,

ইউনিভার্সিটিতে আমার প্রথম পিকনিক

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ৪ মিনিট
এই লেখায়

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার রহমতে পিকনিক শেষে বাসায় পৌঁছেই লিখতে বসেছি আজকের এই নতুন অভিজ্ঞতার কথা। আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতিবছর দুটি আউটিং হয়: একটি পিকনিক, যেখানে সব বর্ষের শিক্ষার্থী সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যায়। আরেকটি শিক্ষাসফর, যা প্রত্যেক বর্ষের জন্য আলাদা ইভেন্ট। গতবার আমাদের শিক্ষাসফর হলেও নানা কারণে পিকনিক হয়নি, তাই জানতাম না পিকনিকের সার্থকতা। আজ পিকনিকে গিয়ে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কারণ গতকালের প্রথম নির্দেশনা ছিল ৭টায় রওনা, কিন্তু সর্বশেষ নির্দেশনায় সাড়ে ৬টার মধ্যে উপস্থিতি চাওয়া হয়েছিল। চাইবে না-ই বা কেন? যাব তো সেই জ্যামপূর্ণ রাস্তার তালিকার প্রথম স্থানে থাকা গাজীপুরে: চম্পা রিসোর্ট, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।

ভোরের বাস

মনে মনে জানতাম, এত সকালে বাস ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে পারবে না। সবাইকে দেখে অভ্যস্ত। তবু বলা যায় না কী হয়, তাই সময়মতোই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলাম। পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুজন কল দিল, তার সঙ্গে কথা হলো। ডিপার্টমেন্টের সামনে গিয়ে দেখি কয়েকজন আছে, বাকিদের কোনো খোঁজখবর নেই। শামীমকে দিয়ে শুরু করলাম: কল দিয়ে বাকিদের অবস্থা জানা আর কয়টা বাজে সেটা জানিয়ে দেওয়া।

প্রায় ৮টার আগেই চারটি বাস নিয়ে ভাওয়ালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো আমাদের বোটানি ডিপার্টমেন্ট। হালকা জ্যাম হলেও ঢুকঢাক ঢুকঢাক গানের তালে তালে ভালো গতিতেই এগোচ্ছিল আমাদের বাস। দুটো পাউরুটি, মিষ্টি, সেদ্ধ ডিম আর আপেল দিয়ে সকালের নাশতাটা ভালোই হলো। সামনের সিটে স্যাররা বসায় প্রথমে একটু বিব্রত বোধ করলেও পুরো রাস্তায় দেখলাম তাঁরা আমাদের সঙ্গেই ছিলেন, ছেলেমেয়েরা যা-ই করুক, তাঁরা সেরকম কিছু বলেননি। রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ পলাশ আর দেবকাঞ্চনের ফুল আমাকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করছিল। প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে কোনো সমস্যা ছাড়াই পৌঁছে গেলাম চম্পার সামনে। গিয়ে দেখি আমাদের একটা বাস সামনে দাঁড়িয়ে আছে, গেট খুলছে না। ওপর থেকে নির্দেশনা না এলে গেটের লোকজন খুলবে না। স্যাররা সেটার ব্যবস্থা করলেন, আর আমাদের সব কটা বাস একসঙ্গে ঢুকে পড়ল সেই বহুল পরিচিত শালবনের ছোটখাটো রাস্তায়। রাস্তার ধারে বেশ কিছু সাইনবোর্ডে নানা প্রাণীর পরিচিতি, তাদের বর্তমান অবস্থা আর এখানে তাদের সংখ্যা লেখা ছিল। একটু অবাক লাগল যে শুধু প্রাণীরই তালিকা আছে, কোনো উদ্ভিদের তালিকা নেই।

রিসোর্টের সামনে গিয়ে বাস থেকে সবাই নামল। নেমেই জুনিয়র, সিনিয়র, মোস্ট সিনিয়র, সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। এটাই পিকনিকের আসল মজা।

নৌকা, অটো আর জাভা ক্যাসিয়া

আবহাওয়া একটু খারাপ হতে যাচ্ছিল, হালকা বৃষ্টির দেখাও পেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার রহমতে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। স্যারদের কাছে জানলাম, এই চম্পাই সবচেয়ে ভালো, ভিভিআইপি রিসোর্ট। স্যাররা আমাদের জন্য এটি বরাদ্দ করায় খুব শান্তি লাগল। স্যারদের কথা শেষে সবাই বেরিয়ে পড়লাম, যার যেদিকে দুচোখ যায়। আমি তো আগেই পুকুরপাড়ে গিয়ে উঠে পড়লাম নৌকায়। রাসিফকে ডাকলাম, সে ছিল তার নিজস্ব পরিকল্পনায়, তাই এল না। আমরা বেশ কয়েকজন মিলে নৌকাভ্রমণ শুরু করলাম। পুকুরে লাল শাপলার দেখা পাওয়াও খুব আনন্দের, যা এক নৌকাভ্রমণকে রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।

নৌকা থেকে নেমে এবার কী করি ভাবতে না ভাবতেই এক লোক বলে উঠল, ভাই, আমার অটোতে চড়েন, পুরো এলাকা ঘুরিয়ে দেখাব। প্রথমে অনেক টাকা চাইছিল বলে যাওয়া হয়নি, কিন্তু তার সেই কথা, ‘আর কবে আসবেন কি না-আসবেন, না দেখলে কী বুঝবেন’, শেষে আমাদের হার মানাল। হাসিবুর, নাফিস, তরিকুল, জাফিরুল, জুবায়ের, আমরা একসঙ্গে ঘুরতে বেরোলাম। সেখানে একটা ছোট্ট চিড়িয়াখানা আর একটা ওয়াচ টাওয়ার ছিল, সেই ভাই আমাদের নিয়ে গিয়ে দেখালেন। ফেরার পথে হঠাৎ একটা ফুল চোখে পড়ল, যেটা আমি অনেকদিন ধরে খুঁজছিলাম। কাছে গিয়ে দেখলাম, হ্যাঁ, এটা সেটাই, জাভা ক্যাসিয়া। ভাবিনি এর দেখা এখানে পেয়ে যাব।

তিন পায়ের দৌড়

আবার ফিরে এলাম রিসোর্টে। দুপুরের খাবারের জন্য ডাক দিলেন স্যাররা। একদম উন্নত মানের রেস্টুরেন্টে যেমন খাবার হয়, এখানে তার চেয়েও ভালো খাবার দেওয়া হয়েছিল বলে আমি মনে করি। পেটপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে শুরু হলো সাংস্কৃতিক পর্ব। নানা ধরনের খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন আমাদের বড় ভাই-আপুরা। তিন পায়ের দৌড়, নামটা শুনে মজা পেয়েছিলাম। আসলে দুজনের একটা একটা পা বেঁধে একটা বানিয়ে দৌড়াতে হয়, তাই তিন পায়ের দৌড়। আমি এমনিই কনককে বলছিলাম, আমি আর তুমি মিলে দৌড় দিই। হঠাৎ জামান ভাই বললেন, আমি আর তুমি দৌড় দিই, আমার এই খেলায় অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বাস্তবেই জামান ভাইয়ের জন্য তিন পায়ের খেলায় আমরা প্রথমও হয়েছিলাম। খেলাধুলা পর্ব শেষে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আমাদের সেখানকার অফিশিয়াল প্রোগ্রাম শেষ হলো।

এবার ফেরার পালা। সবাই নিজ নিজ বাসে উঠে পড়লাম। অল্প সময়ের মধ্যেই সব কটা গাড়ি আবার ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল। গতবারের মতো এবারও আর সবার সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাওয়া হলো না, মাঝরাস্তায় আমি নেমে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।

এই তো সারাদিনের আনন্দ।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।