শুধু আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলেই হয় না, সঙ্গে সেটা সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নও করা লাগে। কেউ যদি এই দুটোর একটা সমন্বয় করতে না পারে, তাহলে অন্তিম ফলাফল শূন্য। কথাটা বুঝতে অসুবিধা হলে একটা বাস্তব উদাহরণ দিই, আর উদাহরণটা আমার নিজেরই।
এক মাসের বাজার
এই কিছুদিন আগের কথা, বেশি না, এই মার্চ মাসেরই ১৩ কি ১৪ তারিখ। হঠাৎ বুঝতে পারলাম করোনাভাইরাসের কারণে দেশের পরিস্থিতি ভালো না, যেকোনো দিন জরুরি অবস্থা জারি করে সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ভাবলাম, এই ঘোষণা দেওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলি। এখন না কিনলে ঘোষণা দেওয়া মাত্রই দাম বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে যাবে, এমনকি জিনিসপত্র নাও পেতে পারি।
তাই বাড়িতে পরামর্শ করে ১৫ তারিখ যা যা প্রয়োজনীয়, মাছ-মাংস, তেল-ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, ডিম, লবণ-চিনি, সাবান, ডেটল, তরিতরকারি, সব মাসখানেকের মতো কিনে ফেললাম। বাসা থেকে বের হতে দেবে না? না দিক। কোনো সমস্যা নেই, অন্তত এক মাস নিশ্চিত।
পরের দিনই ঘোষণা
তার পরের দিনই, ১৬ তারিখে, ঘোষণা এল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুদিনের জন্য বন্ধ। বাহ্, আমি তো খুশি। হঠাৎ করেই দুপুরবেলা মনে হলো, এই সুযোগে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। একদম তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, গ্রামের বাড়ি যাব, আর রাতেই রাজশাহী চলে এলাম। সেখানে কিছুদিন থেকে যেদিন গ্রামের বাড়ি এলাম, তার পরের দিন থেকেই ঘোষণা: রাস্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, আর সাধারণ গণপরিবহন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ।
বাজার ঢাকায়, আমি গ্রামে
এখন পুরো দেশ বন্ধ। আর ঢাকায় পড়ে আছে আমার সেই পূর্বপরিকল্পনার খাবারদাবার। আমি এখন এই গ্রামের বাড়িতে ভয়ে ভয়ে দোকানে গিয়ে এটা ওটা কিনছি আর খাচ্ছি। মাঝে মাঝে নিজেকে বকাও দিচ্ছি, গ্রামের বাড়ি কেন যে এলাম।
গল্প এখানেই শেষ। আর শিক্ষাটা? সেটা তো একেবারে শুরুতেই বলে দিয়েছি।

মন্তব্য করুন