কুমিল্লায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একদিন

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ৯ মিনিট
এই লেখায়

সেদিন ছিল ৮ অথবা ৯ তারিখ। ক্লাস শেষে বেরিয়ে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে কী যেন করতে গেছি, হঠাৎ ড্যানির সঙ্গে দেখা। সে বলল, পিকনিকে যাচ্ছ তো? মনে মনে খুঁজলাম, পিকনিক? এ রকম কি কিছু প্ল্যান ছিল? জিজ্ঞেস করলাম, কবে? কিসের পিকনিক? তার উত্তর: গ্রুপে পোস্ট দেখোনি? ঢাকাস্থ শিবগঞ্জ উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ছাত্রকল্যাণ সমিতির গ্রুপে তো এটা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ১২ তারিখ কুমিল্লা যাবে, তুমি যাচ্ছ তো? হ্যাঁ, অবশ্যই, যাব না কেন? বাসায় গিয়ে এ নিয়ে আলোচনা করব বলে সেদিন বাসায় চলে গেলাম। মনে মনে অনেক খুশি, কারণ কুমিল্লায় স্পট দেওয়া হয়েছে ওয়ার সিমেট্রি, ম্যাজিক প্যারাডাইস, কুমিল্লা বার্ড, শালবন বিহার। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এই জায়গাগুলোতে, বিশেষ করে বার্ডে যাওয়ার। জামান যেতে পারবে কি না, তার আবার কোনো পরীক্ষা আছে কি না, এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। সে বাসায় আসামাত্র তার কী অবস্থা জিজ্ঞেস করতে যাব, তার আগেই সে বলে উঠল, চলো পিকনিকে যাই, দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ফেলো। সেও একমত, আমিও, তাহলে আর কী সমস্যা! মোজাম্মেল ভাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। এখন শুধু দিন গোনার অপেক্ষা। এই শুক্রবার এল বলে, আসে না কেন শুক্রবার?

এত সকালে যাব কিসে?

সময়মতো পৌঁছাতে পারব কি না, এ নিয়ে একটু চিন্তায় ছিলাম। সকাল ৭টায় বাস টিএসসি ছেড়ে যাবে, এ রকমই কথা। দেরি হলে আমাদের ছেড়ে যাবে না, এতটুকু ভরসা আছে, কিন্তু আমাদের জন্য দেরি হোক, এটা চাই না। অপেক্ষা করতে গিয়ে কেউ মনে মনে খারাপ ভাবুক, তা-ও চাই না। জামান তো প্রতিদিনই জিজ্ঞেস করত, এত সকালে যাব কিসে?

দেওয়ান আছে, কিন্তু এত সকালে পাওয়া যায় না, সংখ্যাও কম, তাহলে ৬ নম্বর বাস? না, এটা শাহবাগ যায় না। উইনারে যাওয়া যাবে? না, এটা দুনিয়া ঘুরে যায়, অনেক সময় লাগবে, আর কী বাস? উবারে যাব? উবারে তো অনেক খরচ। সিএনজিই কি তাহলে শেষ উপায়? মাথায় অনেক কিছু ঘোরে, করি তো কী করি। আফসোস হয় সুবাস্তুর জন্য। আগে সুবাস্তু বাস থাকায় এই চিন্তা মাথায় আসত না। বাসার সামনে থেকে যেকোনো সময় উঠতাম, জিপিওর সামনে নেমে ১০ মিনিট হাঁটলেই কার্জন হল। এর চেয়ে সহজ আর কিছু ছিল না। কিন্তু সুবাস্তু তো আর নেই, এটাই আমাদের সমস্যা। দোষ করে একজন, শাস্তি পায় পুরো গ্রুপ, আর শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

যাই হোক, তার প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলতাম, শুক্রবার আসতে দেরি আছে, যেদিন আসবে সেদিন দেখা যাবে।

বৃহস্পতিবার রাত। জামান আবার জিজ্ঞেস করে, কিসে যাব? আজকে তো বলো! কথা বলতে বলতেই আব্দুল মোমিন ভাইয়া কল দিলেন। তাঁর মুখে পিকনিকে যাওয়ার কথা শুনে একরকম ধাক্কাই খেলাম, ভাইয়া পিকনিকের কথা জানলেন কীভাবে? কিছুক্ষণ পর মনে হলো, ও… ভাইয়াও তো চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোক! ভাইয়ার কল সত্যিই খুব শান্তি দিল। সব সমস্যার সমাধান এভাবে হয়ে যাবে, কল্পনাও করিনি। ভাইয়াকে বললাম, একসঙ্গে যাব তাহলে। খুব ভালো হলো, মাথার বোঝা নামল।

দশ বাস, দশ আম

অবশেষে এল শুক্রবার। সকাল সকাল উঠে রওনা দিলাম ভাইয়ার বাসার উদ্দেশ্যে। বাসা বেশি দূরে না, অল্প সময়েই পৌঁছে গেলাম। তার আগেই ভাইয়া বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। এবার রওনা দিলাম ক্যাম্পাসে। রাস্তায় ভাইয়ার এক বন্ধু আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন, পরে জানলাম তিনি আমাদেরও আত্মীয়। ভালোই লাগল। আমরা চারজন উবারে করে সময়মতো চলে গেলাম ক্যাম্পাসে। গিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না, এত মানুষ? সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের? বিশ্বাস করা কষ্টকর। মানুষে গিজগিজ করছে। এই ভিড়ের অধিকাংশকেই চিনতে পারছিলাম না। সবাই নানা জায়গা থেকে এসেছে, মাটির টান তাদের টেনে এনেছে। আশিক আনজুম ভাইকে দেখে তো হতবাক, সেও এসেছে? কবে শেষ দেখা হয়েছে মনে নেই, গত ঈদেও তো দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই সময় কাটল।

অবশেষে সকাল সাড়ে ৮টায় ১০টি বাস নিয়ে কুমিল্লার দিকে ধাবমান হলাম। ১০টি বাস, ১০টি আমের নাম। আমাদের বাসের নাম ছিল ল্যাংড়া। অঘোষিতভাবে ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষসহ সব বর্ষের বাস নির্ধারিত থাকলেও জানি না কেন হঠাৎ কিছু বড় ভাই আমাদের বাসে আসায় আমাদের প্রথম কাতারের সিট বদলে গিয়ে চলে গেল শেষের বিশাল বড় সিটগুলোর একটিতে। কিছু বলার নেই, তাঁরা বড় ভাই, তাঁদের সম্মান অনেক, সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। একটু দুঃখ হলো এই ভেবে যে, তাঁরা চাইলেই তো ছোট ভাইদের স্নেহ করতে পারতেন, বলতে পারতেন, থাক, উঠতে হবে না, আমরা ম্যানেজ করছি।

গরম ভালো, না দুর্গন্ধ?

এই নিয়েই টুকটুক করে বাস রওনা দিল। রবিউলের দেখানো কাঁচপুরের জ্যামের ভয়টা মাথায় ঘুরছিল, জ্যামে পড়লে তো দিন শেষ। শুধু দোয়া করছিলাম, জ্যামের হাত থেকে আল্লাহ তায়ালা যেন বাঁচিয়ে দেন, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। জ্যাম তো না, কী বলব, যার সঙ্গে তুলনা করব, সেটাই ছোট। বসে আছি, আছি, আছিই। বাস নড়েও না, চড়েও না। যেখানে আছে সেখানেই, একটুও সামনে এগোচ্ছে না। বেশ বিরক্তিকর অবস্থা। এক সময় এতটাই বাজে হলো যে বলে প্রকাশ করা যাবে না। বাস এক ময়লার স্তূপের সামনে গিয়ে থেমে গেল। একে তো গরমে নাজেহাল, তার ওপর স্তূপের এত তীব্র দুর্গন্ধ যে দম বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা। নাকে রুমাল ধরেও লাভ নেই, গন্ধ রুমাল ভেদ করে নাকে চলে যাচ্ছে। বাস এগোনোরও নামগন্ধ নেই। জানালা লাগিয়ে পারফিউম দেওয়ার পর একটু আরাম হলো। ভাবতেই অবাক লাগে, এই দুর্গন্ধময় স্তূপের পাশের বাড়িগুলোতে মানুষ কীভাবে থাকে? তাদের কি কোনো সমস্যা হয় না?

এই নিয়ে আশিক আনজুমের সঙ্গে অনেক কথা হলো। সে প্রথমেই বলল, এটা আমার বাসা হলে আমি বাসা ছেড়ে দিয়ে, বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাব। তাকে বললাম, এটা তোমার না হয়ে তোমার বাবা-দাদার বাসা হলে কী করবে? এবার উত্তর একটু ভিন্ন: আমার না হলে বাসা ভাড়া দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাব। কিছুক্ষণ পর একটা ভালো কথা বলল: সিটি করপোরেশনের লোকদের এই ময়লা পরিষ্কার করতে বলব, আমার বাসার আশপাশে ময়লা ফেলবে কেন? নিরেট একটা উত্তর শুনে ভালো লাগল, কিন্তু ভালো লাগা তো আর চিরস্থায়ী না। কিছুক্ষণ পরেই গরমের জ্বালায় অসহ্য লাগতে লাগল। জানালা বন্ধ, সবাই ঘেমে একাকার। গরম থেকে বাঁচতে হলে গন্ধ নাও, গন্ধ থেকে বাঁচতে হলে গরম হও… গরম ভালো, না দুর্গন্ধ?

এই চিন্তা করতে করতেই বাস একটু নড়ে উঠল, নড়ে উঠে ময়লার স্তূপ পার হলাম। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে জানালা খুলে দেওয়া হলো, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আবার টুকটুক করে যাত্রা শুরু: এই এগোচ্ছে তো এই ব্রেক, আরেকটু এগোচ্ছে আবার ব্রেক, মনে হচ্ছে গতির তালে তালে ব্রেক যেন বিট যোগ করছে। আশিক আনজুম ভাই খুব বিরক্ত। একবার বসছে, একবার উঠে দাঁড়িয়ে থাকছে, পারলে বাস থেকে নেমে হাঁটা ধরে। অনেক অনেক সময় পর গাড়িটা মনে হলো গাড়ির মতো চলা শুরু করেছে, এবার দ্রুত গতিতেই চলছে। হঠাৎ ভাইয়া কল দিলেন। তাঁদের গাড়ি প্রথম স্পট ম্যাজিক প্যারাডাইসে পৌঁছে গেছে। শোনামাত্র হাতঘড়ি দেখলাম, ১টা ২০ বাজে।

ম্যাজিক প্যারাডাইস

আহ, আর কিছুক্ষণ, তাহলেই এই বাস থেকে মুক্তি! ৫ মিনিট পর দেখলাম রাস্তার ট্র্যাক বদলাচ্ছে, মনের মধ্যে খুব উত্তেজনা, কিন্তু সব উত্তেজনা ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হতে বাধ্য হলো। বাস থামার নামগন্ধ নেই। যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। শেষে ২টার মাথায় পৌঁছালাম। ম্যাজিক প্যারাডাইসের গেটের সামনে আসতেই ক্ষুধা, ক্লান্তি ভুলে উত্তেজনা ফিরে পেলাম। এ রকম অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। তিনটা ডাইনোসরকে এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, যেন তারাই গিটার-ড্রাম বাজায় আর গান গায়। সত্যিই এটা আমাকে খুব আকর্ষণ করেছিল। গেটটা দেখে মনে হয় ডিজনিল্যান্ডের কার্টুনে যেমন দেখা যায়, ঠিক তেমন। কিন্তু ভেতরে গিয়ে একটু মন খারাপ হলো, কারণ কমবেশি সব রাইডই বন্ধ ছিল। মলাট দেখে বই বিচার করতে নেই, কথাটা যে কত সত্যি, আবার টের পেলাম। এক বছর পরে এলে হয়তো আরও ভালো হতো, কারণ অনেক কিছুরই কাজ চলছে, নতুন করে করা হচ্ছে।

এখানে সবচেয়ে পছন্দের ছিল ওয়াটার পার্কটি। বাস্তবে এটাই একমাত্র জায়গা যা ভালো লেগেছিল। নামলাম পানিতে। পানিতে নামার অভিজ্ঞতা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। পানিতে নামলেই মনটা কেমন যেন করে ওঠে, আমাদের বাতাসের চেয়ে একদমই ভিন্ন পরিবেশ। তিন ধরনের স্লাইড ছিল, কোনোটাই বাকি রাখিনি। যতবার মনে হয়েছে ততবারই উঠেছি। সবাই অনেক মজা করেছিলাম। নানা খেলার আয়োজনও ছিল: মোরগলড়াই, ক্রিকেট, মেয়েদের লুডু, চেয়ার খেলা। সন্ধ্যা হয়ে গেল টেরই পাইনি। ও, একটা ছোটখাটো ট্রেনও ছিল। একদম শেষবেলায় তাতে চড়ে এখানকার ঘোরাঘুরির ইতি টানলাম।

রাতে ম্যাজিক প্যারাডাইসের জাদুর ছোঁয়া থেকে নিজেদের মুক্ত করে গেলাম কুমিল্লা এসপি বাংলো, মানে আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্ব, নুরুল স্যারের বাসা। বাস্তবে তাঁর জন্য অনেক কিছুই আমাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল। এই পিকনিকে তাঁর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। সেখানে রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে শুরু হলো গান-বাজনা। আমি তো চেয়ারে বসে বসেই ঘুম। শরীর খুব ক্লান্ত। পানিতে নামার জন্য পুরো দেহে ব্যথার জোয়ার। ওই যে বলে না, সারা দেহে ব্যথা, মলম দেব কোথা, আমারও একই দশা। চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাতে ঘুমাতেই সময় কেটে গেল। পাশ থেকে জামান ডেকে বলল, চলো, বাসে উঠতে হবে। ঘড়িতে তখন ৩টা। ৩টা! তাহলে যা শুনেছিলাম সেটা গুজব নয়, সত্যি ছিল। আসার সময় আলোচনা করছিলাম, ১০টার মধ্যে আসতে পারব না, একটু দেরি হবে, বাসায় যেতে সাড়ে ১১টা পার হলে তো গেটম্যান তালা দেবে, আগেই জানিয়ে রাখি। তখন কেউ পাশ থেকে বলেছিল, ৩টার সময় তো রওনা দেবে, ১০টায় লেট হবে এগুলো কী বলো তুমি! তার কথা শুনে মনে মনে হেসেছিলাম। ইভেন্টে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা লেখা ছিল, সে হয়তো খেয়াল করেনি, এমনি এমনি বলছে। এখন হয়তো সে আমার ওপর পাল্টা হাসি দিচ্ছে। আমিও যদি হলে থাকতাম, তাহলে হয়তো আগেই সঠিক সময়টা জেনে যেতাম, আর কোনো সমস্যাই হতো না।

ফেরার পথে

বাসে উঠে পড়লাম। তারপর আর সেরকম কিছু মনে নেই। সকালে চোখ খুলে দেখি রাস্তা, আর রাস্তার মাঝে আমাদের বাস। কী জ্যাম রে ভাই, গাজীপুরের খ্যাতি কেড়ে নেবে! বসে আছি, জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আশপাশের দৃশ্য দেখি। গাড়িগুলো ক্রমে ছোট হয়ে যাচ্ছে, ছোট থেকে ছোটতর, আরও ছোট। একদম শেষে যেটা চোখে পড়ে সেটা পিঁপড়ার সমান, আর সেই পিঁপড়ার সমান গাড়িটাও একটুও নড়ে না। তখন মনে হয় ৭টা। ভাইয়া ফোন দিয়ে বললেন, কোথায় তোমরা? আমাদের গাড়ি ক্যাম্পাসে চলে এসেছে।

কী? কীভাবে? আমরা তো কেবল সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জও না! ভাইয়াকে আমাদের জন্য অপেক্ষা না করে চলে যেতে বললাম। আসলে কোনো সফরের প্রায় ৯০ শতাংশ সময়ই যানবাহনে কাটাতে হয়, আর এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সেই যানবাহনের চালকের। সে ভালো না হলে সফরে আনন্দ পাওয়া যায় না, শান্তি পাওয়া যায় না। আমাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যাটাই হলো: একই সঙ্গে বেরিয়ে কেউ ক্যাম্পাসে, আর কেউ বাসে বসে রাস্তার গাড়ি গুনছে। বসে থেকে হাত-পা ব্যথা, তার ওপর ক্ষুধাও বাড়ছে। বাস যদি একটু একটু করে এগোত, তাহলেও একটা হিসাব করে বলা যেত আর কতক্ষণ, কিন্তু বাস তো স্থির দাঁড়িয়েই আছে। মাথা উঁচু করে দেখলাম বাসের ভেতরে সবার কী অবস্থা। অধিকাংশই ঘুমাচ্ছে, কেউ একজনের ঘাড়ে মাথা রেখে, কেউ কোনোভাবে পা দুটো সিটের সঙ্গে মুড়ে। যারা জেগে আছে, তারা আমার মতো এদিক-ওদিক দেখছে। বাইরের আবহাওয়া ভালো ছিল বলে বসে থাকতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না। ঠান্ডা হাওয়া মাঝে মাঝে এসে সবকিছু ভুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। আবার কল এল, ভাইয়া। কল ধরার সময় ঘড়ির দিকে চোখ যায় কেন বুঝি না। সময়টা চোখে না পড়লেই হয়, হতাশা হবে না, কিন্তু চোখ শুধু সময়ের দিকেই যায়। সাড়ে ৮টা বাজে। ভাইয়া বললেন, তাঁরা বাসায় চলে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ঠিক আছে বলে কল রেখে বাইরে তাকালাম।

কিছুদূর এসে বুঝলাম, এই জ্যামের একটা কারণ আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রা। সবাই নারায়ণগঞ্জে এসে জমা হয়েছে। আমরা সাড়ে ১০টা নাগাদ ক্যাম্পাসে পৌঁছালাম। এসে দেখি নাফিউল ভাই আর পারভেজ ভাই এসেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, আমরাই মনে হয় শেষ বাস? উত্তরে একটাই কথা বোঝা গেল: আমরাই শুধু এই সময়ে, বাকি সবাই কমবেশি একই সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছিল।

অবশেষে সবাইকে বিদায় জানিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দিয়ে সাড়ে ১১টায় বাসায় পৌঁছে এই কুমিল্লা ভ্রমণের ইতি টানলাম।

তবে দুঃখ একটাই, আমার কাছে কোনো গ্রুপ ফটো নেই। এমনকি আনজুমের সঙ্গে এত সময় কাটিয়েছি, তার সঙ্গেও নেই। কেউ গ্রুপ ফটো দিলে সেটা নেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকল না।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।