রিঠাকে এখনো ভালোমতো চিনি না

উপন্যাস অ্যাভাটার
পড়তে ২ মিনিট
এই লেখায়

সেদিন আমরা অনেকেই ছিলাম। আমি, জামান, শামীম আর মেহেরান, মোট চারজন মিলে ঘুরছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ৫৭ নম্বর সেকশনে। নতুন-পুরোনো, পরিচিত-অপরিচিত অনেক গাছগাছালির সঙ্গেই দেখা হচ্ছিল সেখানে। গল্পগুজব করতে করতে হাঁটছিলাম আর গাছগুলো দেখছিলাম, বেশ ভালোই লাগছিল।

যেতে যেতে দেখলাম সেখানে একটা ছোট ভেষজ বাগানও আছে। সেই বাগানে একটু উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করতেই একজন গার্ড কীভাবে যেন আমাদের দেখে ফেলল আর নিষেধ করে দিল। তাই ভেষজ বাগানের পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বেশ কিছু নতুন গাছের সঙ্গে দেখা। তাদের মধ্যে একটি হলো রিঠা, Sapindus saponaria।

মেহগনি, নাকি রিঠা?

গাছটা দেখে প্রথমেই শামীমকে বলে বসেছিলাম, দেখো মেহগনি গাছ, কিন্তু ভুল করে হয়তো রিঠার নেমপ্লেট লাগিয়ে দিয়েছে। পরে নিজের কথাতেই একটু সন্দেহ হলো। আসলে নিজেই একটু কনফিউজড ছিলাম, নেমপ্লেটটা কি সত্যিই ভুল, নাকি আমি ভুল করছি। শামীম আর আমি বেশ কিছুক্ষণ গাছটাকে দেখলাম। দেখার পর শামীমের মত রিঠার দিকে। মনে মনে আমার মতও রিঠার দিকেই ছিল, তবু আমি মেহগনি বললাম। কারণ জানতাম, মেহগনি বললে ওর সঙ্গে আমার যুক্তিতর্ক হবেই, আর তর্ক থেকে কাজের কিছু তথ্য বের হয়ে আসবে।

তর্কের যুক্তিগুলো

ওকে বললাম, গাছটাকে মেহগনি মনে হওয়ার কারণ আছে। নেমপ্লেটে রিঠার পরিবার দেওয়া Sapindaceae, কিন্তু পাতাগুলোর গোড়ার দিকটা একপাশে একটু চাপা, যেটা মেহগনি পরিবার Meliaceae-র অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য। তা ছাড়া পাতাগুলো কম্পাউন্ড, পিনেট ধরনের, একদম মেহগনির মতো।

শামীম আমার সঙ্গে খানিকটা একমত হলেও পরে আবার বলল, মেহগনি পাতার আগাটা এতটা অ্যাকিউট না। তা ছাড়া মেহগনির পাতা গাঢ় সবুজ হয়, অথচ এই গাছের কোনো পাতাই গাঢ় না, সব হালকা সবুজ। ওর কথা মেনে নিয়ে রিঠাকে আরও কিছুক্ষণ ভালোভাবে দেখে চলে গেলাম অন্যদিকে।

ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি দিয়ে আর কত দিন

তবে সত্যি বলতে, এভাবে গাছ চেনা বেশ কষ্টকর। একটার সঙ্গে আরেকটা গুলিয়ে ফেলা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি দিয়ে আর কত দিন? জিন টেস্ট যদি খুব সহজলভ্য হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো। কোনো ঝামেলা, কোনো কনফিউশন ছাড়াই আশপাশের সবকিছু চিনে ফেলা যেত।

সাবানের গাছ

যা-ই হোক, এই রিঠার ইংরেজি নাম Indian soap, আরও প্রচলিত নাম soapberry। নামটা শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম, কারণ এর অর্থ দাঁড়ায় সাবান। কিন্তু নামটা সত্যিই সার্থক। রিঠার ফল পানিতে ঘষলে সাবানের মতো ফেনা হয়, আর সেই ফেনা দিয়ে কাপড় কাচা আর চুল ধোয়ার চল আমাদের দেশে অনেক পুরোনো। নাম জানলাম, পরিবার জানলাম, সাবানের গল্পও জানলাম। তবু মনে হয়, রিঠাকে এখনো ভালোমতো চিনি না।

উপন্যাস অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।