ট্রেনে বসে কিছু এলোমেলো ভাবনা

উপন্যাস অ্যাভাটার
পড়তে ২ মিনিট

শহরে রাত নামলে মনে হয় কোনো এক জাদুকর তার জাদুর জোরে শহরের রূপরেখাটাই বদলে দিয়েছে। লাল নীল আলোর সঙ্গে হলুদের মিশ্রণ, এক অন্য ধরনের অনুভূতি। রাতের শহর যেন অন্য এক জগৎ। মাঝে মাঝে তো মনে হয়, দিনের শহরের সঙ্গে রাতের শহরের কোনো তুলনাই হয় না।

যেখানে যেখানে আলোর আনাগোনা, সেখানে মানুষ আছে, কিন্তু যেন মানুষ নেই। সবাই নিজ নিজ কোনো না কোনো ইচ্ছার বশীভূত হয়ে কোথাও না কোথাও ছুটে চলেছে। কেউ বাসায়, কেউ হোটেলে, কেউ বা অন্য কোথাও। তাদের মধ্যে একটা মিলই চোখে পড়ে, সবাই কিছু না কিছুর পেছনে ছুটছে। যান্ত্রিক এই শহর রাতে যেন রঙিন হয়ে ওঠে, এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়, যদিও তা ক্ষণস্থায়ী। আর কেউ যদি একবার সেই উৎসবে এসে পড়ে, তাহলে তার আর ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, ইচ্ছাও নেই।

দূরের একটা ক্ষীণ আলো

রাত আর আলোর কথা ভাবতে গেলে নাবিকের কথা মনে পড়ে। অন্ধকার নিঝুম রাত, নাবিক যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন দূরের একটা ক্ষীণ, সংকীর্ণ আলোই যেন তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। ওই একটা ক্ষুদ্র আলোই তার মনে নতুন এক দৃঢ় মনোবল এনে দেয়, যা তাকে বাকিটা পথ যেতে সাহায্য করে। ছোট্ট একটা আলো, কিন্তু এই একটা আলোকে ঘিরেই কত নাবিকের পথচলা। সে নিজেও নতুন পথ পায়, সঙ্গে অন্যদেরও নতুন পথ দেখায়।

আগে যেমন তারাগুলো শত শত নাবিকের পথচলার দিক হয়ে দাঁড়াত, বর্তমানে সেটা হয়তো কিছুটা বিলুপ্তির পথে। কিন্তু দূরের একটা আলো দেখে পথ খুঁজে নেওয়ার ব্যাপারটা মানুষের মধ্যে আজও টিকে আছে।

নদীগুলো কোথায়

নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে নদীর ধারে বসে বসে কবি সাহিত্যিকরা কত সাহিত্যই না অনুধাবন করেছেন। আজও যদি কেউ সেই নদীর ধারে এক পলক চেয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে আজকাল আর নদী নালা কোথায়? ছোটখাটো সবগুলোই তো মানুষের ভরণপোষণের তাগিদে হারিয়ে গেছে। এখন বাকি শুধু বড় কয়েকটা মৃতপ্রায় নদী। এই কয়েকটা নদীও কতদিন টিকে থাকে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

ট্রেনে বসে যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় এসব অর্থহীন কথা কেন যে মনের মধ্যে ঠাঁই পেল, জানি না। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে জানালার পাশের সিটটা না পেলে অবশ্য এসব সেভাবে ভালো লাগে না।

উপন্যাস অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।