ধৈর্য আর রাগ নিয়ে এক রাতের কথা

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ৩ মিনিট

অনেকক্ষণ ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু আজ কেন যেন কিছুতেই ঘুম আসছে না। নানা চিন্তা চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে। তারপরেও ঘুমাতে তো হবেই। আরও কিছুটা সময় এভাবে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে উঠে বসলাম। পাশে দেখি জামান শুয়ে আছে। আলতো করে ডাক দিয়ে বললাম, ঘুমিয়ে গেছ? কোনো উত্তর এল না, মানে ঘুমিয়ে গেছে।

তাহলে আর কী করা। জানি ঘুম আসবে না, তবু আবার শুয়ে পড়লাম। বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ সে বলল, বলো, আমি আছি। তার উত্তর পেয়ে কিছুটা অবাকই হলাম। আর আট-পাঁচ না ভেবে বললাম, ঘুম আসছে না রে, কী করব বলো তো। সে আমার দিকে ঘুরে বলল, ঘুম কেন আসবে না? কী এত চিন্তা করছ? বললাম, চিন্তা করা লাগে না রে পাগলা, চিন্তা এমনি এমনিই চলে আসে। কিছুদিন থেকে যে কাজই করতে যাচ্ছি, শুধু ব্যর্থতা পিছু নিচ্ছে, হতাশা ঘিরে ধরছে। কোনো কিছুই ঠিকঠাক শেষ করতে পারছি না। আর মনে হচ্ছে সবাই কেন যেন আমাকে এড়িয়ে চলছে, দূরে সরে যাচ্ছে। এর সমাধান কী বলো তো? সবকিছু আর ভালো লাগছে না। সব ছেড়ে কোনো দিকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।

ধৈর্য ধরো

আমার কথা শুনে সে উঠে বসল। বলল, ধৈর্য ধরো। ধৈর্য বড় একটা জিনিস। আমি মনে করি এটা আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। ধৈর্যের কার্যকারিতা কত বিশাল, সেটা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। সর্বক্ষেত্রে ধৈর্য ধরো, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তোমাকে সবকিছু থেকে মুক্তি দেবেন। আমি বিশ্বাস করি, যারা ধৈর্যশীল, তাদের মধ্যে ভালো গুণগুলোও বাড়ে। কঠিন অবস্থাতেও নিজেকে সামাল দিতে পারে। কিছুদিন থেকে দেখছি তোমার ধৈর্যশীল আচরণটা কিছুটা কমে গেছে। আবার চেষ্টা করো সব কাজে ধৈর্য ধারণ করতে। আল্লাহ তায়ালা যেন সহায় হন।

আর কখনো রাগ কোরো না

আর কখনো কোনো কিছুতে বা কারও ওপর রাগ করবে না। রাগ মানুষের সব ভালো গুণ নষ্ট করে দেয়। আমি তো বিশ্বাস করি, রাগই সব খারাপ দিকের দরজা খুলে দেয়। রাগই মানুষের মধ্যে হিংসা, ঈর্ষা, প্রতিশোধপ্রবণতা জাগিয়ে তোলে। এভাবেও বলতে পারো, রাগ মানুষের জীবনে অভিশাপের পথ খুলে দেয়। তোমাকে এখনো হয়তো সরাসরি রাগ করতে দেখিনি, তবে আগাম সাবধান করে দিচ্ছি। নিজের ভালো চাইলে আমার কথাগুলো মনে রেখো। তুমিও তো আমার কথার দাম দাও না। আমি তোমাকে সবই বলি, কখনো শোনো, আবার বেশির ভাগ সময়ই কী যে করো, নাকি শুনতেই পাও না!

এতক্ষণ চুপচাপ তার কথা শুনলাম। সত্যিই খুব সৌভাগ্যবান, এমন একজনকে ভাই হিসেবে পেয়েছি। মাঝে মাঝে তো মনে হয়, আমি তার বড় ভাই না, সে-ই আমার বড় ভাই। সে এবার বলল, উল্টাপাল্টা চিন্তা ছেড়ে দিয়ে ঘুমাও গিয়ে, অনেক রাত হলো। সকাল সকাল উঠতে হবে, কালকে আমার বহুত কাজ। এই বলে সে ঘুমিয়ে পড়ল। এখন রীতিমতো নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।

আমার মনে হলো, রাত হয়েছে হোক, আরেকটু দেরিতেই না হয় ঘুমালাম। সব কথা না হলেও কিছু কথা অন্তত লিখে রাখি। আজকের রাতটা এক বিশেষ রাত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাক।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।