একজন মানুষের জন্য জীবনটাই একটা যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধ সবার জন্য এক না, আবার একজনের জীবনেও এই যুদ্ধ সব সময় ধ্রুব থাকে না। যেমন কেউ টাকাপয়সার জন্য যুদ্ধ করে, কেউ ক্ষমতার জন্য, অনেকে আবার যুদ্ধ করে শেষ অবধি টিকে থাকার জন্য। একজনের জীবনে এই যুদ্ধগুলো পর্যায়ক্রমেও আসতে পারে, তবে সবাই প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ করে যাচ্ছে, এটাই বাস্তব।
তবে সব যুদ্ধ সমান নয়। কিছু যুদ্ধ আছে, যেগুলোর কথা মানুষ কল্পনাও করে না। যেমন আজ সজ্জার (সমাজের জন্য জাগরণ) সাংস্কৃতিক অপরাহ্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেখলাম আসল জীবনযুদ্ধ কী। এই অনুষ্ঠানে নতুন কিছু দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হলাম। সুন্দর এই পৃথিবী তারা ঠিকমতো দেখতে পায় না। আমরা তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বললেও মাঈন ভাই ভালোবেসে বলেন দৃষ্টিজয়ী, কারণ তারা দৃষ্টিকে জয় করেই আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরেছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বললে তাদের ছোট করা হবে।
যাই হোক, আমি মাঝে মাঝেই ধনী-দরিদ্র, প্রভাবশালী-নামহীনের দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। আলহামদুলিল্লাহ, যখনই এমনটা ঘটে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একদম সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেন। এই দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পর মনে হলো, কী নিছক ছেলেখেলার জীবন, আর সেই জীবনের চাওয়া-পাওয়া! আমার সবকিছু থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর গুরুত্ব দিই না বলে মনে হয় যেন আমার কিছুই নেই। তাদের অনেক অভিজ্ঞতার গল্প শুনলাম, শুনলাম তাদের অসুবিধার কথা। তাদের চাওয়া বেশি কিছু না: শুধু সবার সঙ্গে একটু ভালো সময় কাটানো আর এক সাধারণ জীবন। তাদের সঙ্গে সময়টা বেশ ভালোই কাটল। তাদের একটা কথা আমার খুব ভালো লাগল: এই সজ্জাই একমাত্র সংগঠন, যা শুধু তাদের নিয়ে ভাবে, তাদের নিয়েই সব পরিকল্পনা করে। অন্য কোনো অনুষ্ঠানে না গেলেও সজ্জার অনুষ্ঠান তারা কখনো বাদ দেয় না, উপস্থিত থাকার চেষ্টা করে।
তাদের কথা শুনে মনটা তৃপ্ত হলো। সত্যিই, ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, আছি, তবে সজ্জাই একমাত্র সংগঠন, যেখানে এলে মনটা সব সময় ভালো থাকে, আত্মিক তৃপ্তি পাই, যা অন্য কোথাও পাই না। সজ্জা পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে গর্ব বোধ করি। এই পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা সব সময় থাকবে। এগিয়ে যাক এই পরিবার, বহুদূর।

মন্তব্য করুন