিছু বিষাক্ত যৌগ আছে, পেটে চলে গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই চোখ দিয়েই উপভোগ করুন, মুখের কাছে নেওয়ার দরকার নেই।

উপন্যাস অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।