পর্ব ১
সেকেন্ডের কাঁটা মনে করেছিল, সে একাই হয়তো মিনিটের কাঁটা আর ঘণ্টার কাঁটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে না থাকলে ঘড়ি অচল, ঘড়ি চলতেই পারবে না। কিন্তু আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে সে বুঝতে পারল, ঘড়ি ঠিকই তার আপন গতিতে চলছে। মিনিটের কাঁটা বা ঘণ্টার কাঁটা কখনো তার মুখাপেক্ষী ছিল না। সেটা ছিল তার ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। হয়তো সেকেন্ডের কাঁটা ছাড়া ঘড়ির সৌন্দর্য একটু খাপছাড়া হয়েছে, তবে কাজের দিক থেকে এখনো ঠিকঠাক।
পর্ব ২
বিচ্ছিন্ন হয়ে যখন সে দেখল, তাকে ছাড়াই ঘড়ি ঠিকঠাক চলছে, তখন সে কিছুটা হতবাক হয়েছিল। সেই মুহূর্তে তার সামনে দুটি রাস্তা ছিল: হয় সবকিছু ভুলে ঘড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া, নতুন জীবন শুরু করা, অথবা সবার কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে, ক্ষমা চেয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়া।
কিন্তু সেকেন্ডের কাঁটার মনে ছিল অন্য কিছু। সে নিজেকে নত করতে কখনো রাজি ছিল না। হিংসা আর অহংকার তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছিল। সে হয়ে উঠল প্রতিশোধপরায়ণ। মিনিট আর ঘণ্টার কাঁটার মাঝে সে এমনভাবে ঢুকে পড়ল যে নিজের ক্ষতি সত্ত্বেও তাদের জীবনকে থামতে বাধ্য করল।
ভেবেছিলাম, আর কিছুদিন পর আমিই ঘড়িটা ঠিক করে সেকেন্ডের কাঁটাকে তার জায়গায় বসাব। কিন্তু না, এমন মনোভাব যাদের, তাদের সংসারে জায়গা না দেওয়াই ভালো।

মন্তব্য করুন