পানির কাছ থেকে শিক্ষা

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার
পড়তে ২ মিনিট

প্রকৃতির কাছে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। যেমন শেখার আছে পানির কাছ থেকে।

পানি তো জীবনদানকারী আশ্চর্য এক সৃষ্টি। আমরা কথায় কথায় পানির সঙ্গে তুলনা করি, কারণ পানির মতো সহজ উদাহরণ আর নেই। পানি আমাদের কত কিছুই না শেখায়, কিন্তু আমরা তার ভাষা বুঝি না বলে শিখতে পারি না। পানি আমাদের সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে বলে। যতই আঘাত আসুক না কেন, যতই করুণ অবস্থা হোক না কেন, দিন শেষে পানি এক অবিচ্ছেদ্য দেহ। লাঠি দিয়ে পানিতে যতই আঘাত করা হোক, বাঁধ দিয়ে যতই আলাদা করা হোক, আবার সেই পানি এক জায়গায় একসঙ্গে মিলেমিশে যায়। পানির নিজেদের মধ্যে নেই কোনো মনোমালিন্য, নেই কোনো কোন্দল। আগে পানি যেমন ছিল, তেমনই থাকে।

পানির সাম্য

আবার ভাবা যাক পানির সাম্যের কথা। পানির রাজ্যে সবার অবস্থান সমান, তবে এই সমান ‘সমতা’ (equality) নয়, বরং প্রকৃত ‘সাম্য’ (equity)। উচ্চতা অনুযায়ী কোথাও একটু বেশি জমা হয়ে, কোথাও একটু কম জমা হয়ে, সবাই সব সময় একই অবস্থায় থাকার চেষ্টা করে যায়। তাই পানিকে যেকোনো এলোপাতাড়ি উঁচু-নিচু জায়গায় রাখা হোক না কেন, পানি সব সময় সবার সঙ্গে সমান্তরালে থাকে। পানি সাম্য বোঝে। পানিই প্রকৃত সাম্যবাদী।

সবাইকে আপন করে নেওয়া

পানি খুব সহজেই সবাইকে আপন করে নেয়। পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন পানি। সবার সঙ্গেই মিলেমিশে যায়। তবে সবার সঙ্গে মিলেমিশে গেলেও নিজেদের মধ্যে যে সম্পর্ক, যে বন্ধন, তা কখনো বিলীন করে নয়। তাই তো পানিকে সবাই এত পছন্দ করে। যেকোনো জায়গায়, যেকোনো অবস্থায় আর কেউ থাকতে না পারলেও পানিকে পাওয়া যায়। ছিন্নমূল সবাইকে পানিই একত্র করে গড়ে তোলে এক অবিচ্ছেদ্য সংসার। এর পেছনে অবশ্য পানির ধৈর্য আর সহ্যক্ষমতার এক বিশেষ ভূমিকা আছে। পানি নির্লোভ বলেই তার রাজ্য এখনো টিকে আছে। সে যদি আগের মতোই থাকত, তাহলে এই বিশাল সাম্রাজ্যের সূচনাই হতো না। তীব্র দাহ্য হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিলে এক নিরপেক্ষ সংসার হয়েছিল বলেই পানির এই স্থিতিশীলতা। খুব সহজে এই স্থিতিশীলতার পরিবর্তন কেউ আনতে পারে না।

এক কথায়, পানির প্রতিটি গুণই একেকটি মহৎ গুণ, যা রপ্ত করা সহজ নয়। এগুলো রপ্ত করতে চাই তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর অটুট মনোভাব। তবে এই কাজে সফল হওয়া গেলে জীবন সার্থক।

Md. Siddiq Hasan অ্যাভাটার

লিখেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।