একটা স্বপ্ন, একটা সতর্কবার্তা

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ৩ মিনিট

আজ দেখলাম, আমি যেন শিশির ভাইয়ার বাসায়। ভাইয়ার বাসা ১১ তলায়। আম্মা আর জামানও আছে, কিন্তু ভাবি আর বাচ্চাটাকে দেখলাম না। ভাইয়ার কাছে বাইরে যাওয়ার চাবি চাওয়ায় দিলেন না। তাই আমি যেন জানালার ফুটো দিয়ে একে একে সব জিনিসপত্র ফেলে দিচ্ছি। অনেক কিছুই ফেলেছি, আর ভাইয়া বসে বসে দেখছেন, কিন্তু কিছু বলছেন না। এক পর্যায়ে আম্মা এসে আমাকে বকা দেওয়া শুরু করলেন। তারপর ভাইয়া বললেন, এগুলো ফেলে কী লাভ? শুধু শুধু সময় নষ্ট করিস না।

তারপর হঠাৎ একটা অপরিচিত নম্বর থেকে কল এল, জিজ্ঞেস করল কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। আমি ভাইয়ার সঙ্গে মজা করেই বললাম, দেখেন ভাইয়া, অপরিচিত মানুষও জিজ্ঞেস করে কোনো অসুবিধা আছে কি না, হে হে। কী, বলব অসুবিধায় আছি, ভাইয়া বাসার বাইরে যেতে দেয় না? ভাইয়া বললেন, তোর ইচ্ছা। এটা শুনে মাথাটা আরেকটু বিগড়ে গেল, তাই ওই নম্বরে বললাম, হ্যাঁ, একটু অসুবিধা তো আছেই। এই বলাতেই ‘ভুল নম্বর’ বলে কলটা কেটে দিল। ধুর, লাভ হলো না। কিছুক্ষণ পর বাসার বেল বাজল। আম্মা খুললেন, পাশের বাড়ির আন্টি কী যেন একটা দিতে এসেছেন। তারপর চলে গেলেন।

কী কাজে যেন বারান্দায় যেতেই দেখলাম পুরো বিল্ডিংয়ের চারদিকে পুলিশ গিজগিজ করছে। হঠাৎ মনে হলো, এত পুলিশ কেন? আগে তো দেখিনি। তারপর টনক নড়ল, আরে, তাহলে কি তখন পুলিশই কল দিয়েছিল? ৯৯৯ থেকে? এমন হলে তো বিপদ! শিশির ভাইয়াকে বিষয়টা বলতেই মনে হলো, তাহলে পাশের বাড়ির আন্টিকেও তারাই পাঠিয়েছিল, পরিস্থিতি বোঝার জন্য। এবার কী হবে? তারা বাসায় এলে তো শিশির ভাইয়া ভালোমতো ফেঁসে যাবেন, কারণ পরিস্থিতি এমন যে কিডন্যাপার আমাদের আটকে রেখেছে, আর সেই কিডন্যাপার শিশির ভাইয়া। ভালো একটা কেলেঙ্কারি হবে।

এবার ভাইয়ার শরণাপন্ন হলাম: কী করা যায়? তাতেই আবার কল এল। হয়তো এবার ‘হ্যাঁ’ পেলেই বাসায় চলে আসবে। তাদের সত্যিটা বলে দেব? সাহসে কুলাল না, তাই বললাম, আন্টি বাসায় আসায় সেই কিডন্যাপার ভয় পেয়ে পালিয়েছে। উনি বললেন, আচ্ছা, তাহলে ডিআইজি সাহেবকে আসতে নিষেধ করছি। ওসি সাহেব রাস্তায়, উনিও আসছিলেন, কিছুক্ষণ পর তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। একটু নিশ্চিন্ত হওয়া গেল, কিন্তু বিপদ এখনো কাটেনি। কিডন্যাপার কীভাবে পালাল, এর কৈফিয়ত তো দিতে হবে। ভাবলাম বলব, বাইক নিয়ে পালিয়েছে। শিশির ভাইয়া বললেন, আমার আগের বাইকটার বর্ণনা দিবি না তো, ফেঁসে যাবি।

পরে আবার বেল বাজল, আন্টি এলেন, তাঁকে ঘটনা খুলে বললাম। আন্টি বললেন, তা-ই তো, আমিও এসে দেখলাম অপরিচিত কেউ নেই, কিন্তু পুলিশ বলছে কিডন্যাপের বিষয়, আপনি গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসবেন… ইত্যাদি, ইত্যাদি। তারপরের ঘটনা আর মনে নেই, ঘুম ভেঙে গেল।

স্বপ্নটা দেখে মনে হলো, এ কী স্বপ্ন দেখলাম! পরক্ষণেই মনে হলো, না, ইদানীং ‘সিরিয়াস মজা’ করার পরিমাণ অনেক বেড়েছে, তাই হয়তো এমন স্বপ্ন দেখিয়ে আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করে দিচ্ছেন, যেন ভবিষ্যতে এমনটা না করি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার হাজারো শুকরিয়া। ইনশাআল্লাহ আমি চেষ্টা করব, শুধু চেষ্টা না, পুরোপুরি এমন সিরিয়াস মজা করা ছেড়ে দেব। আল্লাহ তায়ালা যেন সহায় হন।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।