২৮শে বৈশাখের সকাল আর সেই আমলকী গাছ

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ২ মিনিট

শিরশিরে বাতাসে ঘুমটা ভেঙে গেল। উঠে দেখি জানালা সামান্য ফাঁকা, সেই সামান্য ফাঁকা দিয়েই এমন বাতাস। কী আর করা, উঠে বসে পড়লাম। বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ ছিলাম। আজ একটু সুস্থ বোধ করছিলাম বলেই ঘুমটা এত সুখময় মনে হয়েছিল। কিন্তু সুখ যে ক্ষণস্থায়ী, সেটা বাতাস মনে করিয়ে দিয়ে চলে গেল।

বিছানা ছেড়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে হঠাৎ খবরের কাগজের দিকে চোখ পড়ল। কাগজের কোনায় বড় বড় অক্ষরে লেখা: আজ ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৯। এই না বৈশাখ মাস শুরু হলো? এই তো সেদিন সবাই মিলে বাংলা মাসের নাম বলা নিয়ে কত মজা করলাম। সময় খুব দ্রুত চলে যায়, ক্ষণিকের মধ্যেই মিলিয়ে যায় মাসের পর মাস। এই ভাবতে ভাবতেই মনে হলো, আজ বহুদিন বাসার বাইরের মুখ দেখি না। যেভাবেই হোক বাইরে বের হতেই হবে।

সবার বারণ সত্ত্বেও জেদ করে বাসার বাইরে বেরোলাম। আহ, নির্মল বাতাস, মনটা তৃপ্ত হলো। এই বাতাস সকালে জানালা দিয়ে এলে হয়তো কিছুক্ষণ আরও ঘুমাতে পারতাম, তবে হয়তো আর বাইরে আসা হতো না। সবকিছু ভালো হওয়াও ভালো নয়। আরও কিছুটা পথ গিয়ে আকাশের এক কোণে মেঘ জমতে দেখে মনে হলো, আবহাওয়াও যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। যেখানে গরমে পুড়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ঠান্ডা বাতাসে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। আবার গত বসন্তে কী বৃষ্টিটাই না হলো! এমন অদ্ভুত ব্যাপার মনে হয় কেউ আগে দেখেনি। তবে যা-ই হোক, শ্যাওলা জমা ইটের রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে ভালোই লাগছে।

এক পা, দুই পা করতে করতে অনেকটা পথ চলে এসেছি, টের পেলাম সেই পুরোনো বাড়িটা দেখে। ছোটবেলায় কত খেলা করেছি এখানে, আর এখন এটা ধ্বংসাবশেষ। বাড়িটার স্মৃতি মনে পড়তেই মনে পড়ল এর পেছনের সেই আমলকী গাছের কথা। গাছটার কথা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পা যেন নিজে থেকেই এগিয়ে গেল সেদিকে। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলাম। কখন যে চোখে পানি চলে এল, বুঝতেই পারলাম না। সেই গাছটাও হয়তো আমার মতোই আবেগে আপ্লুত হয়েছে।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।